ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনার ঘটনায়, যা বললেন আবদুল হান্নান মাসউদ


মাঝনদী থেকে ফেরি ফিরিয়ে আনার ঘটনায়, যা বললেন আবদুল হান্নান মাসউদ

নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া যাত্রী ও মালবাহী ফেরি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে চলাচলকারী ফেরি ‘মহানন্দা’য় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ফেরিটির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম।

অভিযোগ উঠেছে, সংসদ সদস্যকে বহন করতেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ছেড়ে যাওয়া ফেরি ‘মহানন্দা’ মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল সাড়ে ৩টায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রী ও মালবাহী যানবাহন নিয়ে চেয়ারম্যানঘাট থেকে নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি ‘মহানন্দা’। প্রায় ২৩ মিনিট চলার পর হঠাৎ ফেরিটি মাঝনদী থেকে ঘুরে আবার চেয়ারম্যানঘাটে ফিরে আসে। পরে সেখানে অপেক্ষমাণ সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে ফেরিতে ওঠেন। এরপর ফেরিটি পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

ঘাট ইজারাদারের প্রতিনিধি জহির বলেন, ফেরি ছাড়ার আগে সময় নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। পরে নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যায়। কিন্তু প্রায় ২৩ মিনিট পর আবার ঘাটে ফিরে আসে। পরে জানতে পারি, এমপি হান্নান মাসউদকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফেরিটি ফিরেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, ফেরি মাঝনদী থেকে হঠাৎ ফিরে আসায় তারা বিস্মিত হয়ে যান। পরে তারা দেখতে পান, এমপি ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন ফেরিতে উঠছেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত তাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে সময়ও নষ্ট হয়েছে। একজন ভিআইপির জন্য শত শত যাত্রীকে অপেক্ষা করানো কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

ঘটনার পর রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। তিনি বলেন, সরকারি কাজের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যানঘাটে পৌঁছানোর সময় ফেরিটি প্রায় দুই মিনিট আগে ছেড়ে যায়। তবে তখনও ফেরিটি ঘাট এলাকা থেকে খুব বেশি দূরে যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা ফেরিটিকে ঘাটে ফিরিয়ে এনে তাকে উঠিয়ে নেয়।

আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা

তিনি আরও বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরি ছাড়া অন্য সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় বিকল্প কোনো যাতায়াতের সুযোগ ছিল না। এ অবস্থায় ফেরি কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে।

এমপি দাবি করেন, একটি মহল ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এমপি আবদুল হান্নান মাসউদ আগেই ফেরির মাস্টারকে ফোন দিয়ে তার আসার বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে ফেরির পূর্ববর্তী মাস্টার সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হওয়ায় নতুন মাস্টারের মোবাইল নম্বর এমপির কাছে ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়েই ফেরি ঘাট ছেড়ে যায়। ঘাট ছাড়ার কিছুক্ষণ পর এমপি ঘাটে পৌঁছান। ওই সময় তিনি ঘটনার স্থানে ছিলেন। এমপির অনুরোধে ঘাট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে ফেরির মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে এনে এমপিকে ওঠার ব্যবস্থা করেন।

সাজ্জাদুল ইসলাম আরও বলেন, রোগী, অ্যাম্বুলেন্স ও ভিআইপিদের ক্ষেত্রে কিছু নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরবর্তীতে আর কোনো নৌযান চলাচল করছিল না।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পরিত্যক্ত গোডাউনে আগুন, ৫ লাখ টাকার সম্পদ উদ্ধার

অন্যদিকে ফেরির মাস্টার নুরুল আমীন বলেন, ফেরি ছাড়ার পর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে জানতে পারি, ঘাটে এমপি এসেছেন। এরপর ফেরি ঘুরিয়ে তাকে নিয়ে পুনরায় নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হই।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী যাত্রা শুরু করা একটি ফেরিকে মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে আনা যাত্রীসেবার নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া, বিকল্প নৌযান না থাকা এবং বিদ্যমান প্রটোকল বিবেচনায় ফেরিটি ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের মামলায় সাবেক বাখরাবাদ কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


দুদকের মামলায় সাবেক বাখরাবাদ কর্মকর্তার ৮ বছরের কারাদণ্ড

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেডের সাবেক বিক্রয় সহকারী খালেদ সাইফউল্লাহ টিপুকে ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ টাকারও বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্তের করা হয়।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত সাইফউল্লাহ ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মৃত আবুল হোসেন কানুনগোর ছেলে এবং বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড কুমিল্লার গৌরীপুর শাখার সাবেক বিক্রয় সহকারী ছিলেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ফেনী সদর থানার ২০১১ সালের একটি দুর্নীতি মামলায় আসামি খালেদ সাইফুল্লাহ টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় ৩ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় ৫ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। এর ফলে, উভয় দণ্ড মিলিয়ে তাকে মোট ৮ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯০ পয়সা মূল্যের সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, খালেদ সাইফুল্লাহ টিপু ২০০০ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে ২০০৪ সালের ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড কুমিল্লার গৌরীপুর কার্যালয়ে বিক্রয় সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তিনি ১৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭১৮ টাকায় ৫১৯ দশমিক ৩৭ শতক জমি ক্রয় করেন এবং একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণে ৩৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৯১ টাকা ব্যয় দেখান। তবে প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে ভবনটির প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় ৬১ লাখ ৭ হাজার ৯৯ টাকা ৫২ পয়সা পাওয়া যায়। এছাড়া সোনাগাজীতে একটি মার্কেট নির্মাণের ব্যয় সম্পর্কেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ভবন ও মার্কেট নির্মাণ ব্যয়ের হিসাবের মাধ্যমে গোপনীয়তার মাধ্যমে তিনি মোট ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৬ টাকা ৯৪ পয়সা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।

মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মশিউর রহমান। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের নোয়াখালীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জহির উদ্দিন। তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন দুদকের নোয়াখালী কোর্ট ইন্সপেক্টর মো.ইদ্রিছ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পানির মধ্যে বন্দী, দুটি নারী হলে বিদ্যুতের অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


টানা বৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পানির মধ্যে বন্দী, দুটি নারী হলে বিদ্যুতের অভাব

টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি, দুইটি নারী হলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সামনে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। সকাল থেকে দুটো হলে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সহ-সভাপতি তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা গণমাধ্যমকে বলেন, "সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলের চার্জও শেষের দিকে। আরও কিছু ঘণ্টা বৃষ্টি হলে নিচতলার কক্ষগুলোতেও পানি ঢুকে যেতে পারে।"

হলটির শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান নদী গণমাধ্যমকে জানান, জলাবদ্ধতার কারণে হলের দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। খাবারের সংকটও দেখা দিয়েছে। হলের সামনে কোমরসমান পানি থাকায় বাইরে বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, উপাচার্য চত্বর, গণিত ভবন, কার্জন হল ও পলাশী এলাকাতেও পানি জমে রয়েছে।

অন্যদিকে, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শহীদুল্লাহ হলের নিচতলার কক্ষগুলোর বারান্দায়ও পানি উঠে গেছে।

হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জুনায়েদ আবরার গণমাধ্যমকে বলেন, "হলটির মাঠে বুকসমান পানি জমেছে। আরও কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলে নিচতলার কক্ষগুলোতে পানি প্রবেশ করতে পারে। তবে ক্যান্টিন চালু থাকলেও ভবনের ভেতরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।"

টানা বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তাঁরা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জরুরি পরিস্থিতির কারণে ১১টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


জরুরি পরিস্থিতির কারণে ১১টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন

টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বন্যার কারণে ১১টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এই ১১ জেলায় বিজিবি উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করবে বলে জানা যায়।

রোববার (১২ জুলাই) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এই জেলাগুলো হলো- কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারী বর্ষণের ফলে, পাহাড়ি ঢল, বন্যা এবং ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার করা হবে। নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনার কাজ করছে বিজিবি। এর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এছাড়া, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য উপরে পড়া গাছ এবং ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বিজিবি।

নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতুর নিরাপত্তার জন্য জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবি খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রদান বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


বিজিবি খাবার ও চিকিৎসাসেবা প্রদান বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে

টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে যে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তাতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম বিপদে পড়ে গেছেন। জনজীবনে এ সংকটের মধ্যে, ক্ষতিগ্রস্ত এবং পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি অগ্রসর হয়েছে। উপজেলার ৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত প্রায় ৬ শতাধিক মানুষের কাছে রান্না করা উন্নতমানের খাবার এবং সুপেয় পানি বিতরণ করেছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি), যা একটি মানবিক পদক্ষেপ।

রোববার (১২ জুলাই), জোন কমান্ডারের নেতৃত্বে কার্যক্রম পরিচালিত হয় বাঘাইছড়ি উপজেলার বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা, আয়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে।

এ সময়, বিজিবি সদস্যরা সুশৃঙ্খলভাবে নারী, শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রায় ৬ শতাধিক মানুষের মাঝে উন্নতমানের রান্না করা খাবার ও সুপেয় পানি বিতরণ করেন। খাদ্য বিতরণের পাশাপাশি, আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর দুর্গত মানুষদের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার পানিবাহিত রোগ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি) জোন কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, "বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি যেকোনো দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের এই মানবিক সহায়তা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে আমাদের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

এদিকে, খাদ্য সহায়তার সাথে বন্যাদুর্গতদের চিকিৎসাসেবা তুলে ধরতে মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। বিজিবির মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহার নেতৃত্বে পরিচালিত এই ক্যাম্পে আড়াইশ রোগীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়।

এই দুর্যোগের সময়, বিজিবির এমন তাৎক্ষণিক ও মানবিক উদ্যোগকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%