১২:১৮ এম
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি না চান, তাহলে সরকারের সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়েছে। জামায়াতের আমির বলেন, যখন সরকার নিজেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছে, তখন নৈতিক দিক থেকে তাদের দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে।
শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যের সময় এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা।
গতকাল বৃহস্পতিবার, এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই চার-পাঁচ মাসের মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতায় তিনি দেখছেন যে, কিছুই বদলায়নি। যারা ঘুষ খেত তারা একইভাবে ঘুষ খাওয়ার ফন্দিফিকির করছে, একইভাবে যারা আটকে দিতো ভালো একটি কাজকে, তারা আটকে দিচ্ছে। মির্জা ফখরুলের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া পাঁচ মাসে আর কোনো বদল হয়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা দেখি প্রধানমন্ত্রীর ইশারায় সব কিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন? ব্যর্থতার দায় যখন তারা নিজেরাই স্বীকার করছেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে কি না, সেটি প্রশ্ন।
তিনি বলেন, মির্জা ফখরুলের ভাষ্যমতে, একজন ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত আছেন, আর সেই একজন হচ্ছেন তারেক রহমান। বিষয়টি আমার কাছে বোধগম্য নয়। তারেক রহমান তো প্রধানমন্ত্রী। যদি তিনি দুর্নীতি না চান, তাহলে সবাই কীভাবে দুর্নীতিতে জড়ায়? আমরা তো দেখি, তার ইশারাতেই সবকিছু চলে। তাহলে তার ইশারায় কি দুর্নীতি বন্ধ হয় না?
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা আরো বলেন, শহীদদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক। সেই শ্রমিকরা আজ চাঁদাবাজির শিকার। একজন হুইপ বলেছেন, বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ চালালেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না। এই বক্তব্য সত্য হলে, তবে তা চাঁদাবাজির একটি বৈধ কাঠামো দাঁড় করানোর অংশ।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সম্মেলনে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদের সভাপতিত্বে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান এমপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ৫১ সদস্যের বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবিকে সমর্থন জানান জামায়াত আমির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন