ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শেষের পথে চাকসুর মেয়াদ, শপথ নিলেন আকাশ দাস


শেষের পথে চাকসুর মেয়াদ, শপথ নিলেন আকাশ দাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে আলোচনায় আসেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী আকাশ দাস। তিনি নির্বাহী সদস্য পদে জয়লাভ করেন নির্বাচনে।

তবে নির্বাচনের পর ধর্ষণের জন্য নারীদের দায়ী করে ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণে তিনি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের একাংশের আপত্তির কারণে তিনি অন্যদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি।

সেই আকাশ দাসকে চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে শপথ পড়ানো হলো।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আকাশ দাসকে শপথবাক্য পাঠ করান চাকসুর সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল ফোরকান। বর্তমান চাকসুর মেয়াদ আগামী ২২ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন আকাশ দাস। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী হিসেবে তার প্রার্থিতা নির্বাচনের সময় ক্যাম্পাসে আলোচনার সৃষ্টি করে। তিনি নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন।

তবে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। ধর্ষণের একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন আকাশ। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন, ধর্ষণের জন্য নারীদেরও দায় রয়েছে।

মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা তার মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

এদিকে চাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ২৩ অক্টোবর শপথ নেন। চাকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের একাংশ তখন জানান, আকাশ দাস শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে তারা অনুষ্ঠান বয়কট করবেন। ফলে শেষ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি আকাশ।

সে সময় আকাশ দাস বলেছিলেন, "আমার জন্য যেহেতু সবার শপথ নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাই আমি অনুষ্ঠানে যাইনি। তবে আমাকে অনেকেই কটু ভাষায় কথা বলেছে, যেটা আসলে ঠিক হয়নি। এখন পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়, তাহলে আমি সেটার জবাব দেব। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারছি না।"

এরপর চাকসুর প্রায় পুরো মেয়াদই শপথ না নিয়ে কাটে তার। অবশেষে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র ১৭ দিন আগে তাকে শপথ পড়ানো হলো।

এতদিন পর এবং মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে আকাশ দাসকে কেন শপথ পড়ানো হলো এ বিষয়ে চাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, "সিদ্ধান্তটি হঠাৎ নেওয়া হয়নি। আকাশের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি চাকসুর কার্যনির্বাহী সভায় তোলা হয়।"

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

উপাচার্য বলেন, "তাকে হঠাৎ করে শপথ পড়ানো হয়নি। এতদিন তার বিরুদ্ধে তদন্তকমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি সার্বিক দিক বিবেচনা করে তার ব্যাপারে রিপোর্ট প্রদান করে। এরপর আমরা কার্যনির্বাহী সভায় জিনিসটি উপস্থাপন করি।"

কার্যনির্বাহী সভায় চাকসুর অন্য সদস্যরাও কেন আকাশকে শপথ পড়ানো হয়নি, তার ভিত্তি জানতে চেয়েছিলেন বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, "তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাকে শপথ পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।"

তদন্ত কমিটির কাছে আকাশ দাস নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন কিনা—এমন প্রশ্নে উপাচার্য বলেন, "তিনি যে দোষ করেছেন, এর প্রেক্ষিতে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তদন্ত কমিটি বলেছে, সে যেহেতু ক্ষমা চেয়েছে, তার ব্যাপারটা একটু পজিটিভলি দেখা যেতে পারে। সেই প্রেক্ষিতেই আমরা শপথ পড়িয়েছি।"

আকাশ দাসের শপথের বিষয়ে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ভিসি স্যার তাকে শপথ পড়িয়েছেন। এটি প্রশাসনিক ব্যাপার। এ ব্যাপারে ভিসি স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সঠিক তথ্য পাবেন।"

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

আকাশ দাসকে শপথ পড়ানোর বিরোধিতা করেছেন ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি বলেন, "চাকসুতে নির্বাচিত হওয়ার পরপরই ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে আলোচনায় আসেন আকাশ। বিশেষ করে ধর্ষণের জন্য নারীকে দায়ী করে পোস্ট দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করেন। আকাশ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলে অনেকেই শপথ নেবেন না বলেও তখন ঘোষণা দিয়েছিলেন।"

তৌফিকের ভাষ্য, "পরবর্তী সময়ে তদন্ত কমিটির কাছে ক্ষমা চান আকাশ। গত ফেব্রুয়ারিতে তার বিষয়ে ক্ষমার সিদ্ধান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি শপথ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত চাকসুর মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে তার শপথ হলো।"

তৌফিক বলেন, "আমি আকাশ দাসের শপথ নেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অবগত করার কথা বলেছিলাম। আইনগতভাবে সে শপথ নিতে পারলেও, চাকসুর সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার নৈতিক ভিত্তি তার নেই।"

শিবিরের ‘ইনক্লুসিভ রাজনীতি’ ও আকাশ দাসকে ছাত্রশিবিরের প্যানেলে রাখার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৌফিক। তার অভিযোগ, সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন শিক্ষার্থীকে প্যানেলে রেখে নির্বাচনের সময় নিজেদের ‘ইনক্লুসিভ রাজনীতি’ তুলে ধরতে চেয়েছিল ছাত্রশিবির।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

তৌফিক বলেন, "আকাশ দাস শিবির প্যানেলের তথাকথিত “ইনক্লুসিভ রাজনীতির” শিকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই ছেলেকে শিবির কেবল রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। চাকসু নির্বাচনের আগে তারা বোঝাতে চেয়েছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী একজন শিক্ষার্থীকেও আমরা প্যানেলে রাখতে পারি।"

আকাশ দাসের শপথ নেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন নবাব ফয়জুন্নেসা হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পারমিতা চাকমা। তিনি মেয়াদের শেষ সময়ে আকাশ দাসকে শপথ পড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি বলেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুটা দূরে থাকায় আকাশের শপথের সর্বশেষ বিষয়টি সম্পর্কে শুরুতে বিস্তারিত জানতে পারেননি। তবে চাকসুর মেয়াদ যখন প্রায় শেষ, তখন তাকে নতুন করে শপথ পড়ানোর উদ্দেশ্য কী—সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।"

পারমিতা চাকমা বলেন, "চাকসুর মেয়াদ যেখানে শেষ, সেখানে হঠাৎ করে নতুন করে শপথ পড়ানোর মানে আমি খুঁজে পাচ্ছি না। তাদের উদ্দেশ্যটা কী, সেটাই বুঝতে পারছি না।"

আরও পড়ুন: মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কার

তিনি আরও বলেন, "যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তাকে শপথ গ্রহণ থেকে দূরে রাখা হলো, পুরো চাকসুর সময়টাই সে কোনো কাজে সম্পৃক্ত ছিল না। এখন কী উদ্দেশ্যে তাকে নতুন করে শপথ পড়ানো হলো এই প্রশ্ন রাখছি।"

মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার পর আকাশ দাসের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে কথা বলতে চান উপস্থিত সাংবাদিকেরা। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আগামী ২২ অক্টোবর বর্তমান চাকসুর মেয়াদ শেষ হবে। মঙ্গলবার শপথ নেওয়ার সময় বর্তমান সংসদের মেয়াদ বাকি ছিল মাত্র ১৭ দিন। যে বিতর্কের কারণে নির্বাচিত হয়েও শুরুতে অন্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে শপথ নিতে পারেননি আকাশ দাস, চাকসুর প্রায় পুরো মেয়াদ পার হওয়ার পর শেষ ১৭ দিনের জন্য শপথ নিলেন তিনি।

আরতিভি/এসএস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার, আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


‘ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার, আজ তা বাস্তবায়ন হচ্ছে’

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন ছিল তার নির্বাচনী অঙ্গীকার। সেই দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হওয়ায়, এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজধানীবাসীর জন্য আনন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডি লেকের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ধানমন্ডি লেক ঢাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এবং ঐতিহ্যবাহী একটি জলাধার। রাজধানীর এমন কোনো নাগরিক নেই, যিনি এ লেকের নাম জানেন না। দীর্ঘদিন ধরে লেকটির উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি ধানমন্ডি লেককে আরও মনোরম ও আধুনিক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

শেখ রবিউল আলম জানান, নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, লেকের তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিপুল পরিমাণ স্লাজ অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এর মাধ্যমে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, শুধু লেকের খনন বা সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না, এটিকে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই ধানমন্ডি লেকের জন্য বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। লেকের চারপাশে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় লেকের পরিবেশ ও সৌন্দর্য উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের উপযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

লেক এলাকায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম এবং নজরুল মঞ্চ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে উন্নয়নকাজ শেষ হলে ধানমন্ডি লেক শুধু একটি জলাধার হিসেবে নয়, বরং নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। লেকের উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।

সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা থাকলে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সৌন্দর্যবর্ধন করলে হবে না, এর রক্ষণাবেক্ষণেও সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। নইলে এই সৌন্দর্যবর্ধন বেশিদিন ধরে রাখা যাবে না।’

লেকের পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশে ময়লা-আবর্জনা লেকে না ফেলার আহ্বান জানান।

শেখ রবিউল আলম বলেন, একটি লেককে সুন্দর করে তোলা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি সেই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব নাগরিকদেরও রয়েছে। নাগরিকরা সচেতন হলে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন শুধু একটি এলাকার মানুষের জন্য নয়, এটি পুরো ঢাকা শহরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় উন্মুক্ত জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে। তাই লেকটির উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভিসা প্রার্থীদের জন্য ঢাকা মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ভিসা প্রার্থীদের জন্য ঢাকা মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। দূতাবাস জানায়, ভিসা আবেদনের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সঠিকভাবে প্রদান না করা হলে আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বার্তায় এই সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যদি আপনার ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান করা না হয়, তাহলে আপনার আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ কারণে মার্কিন দূতাবাস ভিসা প্রত্যাশীদের আবেদনপত্রে চাওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে প্রদান করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি তুরস্কের বাজারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর মানে হলো, দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি।

তুরস্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক। এর পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামও দেশটিতে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মন্তব্য করেন, "তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে আসছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য এটি এখন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে সামনে এসেছে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।" উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরিখাতের বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, "নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যের প্রবেশ বাড়াতেও এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তুরস্কের শক্তিশালী শিল্প ও পরিশোধন সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কাঁচামাল সরবরাহে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের অর্গানিক তুলা ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পকে আরও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।

দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বড় পরিসরে নেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বর্তমান প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, "তুরস্কের বাজারে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।" প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মতো সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়া দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের বাড়তি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন এ প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের পথও সহজ হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য প্রায় ৭০ বছর পর আবার শুরু হলো।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বগীবিল টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানলবাহী একটি বার্জের যাত্রা উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচলমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। স্বাধীনতার পর আসাম থেকে বিদেশি বন্দরের উদ্দেশ্যে এটি প্রথম পণ্য চালান।

নামরুপে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডে উৎপাদিত মিথানল ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভারতের জাতীয় জলপথ-২ ব্যবহার করে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল নৌপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। বগীবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

এই চালানটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ বৃদ্ধি করতে ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের পথে ব্যবহারের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বগীবিল ও ধুবড়িতে সম্প্রতি শুল্ক ও অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা চালু হওয়ায় এই নৌপথে পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ডিব্রুগড়ের নদীবাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত হলো। শহরটির ঐতিহাসিক নৌবন্দর ১৯৫৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় চা পরিবহন নদীপথ থেকে রেলপথে চলে যাওয়ায় ডিব্রুগড় থেকে নিয়মিত নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বানন্দ সোনোয়াল মন্তব্য করেন, "ডিব্রুগড় ঘাটে একসময় স্টিমারের বাঁশির শব্দ শোনা যেত। প্রায় ৭০ বছর সেই শব্দ বন্ধ ছিল। এখন আবার ডিব্রুগড় থেকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে।" নদীপথকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয় সদিচ্ছার অভাবই এতদিন এই যোগাযোগব্যবস্থার বড় বাধা ছিল বলেও জানান তিনি।

‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের জাহাজটি ‘কুশল কোঁওর’ নামের টাগবোটের সাহায্যে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরে যাবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি এই যাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, "নামরুপে উৎপাদিত আসামের নিজস্ব পণ্য এখন আসামের নিজস্ব নদীপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "উত্তর-পূর্বাঞ্চল আর ভারতের প্রান্তিক অঞ্চল নয়, বরং এটি পূর্বাঞ্চলের দিকে ভারতের প্রবেশদ্বার হয়ে উঠছে।"

ডিব্রুগড়ের নদীপথ যোগাযোগ পুনরুজ্জীবনে বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টার্মিনালটি চালু হয়। পাশাপাশি শুল্ক ও অভিবাসনসংক্রান্ত অবকাঠামো এবং জলপথে পণ্য পরিবহনে প্রণোদনা কর্মসূচিও এই যোগাযোগব্যবস্থাকে সহায়তা করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নদীপথে নৌযান চলাচল হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের একটি বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ নামের নদীভ্রমণ জাহাজ বাংলাদেশ হয়ে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত যাত্রা করে।

পণ্য পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অভ্যন্তরীণ জলপথের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের জলপথ উন্নয়নে ছয় হাজার ৮০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা তৈরি এবং পান্ডু বন্দরের সঙ্গে শেষ ধাপের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ রয়েছে।

সোনোয়াল বলেন, "নদীপথে পণ্য পরিবহনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। নদীপথে প্রতি টন পণ্য পরিবহনের ফলে কম জ্বালানি ব্যবহার হয় এবং মহাসড়কে ট্রাক চলাচলও কমে।"

আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে। ডিব্রুগড় থেকে ঢাকায় এই পণ্য পরিবহন উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য আরও একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%