ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন জুলাই শহীদদের স্বজনেরা


প্রধানমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে আবেগে ভেঙে পড়লেন জুলাই শহীদদের স্বজনেরা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সন্তান হারানোর ফলে মা-মেয়েদের কান্না, বাবা-ব্যথায়, ভাইয়ের আহাজারি এবং আহত যোদ্ধাদের দুঃখ আজ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রকে ভারী করে তুলেছে।

শনিবার (০৪ জুলাই) জুলাই জাতীয় সম্মেলনে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মুখে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা প্রাণপণ কাঙ্ক্ষित প্রতিটি হত্যার বিচার, আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। এই সম্মেলন কেবল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পতনের ২ বছর পরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি এবং আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনটি দেশের নানা প্রান্ত থেকে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হাজির হয়েছে, যারা তাদের কষ্ট, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং প্রত্যাশার বর্ণনা তুলে ধরেছেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো মিলনায়তন কান্না এবং দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠস্বর বলেন, ‘জুলাই এলেই চোখের পানির বাঁধ ভেঙে যায়। ৫ আগস্ট আমার ছেলে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশের দ্বারা। আমি একজন হতভাগা বাবা হিসেবে এই অন্যায়ের বিচার চাই, প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না। কিন্তু সরকারের কাছে দাবি, যেন আর কোনো বাবা-মায়ের কোল খালি না হয়। সরকার এখন জুলাই যোদ্ধাদের যারা হাত-পা হারিয়েছে, তাদের সহায়তা করুক। তারা যেন কষ্টে না থাকে।’

আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ভাই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় অনেকেই শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেক পরিবার একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তাদের পাশে সরকার দাঁড়াতে হবে। আমি চাই আমার ভাই হত্যার দ্রুত বিচার হোক। পাশাপাশি আমি দেশজুড়ে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছি।’

শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, ‘আমার বড় ছেলে জাহিদ মারা যাওয়ার পরে আমার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়ে। আমি অসহায় অবস্থায় এমন কোনো দরজায় গণিনি যেখানে যাইনি, তবে সহায়তা পাইনি। কিন্তু ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রত্যেকটি সদস্য আমাদের পাশে ছিলেন।’

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডন থেকে আমাদের খোঁজ নিয়েছিলেন, সহায়তা করেছিলেন। এখন বিএনপি সরকারের কাছে একটাই দাবি- সকল জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার চাই। আমি যেভাবে বিএনপির কাছে সহায়তা পেয়েছি, অন্য জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সহায়তা পাক। আমার সন্তানকে তো আমি ফেরত পাব না, তবে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’

শহীদ আলভীর বাবা আবুল হাসান বলেছেন, ‘আমার ছেলে ৪ আগস্ট মিরপুরে মারা যায়। দুই বছর পার হলেও অন্তবর্তী সরকার বিচারের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিচারের জন্য রাস্তায় আন্দোলন করেছি কিন্তু কিছুই ঘটেনি। তখন আমাদের আশা ছিল যে, তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, ক্ষমতায় আসবেন এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার করবেন। আমরা আশা রাখি, তিনি আমাদের চোখের পানির মূল্য দেবেন।’

দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু বলেন, ‘গত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দেশটাকে ভালো রাখতে হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে থাকুন। শহীদ পরিবার যদি চান তবে তারেক রহমানকে সহায়তা করুন। এই দেশ তার কাছেই নিরাপদ। আজকে বুকটা ভরে যায়; দুইটা পা হারিয়েছি, কিন্তু দুঃখ নেই, তবে জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখতে পারি।’

আহত julho যোদ্ধা মিল্লাত হোসেন বলেন, ‘আমি একজন আহত julho যোদ্ধা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের দাবিতে নয়াপল্টন থেকে মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আমি গুলিবিদ্ধ হই। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়, কিন্তু হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসা পাইনি। প্রথমে আমার পরিবারকে বলা হয়েছিল আমি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছি। এরপর থেকে আমার বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে যান, পরে মারা যান। আমরা শুধু জুলাই যোদ্ধা নই, গত ১৭ বছরের যোদ্ধা। আমি সকল জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।’

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

আউটস্ট জুলাই যোদ্ধা সুজন মোল্লা বলেন, ‘লন্ডন থেকে তারেক রহমান একদফার ঘোষনা দিয়েছিলেন। এই জন্য আন্দোলন করেছিলাম। এই একদফা বাস্তবায়িত হয়েছে বলেই স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। জুলাই শহীদ পরিবার থেকে শুরু করে দেশের মানুষ নিরাপদে বাস করছে। তবে আমাদের আক্ষেপ থেকে গেছে। শহীদ যোদ্ধাদের হত্যা মূল্যায়নে বর্তমানে বিচার এখনও হয়নি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে, তিনি চাইলেই দ্রুত জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে পারবেন। আমরা অপেক্ষায় আছি।’

আহত আলামিন জানান, ‘আমার একটা হাত নেই, মাঝে মাঝে ব্যথায় কাঁপতে থাকে। চিকিৎসা করতে পারি না। আমার মতো আরও কত শত যোদ্ধা এমন হাত-পা হারিয়ে আছে তা বোঝা যায় না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাবো, আমার মতো হাত-পা হারানো যোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।’

জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘শুধুমাত্র জাতীয়তাবাদী দলের সমর্থক হওয়ার কারণে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বিশেষ কোন সহায়তা পাইনি।’

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। মঞ্চের ব্যানারে লেখা হয়েছে, ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিন হোক সবার অনুপ্রেরণা; যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জুলাই আন্দোলনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ তুলে দেন। তখন শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুল রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আহত julho যোদ্ধা আল মিরাজ এবং julho যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রী থেকে স্মারক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত অন্য পরিবারগুলোর কাছেও স্মারক পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও একটি স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে সরকারের মন্ত্রী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিতে ছিলেন।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

২০২৪ সালের জুলাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলার সর্বত্র অভূতপূর্ব গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তা সরকারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন।

সরকারের প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৪। কিন্তু জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। সূত্র বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই সময়ে নতুন করে ১৩৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২৩ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১ জন এবং রাজশাহী বিভাগে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৯৭ জন। এর মধ্যে ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ শতাংশ নারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা মোট ১৯ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালবাহী ট্রলি চালিয়ে বিয়েবাড়িতে যাচ্ছিল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৩ চালকের মৃত্যু ঘটেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০১ পি.এম


মালবাহী ট্রলি চালিয়ে বিয়েবাড়িতে যাচ্ছিল  নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ১৩ চালকের মৃত্যু ঘটেছে

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মালবাহী ট্রলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে মিনহাজ (১৩) নামের এক কিশোর চালকের মৃত্যু ঘটেছে। আরও জানা গেছে, এ ঘটনায় ট্রলির সহকারী সাইম (১৪) আহত অবস্থায় রয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার সময় উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নয়াহাট বাজার সংলগ্ন কাশেম চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায়।

নিহত মিনহাজ উক্ত এলাকার মনসুরের পুত্র। আহত সাইম একই ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামের দারগ আলী তালুকদার বাড়ির ইয়াসিনের ছেলেও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যের দিকে মিনহাজ এবং সাইম নয়াহাট বাজার থেকে একটি ট্রলিতে ডেকোরেশনের মালামাল নিয়ে পাশের কাশেম চেয়ারম্যান বাড়ির একটি বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রওনা দেয়। পথে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে যায়। এতে দুই কিশোরই আহত হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনহাজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত সাইমকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়িতে পাঠানো হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুমা আকতার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "ডেকোরেশনের মালামাল নিয়ে বিয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ট্রলিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে কিশোর চালকের মৃত্যু হয়েছে"।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে"।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৬ সালের পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, জামালপুরে বিপাকে ১০০ পরীক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৫ পি.এম


২০২৬ সালের পরীক্ষায় ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র, জামালপুরে বিপাকে ১০০ পরীক্ষার্থী

জামালপুরে ২০২৫ সালের সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন ২০২৬ সালের এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার ১০০ জন পরীক্ষার্থী। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ কেন্দ্রের ৪২০২ নম্বর কক্ষে বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীরা সকলেই সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থী তিলা জামালি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'পরীক্ষা দেওয়া শেষে আমি দেখতে পারলাম যে আমার প্রশ্নের ওপরে '২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী' লেখা। তার মানে এই প্রশ্ন আমাদের না। পরে অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় কলেজ থেকে। আমি ২ বছর ধরে এই ৩ ঘণ্টার জন্য প্রিপারেশন নিয়েছি। তাদের একটি ভুলের কারণে যে আমার এ-প্লাস কেটে যাবে না, এটার নিশ্চয়তা কি?'

 

নুসরাত জাহান নামে আরেক পরীক্ষার্থী আক্ষেপ করে বলেন, 'সারা বাংলাদেশ একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন। আমরা ১০০ জন অন্য একটি প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিলাম। এখন আমার পরীক্ষা কেমন হয়েছে সেটি আর বিষয় না। আমরা এখন পাস করবো নাকি ফেল করবো সেটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। পাস করলেও এ-প্লাস আসবে কিনা সেটি জানি না।'

 

তবে এসব বিষয়ে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ মীর শওকত আলম মীর বলেন, 'আমাদের কাছে যে প্রশ্নপত্র আসে, সেগুলোতে ২০টি প্রশ্নপত্রে একটি বান্ডেল হয়। ৪২০২ নম্বর কক্ষের জন্য যে ৫টি বান্ডেল খোলা হয়, সেসবের প্রতিটি বান্ডেলের ওপরে '২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র' লেখা ছিলো। কিন্তু ভেতরে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ছিলো। পরীক্ষা শুরুর আগে বিষয়টি দেখার সুযোগ না থাকায় শিক্ষকেরা বান্ডেল খুলে পরীক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন বিতরণ করেন। পরীক্ষা শেষে জানা যায় যে, যারা মূলত অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিচ্ছেন তাদের জন্য এই প্রশ্ন ছিল।'

 

 

মীর শওকত আলম মীর আরো বলেন, 'বিষয়টি জানাজানির পর আমরা বোর্ডে যোগাযোগ করি। বোর্ড থেকে বলা হয়েছে যে, সেই ১০০ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র আলাদাভাবে পাঠাতে। তাদের উত্তরপত্রগুলো নমনীয়ভাবে এবং ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী দেখা হবে।'

 

উল্লেখ্য, সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের কেন্দ্রটিতে বাংলা ২য় পত্রে অনিয়মিত ও মানোন্নয়নের জন্য পরীক্ষা দিয়েছেন ৬৯ জন। এছাড়াও সব মিলিয়ে এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন নয় শতাধিক পরীক্ষার্থী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিক্ষুক সেজে বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে কুপিয়ে লুটের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:০৭ পি.এম


ভিক্ষুক সেজে বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে কুপিয়ে লুটের চেষ্টা

বরিশালে ভিক্ষুক সেজে বিধবা বৃদ্ধার ঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেছে এক মা ও তার ছেলে। তাদের চেষ্টা ছিল সর্বস্ব লুটে নেওয়ার। এতে বৃদ্ধাকে বাধা দেওয়ায় ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এই ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের মক্ররোম প্রতাপ গ্রামে। ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে আটক করেছে।

আটক মা ও ছেলে হলেন বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের ইচাগুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রুমা বেগম এবং তার ছেলে শাকিল। অপরদিকে আহত বৃদ্ধা সাফিয়া বেগম (৭০) একই ইউনিয়নের মক্ররোম প্রতাপ গ্রামের মৃত ফুল শরিফের স্ত্রী।

পুলিশ এবং ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাফিয়া বেগমের একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। এজন্য তিনি বাড়িতে একা থাকতেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় ভিক্ষুকের বেশে রুমা বেগম ও তার ছেলে শাকিল সাফিয়ার বাড়িতে এসে রাতের জন্য আশ্রয় চান। সরল বিশ্বাসে বৃদ্ধা সাফিয়া তাদের নিজের ঘরে থাকার অনুমতি দেন।

কিন্তু মধ্যরাতে মা-ছেলে মিলে সাফিয়ার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাফিয়ার চিৎকার শুনে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালানোর আগে ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে তার পেটে আঘাত করে। ওই রাতেই বৃদ্ধাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ছেলে মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, 'ফুফু বাড়িতে একা থাকেন। এই সুযোগটাই নিয়েছে ওই অপরাধীরা। তারা যে পরিকল্পিতভাবে ভিক্ষুকের বেশে ফুফুর সরলতার সুযোগ নিয়ে বাড়িতে ঢুকেছে, তা পরিষ্কার।'

অন্যদিকে, ভুক্তভোগীর আরেক ভাইয়ের ছেলে স্বপন জানান, তার ফুফু এখন ঢাকায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। তিনি মা-ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, 'ঘটনার পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার মধ্যরাতে চরমোনাই এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মা ও ছেলেকে আটক করা যায়।'

ওসি আরও জানান, 'এসব ঘটনার জন্য ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ভাই মো. আশরাফ আলী সিকদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় আটক দুই জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের শনিবার বিকেলে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%