ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিলুপ্তির পথে গাছ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশেষ কর্মসূচি


বিলুপ্তির পথে গাছ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক দলের বিশেষ কর্মসূচি

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঢাকার ধামরাই পৌরসভায় মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এক হাজার গাছের চারা রোপণ করেছে ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার (৪ জুলাই) দিনব্যাপী ধামরাই পৌসভার কালিয়াগাড় এবং পাঠানটোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাজমুল হাসান অভির নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

এ সময় বজ্রপাত নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশবান্ধব তালগাছসহ বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ এবং ওষুধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে জাতীয় প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেটিকে বেগবান করতেই এই সবুজায়ন উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। তারা কেবল চারা রোপণ করেই ক্ষান্ত হবেন না, বরং প্রতিটি চারা গাছ যেন সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য নিয়মিত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণেরও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে ধামরাইয়ের পাশাপাশি ঢাকা জেলার প্রতিটি এলাকায় এই পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বেগবান করতে এবং ধামরাইকে সবুজ করতেই আমাদের এ উদ্যোগ। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ প্রভাব আমরা দেখছি, তা থেকে বাঁচতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। রোপণ করা এই এক হাজার চারার প্রতিটি যেন টিকে থাকে, সেজন্য আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা নিয়মিত পরিচর্যা করবে। পুরো ঢাকা জেলাজুড়ে আমাদের এই সবুজায়ন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় প্রশাসনের তৎপরতা: বিভাগীয় কমিশনার

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আয়েশা আক্তার ডলি, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ মিয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাশেদুল ইসলাম রাজু এবং ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন রিজভী প্রমুখ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চকবাজার খাজা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৪৮ পি.এম


চকবাজার খাজা মার্কেটের আগুন নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর চকবাজারের খাজা মার্কেটে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আজ শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে চকবাজারের আশিক টাওয়ার সংলগ্ন খাজা মার্কেটের বহুতল ভবনে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বিকেল ৩টা ১৪ মিনিটের দিকে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটে তারা প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই পাঁচ তলা ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত একটি দোকান থেকে হঠাৎ করেই ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে লালবাগ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরবর্তীতে সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওয়ানা হয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতের আঁধারে ধ্বংস হলো প্রতিবন্ধী হাফেজ শরীফের স্বপ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


রাতের আঁধারে ধ্বংস হলো প্রতিবন্ধী হাফেজ শরীফের স্বপ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে রাতের অন্ধকারে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির কলাবাগান কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।

এভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, জীবনযাপনের একমাত্র অবলম্বন হয়ে ওঠা বাগানটি নিয়ে ভুক্তভোগী হাফেজ শরীফ ভূঁইয়া দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া পূর্বপাড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগী হাফেজ শরীফ ভূঁইয়া জানান, এর আগেও কয়েক দফায় তার বাগানে হামলা চালানো হয়েছে। প্রথমে ৭০টি, পরে ১৮০টি এবং সর্বশেষ আরও ২৪০টি কলাগাছ দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে। সব মিলিয়ে তার ৪৯০টি ফলনশীল কলাগাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি ২০টি লিচুর চারা এবং ১৫টি আমের চারাও কেটে ফেলা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক কষ্ট করে গড়ে তোলা এই বাগানটি ছিল তার পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। বারবার গাছ কেটে দেওয়ায় তিনি এখন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে, যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলেন, একজন প্রতিবন্ধী মানুষের জীবিকার ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তারা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে যদি লিখিত অভিযোগ আসে, তাহলে ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এনসিপির জুলাই পদযাত্রা হবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায়: সারজিস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


এনসিপির জুলাই পদযাত্রা হবে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভায়: সারজিস

এনসিপি আগামী সেমাবার (৬ জুলাই) থেকে জুলাই পদযাত্রা শুরু করার কথা জানিয়ে দলের উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, এবারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষা।

শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে দেশব্যাপী পদযাত্রা নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম আরো জানান, ২০২৫ সালেও জুলাই পদযাত্রা আমরা করেছি। এবারে আমরা গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার উদ্দেশ্যে জুলাই পদযাত্রার আয়োজন করতে যাচ্ছি। ৬৪ জেলার ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা ভিত্তিক পদযাত্রা, সব স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি ও কনসার্টও আয়োজন করা হবে।

তিনি বলেন, যেসব ১০০ উপজেলা এবং পৌরসভায় স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া হবে, সেই জায়গাগুলোতে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং, সিন্ডিকেটের কারণে কীটনাশক ও সারের দাম বৃদ্ধি বিষয়গুলোও আমাদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি আরও জানান, রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা হবে। ১৫ জুলাই কুড়িগ্রামে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন দর্শকদের জন্য আত্মপ্রকাশ ঘটবে জাতীয় কৃষকশক্তি, যা আমাদের আরেকটি অঙ্গসংগঠন। আগামী সোমবার বিকেল ৪টায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা এবং রাত ৮টায় সাভার উপজেলায় পদযাত্রা শুরু হবে। এরপর, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়া থেকে দক্ষিণাঞ্চলের পদযাত্রা শুরু হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন জুলাই শহীদদের স্বজনেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন জুলাই শহীদদের স্বজনেরা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানোর ফলে মা-মেয়েদের কান্না, বাবা-ব্যথায়, ভাইয়ের আহাজারি এবং আহত যোদ্ধাদের দুঃখ আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রকে ভারী করে তুলেছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মুখে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রাণপণ কাঙ্ক্ষित প্রতিটি হত্যার বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এই সম্মেলন কেবল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পতনের ২ বছর পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনটি দেশের নানা প্রান্ত থেকে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাজির হয়েছে, যারা তাদের কষ্ট, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রত্যাশার বর্ণনা তুলে ধরেছেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো মিলনায়তন কান্না এবং দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে।

শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠস্বর বলেন, ‘জুলাই এলেই চোখের পানির বাঁধ ভেঙে যায়। ৫ আগস্ট আমার ছেলে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশের দ্বারা। আমি একজন হতভাগা বাবা হিসেবে এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু সরকারের কাছে দাবি, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। সরকার এখন জুলাই যোদ্ধাদের যারা হাত-পা হারিয়েছে, তাদের সহায়তা করুক। তারা যেন কষ্টে না থাকে।’

আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় অনেকেই শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে সরকার দাঁড়াতে হবে। আমি চাই আমার ভাই হত্যার দ্রুত বিচার হোক। পাশাপাশি আমি দেশজুড়ে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।’

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমি অসহায় অবস্থায় এমন কোনো দরজায় গণিনি যেখানে যাইনি, তবে সহায়তা পাইনি। কিন্তু ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রত্যেকটি সদস্য আমাদের পাশে ছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছিলেন, সহায়তা করেছিলেন। এখন বিএনপি সরকারের কাছে একটাই দাবি- সকল জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই। আমি যেভাবে বিএনপির কাছে সহায়তা পেয়েছি, অন্য জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সহায়তা পাক। আমার সন্তানকে তো আমি ফেরত পাব না, তবে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেছেন, ‘আমার ছেলে ৪ আগস্ট মিরপুরে মারা যায়। দুই বছর পার হলেও অন্তবর্তী সরকার বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু কিছুই ঘটেনি। তখন আমাদের আশা ছিল যে, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, ক্ষমতায় আসবেন এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার করবেন। আমরা আশা রাখি, তিনি আমাদের চোখের পানির মূল্য দেবেন।’

দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, ‘গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দেশটাকে ভালো রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে থাকুন। শহীদ পরিবার যদি চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায়; দুইটা পা হারিয়েছি, কিন্তু দুঃখ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখতে পারি।’

আহত julho যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘আমি একজন আহত julho যোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আমি গুলিবিদ্ধ হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, কিন্তু হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসা পাইনি। প্রথমে আমার পরিবারকে বলা হয়েছিল আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছি। এরপর থেকে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে যান, পরে মারা যান। আমরা শুধু জুলাই যোদ্ধা নই, গত ১৭ বছরের যোদ্ধা। আমি সকল জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

আউটস্ট জুলাই যোদ্ধা সুজন মোল্লা বলেন, ‘লন্ডন থেকে তারেক রহমান একদফার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এই জন্য আন্দোলন করেছিলাম। এই একদফা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জুলাই শহীদ পরিবার থেকে শুরু করে দেশের মানুষ নিরাপদে বাস করছে। তবে আমাদের আক্ষেপ থেকে গেছে। শহীদ যোদ্ধাদের হত্যা মূল্যায়নে বর্তমানে বিচার এখনও হয়নি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে, তিনি চাইলেই দ্রুত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

আহত আলামিন জানান, ‘আমার একটা হাত নেই, মাঝে মাঝে ব্যথায় কাঁপতে থাকে। চিকিৎসা করতে পারি না। আমার মতো আরও কত শত যোদ্ধা এমন হাত-পা হারিয়ে আছে তা বোঝা যায় না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাবো, আমার মতো হাত-পা হারানো যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’

জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বিশেষ কোন সহায়তা পাইনি।’

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চের ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিন হোক সবার অনুপ্রেরণা; যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। তখন শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত julho যোদ্ধা আল মিরাজ এবং julho যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রী থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত অন্য পরিবারগুলোর কাছেও স্মারক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিতে ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলার সর্বত্র অভূতপূর্ব গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।

সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। সূত্র বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%