প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
নাটোরের লালপুরে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই সন্তানের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর পরই তাদের বাবাও গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।
মৃত দুই শিশু হলো- তুহিন (৮) এবং তার ছোট ভাই তুষার (৪)। তারা বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া নতুন পাড়া গ্রামের মরজেম আলীর (৩৫) সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে গত ১৩ জুলাই মরজেম আলীর স্ত্রী তুলি বেগম বাবার বাড়ি চলে যান। এরপর থেকেই মরজেম আলী তার দুই সন্তানকে একা নিয়ে বাড়িতে থাকছিলেন। ১৬ জুলাই রাতে মরজেম আলীর বড় ছেলে তুহিন কলা-চিড়া এবং মরজেম আলী ও তার ছোট ছেলে তুষার আলুভর্তা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ৩টার দিকে হঠাৎ তুহিন বমি করতে শুরু করলে তার বাবা প্রতিবেশিদের সহায়তায় তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তুহিনকে মৃত ঘোষণা করেন। সেদিন সকালে তুহিনের দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে, বড় ছেলের দাফনের দিন দুপুরে ছোট ছেলে তুষারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বমি ও অচেতনতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তাকেও দ্রুত লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তবে অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিন রাতেই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে তুষারের মৃত্যু হয়।
সকালে ছোট ছেলের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পরই বাবা মরজেম আলীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা তাকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকেও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একই পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু এবং এরপরই তাদের বাবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। ছোট ছেলে তুষারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই দুই সন্তানের মৃত্যু ঘটতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন