০৬:১৪ পি.এম
খুলনার পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মধ্যে যোগাযোগের জন্য সেতুর নির্মাণ কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ফেলে উধাও হয়ে যাওয়ায় ভাঙা সাঁকো দিয়ে হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।
কপোতাক্ষ নদের ওপর শালিখা সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর শুরু হয়েছিল। এলজিইডির উদ্যোগে প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁকা-পাটকেলঘাটা সড়কে ৬৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ৬৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে ঠিকাদার ৪ কোটি ৪৫ লাখ, ৬৬ হাজার ৭২৩ টাকা তুলে নিয়েছেন। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ও যন্ত্রপাতি রাতের আঁধারে সাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তাহলে তালা উপজেলার খেশরা, শালিখা, বালিয়া, জালালপুর ও মাগুরা ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো দিয়ে পার হচ্ছেন। সাইকেল, ভ্যান, ইঞ্জিনভ্যান ও মোটরসাইকেলও এই ঝুকিপূর্ণ সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
কাটিপাড়া বাজার, বাঁকা বাজার, পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি ও সাতক্ষীরা জেলার সঙ্গে যোগাযোগের এই গুরুত্বপূর্ণ পথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ করে থাকেন।
এলজিইডি সূত্র জানায়, ঠিকাদারকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও কোন সাড়া না মেলায় ২০২৩ সালের ১০ মার্চ ২৮ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করে কাজ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস এ-জেডটি (জেভি)’ পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়।
প্রতিষ্ঠানটির এস এ-জেডটি (জেভি) জিয়াউল হাসান টিটুর বক্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল নাম্বারে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, আপাতত শালিখা ব্রিজের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমরা বারবার কার্যাদেশটি বাতিলের জন্য জেলা অফিসে সুপারিশ করেছি। কাজটি বাতিল হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে নতুন করে কাজ শুরু করা হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এই সেতুর কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদার পালিয়ে গেলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তির শেষ কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন