০৯:৪৪ এম
প্রায় এক সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা এবং পাহাড়ি ঢলের পরে বান্দরবানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করতে লাগিয়েছে। পানি কমতে থাকায় মানুষ তাদের আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। যদিও জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে, তবে বাড়িতে ফিরে অনেকেই কেবল কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপের সম্মুখীন হচ্ছেন।
টানা কয়েক দিন পানির নিচে থাকার কারণে বসতঘর, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, খাদ্যসামগ্রী এবং গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে পরিবারের লোকদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, কয়েক দিন কর্মহীন থাকার ফলে দিনমজুর, রিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের মানুষেরা চরম অর্থসংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি সংসার চালানোর চাপ তাদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছে, পানি কমে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরছে। কিন্তু অনেক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি এবং গ্রামীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানান।
এদিকে, জেলার লামা-আলীকদম অভ্যন্তরীণ সড়কে যোগাযোগও সচল হয়েছে। তবে, টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে জেলার রুমা, থানচি, রোয়াংছড়ি এবং থানচি-আলীকদম ও লামা-সুয়ালক সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় পাহাড় ধসে সড়কের ওপর মাটি জমে থাকায় অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল এখনও ব্যাহত হচ্ছে। পাহাড় ধসে বেশ কিছু বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন করে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় বন্যার কারণে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগে পাহাড়ধস ও পানিতে ভেসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে সর্বোচ্চ সময়ে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছিলেন।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (অ. দা.) বুলবুল আকতার সেতু জানিয়েছেন, গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানে এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে পাহাড়ধসের ঘটনায় পাঁচজন এবং পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তিনি আরও জানান, বন্যা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা স্বাভাবিক হলেও পাহাড়ধসের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই পাহাড়ের পাদদেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার পক্ষ থেকে চাল, শুকনো খাবার, নগদ অর্থ, বিশুদ্ধ পানি, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এদিকে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস। তিনি জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা এবং জরুরি মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যয় করা হচ্ছে। একইসাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন