০১:১২ পি.এম
ঢাকা, ৫ জুলাই, ২০২৬ : ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। সরকারি সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৫৪ জনে।
গত ২৪ জুনের ওই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শুক্রবার থেকে মৃতের সংখ্যা ৩০০-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে এবং অনেকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।
এখনও ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশ করেনি। জাতিসংঘের হিসেবে, ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ওই দুই ভূমিকম্পের পর প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
দেশটির রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখানে বহু আবাসিক ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।
এই দুই ভূমিকম্প মাত্র ৩৮ সেকেন্ড ব্যবধানে আঘাত হানে। ঘটনার ১০ দিন পর এখন উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খোঁজার কাজ ধীরে ধীরে গুটিয়ে নিচ্ছেন, যদিও কিছুদিন আগেও অল্প কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সাধারণত ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত ধরা হয়।
উদ্ধার অভিযান শেষের দিকে যাচ্ছে—এমন ইঙ্গিত হিসেবে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর সদস্যদের, তাদের অনুসন্ধানী কুকুরসহ, পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জনগণের জন্য গভীর শোকের সময়, এখানে অনেক পরিবার এখনও প্রিয়জনকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা করছে। অনেক মানুষ সবকিছু হারিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ধিকারী দলগুলো ধীরে ধীরে অভিযান শেষ করছে বলে জানানো হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ফায়ার সার্ভিস দল তাদের শেষ অনুসন্ধানের পর কোনো জীবিত চিহ্ন না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত করছে। ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়ার দলগুলোও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে অনেক পরিবার প্রথম কয়েক ঘণ্টা নিজেই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করেছে। তবে সরকার বলছে, হাজার হাজার সেনা ও কর্মকর্তা উদ্ধার কাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
লা গুয়াইরায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া ভবন ভাঙার কাজ চলছে, পাশাপাশি কিছু পরিবার এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
স্বেচ্ছাসেবক ফ্রান্সিসকো সাসকিয়া বলেন, ‘আমরা এখনও কাজ করছি, এখনও মরদেহ খুঁজছি। কাজটা সহজ নয়। আমরা দুইটি মরদেহ উদ্ধার করেছি, যেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই দুই ভূমিকম্পে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। তেল রপ্তানিনির্ভর দেশটি আগে থেকেই দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।
লা গুয়াইরায় অবস্থিত মাইয়াকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এটি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে যাতে মানবিক সহায়তাবাহী ফ্লাইট অবতরণ করতে পারে, তবে বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনো বন্ধ রয়েছে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন