০৯:২৫ পি.এম
বছরের পর বছর ধরে সংস্কারহীন স্লুইসগেট, অকার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী-খালের নাব্য সংকট এবং দুর্বল বেড়িবাঁধের ফলে বারবার বন্যায় বিপর্যস্ত পেকুয়ার মানুষদের ক্ষোভের মধ্যে স্থায়ী সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি ঘোষণা করেছেন যে, স্লুইস গেটের সব ধরনের ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। সরকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, খাল-নদী পুনঃখনন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে একটি সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিনব্যাপী পেকুয়ার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের সময়, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ ও দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন স্লুইসগেট ঘুরে দেখে, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর এবং বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার পেকুয়ার মানুষকে প্রতি বছর বন্যায় দুর্ভোগে ফেলতে চায় না। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সব বেড়িবাঁধ টেকসইভাবে নির্মাণ করা হবে। সংস্কারহীন স্লুইস গেটগুলো আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন স্লুইস গেট নির্মাণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং লবণাক্ত পানির অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ রোধ করার ব্যবস্থা গৃহীত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্লুইস গেটের সব ধরনের লিজ বা ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে দখল হওয়া খাল-নদী পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার জন্য বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার কেবল ত্রাণ বিতরণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনের পাশাপাশি কৃষক, মৎস্য-চাষি, পশু পালনকারী, লবণ চাষে, ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
বারবাকিয়া ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি জানান, ত্রাণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ড বড় বিষয় নয়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।
শিলখালী ইউনিয়নে জানিয়েছেন, প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত এ এলাকার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
টৈটং ইউনিয়নে পাহাড় ধসের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
দীর্ঘদিনের দাবির মাঝে ছনুয়া-রাজাখালী সেতু নির্মাণের বিষয়ে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
দিনব্যাপী সফরে তিনি বারবাকিয়া, শিলখালী, টৈটং, মগনামা, রাজাখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এছাড়া, আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ ও গৃহস্থালি উপকরণ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিকেলে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাকবলিত জনপদ, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ এবং দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন স্লুইসগেট পরিদর্শনের কর্মসূচিতেও অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন