ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি


তুরস্কে রপ্তানি ‘এক লাফে’ দ্বিগুণ, বড় সুযোগের হাতছানি

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি তুরস্কের বাজারে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ১০ হাজার ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ।

এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এর মানে হলো, দেশের সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির তুলনায় তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

তুরস্কে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক। এর পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, অপটিক্যাল সামগ্রী এবং চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের বিভিন্ন সরঞ্জামও দেশটিতে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান মন্তব্য করেন, "তুরস্কে জীবনযাত্রার মান ও আয় বেড়ে যাওয়ায় দেশটির শ্রমিকরা ধীরে ধীরে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে সরে আসছেন। ফলে স্থানীয় উৎপাদনে এক ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সেই ঘাটতি পূরণে বিদেশি পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য এটি এখন সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে সামনে এসেছে।" তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, প্রতিযোগিতামূলক দাম ও সময়মতো সরবরাহের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এ বাজারে আরও বেশি প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পণ্যের বৈচিত্র্য ও মূল্য সংযোজনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।" উচ্চমূল্যের পোশাক, মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরিখাতের বস্ত্রের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, "নতুন বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে সরকারি ও বেসরকারি উভয় পর্যায়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।" আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠক এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও জোরদার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগও জোরদার হয়েছে। গত এপ্রিলে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে বৈঠকে বিজিএমইএ দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বস্ত্র খাতে কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট তন্তু ও কারিগরি বস্ত্র খাতে যৌথ বিনিয়োগ, তুরস্ক থেকে কাঁচামাল ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানি এবং দ্রুত পণ্য পরিবহনে তুর্কি এয়ারলাইনস ও ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরের লজিস্টিক সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্যের প্রবেশ বাড়াতেও এ ধরনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তুরস্কের শক্তিশালী শিল্প ও পরিশোধন সক্ষমতা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য কাঁচামাল সরবরাহে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে তুরস্কের অর্গানিক তুলা ও আধুনিক বস্ত্রযন্ত্র আমদানির সুযোগ বাংলাদেশের শিল্পকে আরও উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।

দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও বড় পরিসরে নেওয়ার লক্ষ্যও রয়েছে। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের বর্তমান প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার উদ্যোগের কথা জানান। পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও অনুকূল কাঠামো তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, "তুরস্কের বাজারে রপ্তানি বাড়ার এই প্রবণতা ধরে রাখতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিশ্লেষণ করে নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।" প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, তৈরি পণ্য এবং অপটিক্যাল, চিকিৎসা ও বস্ত্রশিল্পের সরঞ্জামের মতো সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়া দেশটির বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের বাড়তি সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন এ প্রবৃদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি নতুন পণ্য, বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো গেলে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ২০০ কোটি ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের পথও সহজ হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


৭০ বছর পর আসাম থেকে বাংলাদেশে নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু

ভারতের আসাম রাজ্যের ডিব্রুগড় থেকে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য প্রায় ৭০ বছর পর আবার শুরু হলো।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বগীবিল টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানলবাহী একটি বার্জের যাত্রা উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচলমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। স্বাধীনতার পর আসাম থেকে বিদেশি বন্দরের উদ্দেশ্যে এটি প্রথম পণ্য চালান।

নামরুপে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডে উৎপাদিত মিথানল ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভারতের জাতীয় জলপথ-২ ব্যবহার করে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল নৌপথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। বগীবিল থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথের দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার।

এই চালানটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সংযোগ বৃদ্ধি করতে ব্রহ্মপুত্র নদকে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের পথে ব্যবহারের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশে নিয়মিত মিথানল পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বগীবিল ও ধুবড়িতে সম্প্রতি শুল্ক ও অভিবাসনসংক্রান্ত সুবিধা চালু হওয়ায় এই নৌপথে পণ্য পরিবহন সম্ভব হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ডিব্রুগড়ের নদীবাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত হলো। শহরটির ঐতিহাসিক নৌবন্দর ১৯৫৬ সালে বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় চা পরিবহন নদীপথ থেকে রেলপথে চলে যাওয়ায় ডিব্রুগড় থেকে নিয়মিত নদীপথে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বানন্দ সোনোয়াল মন্তব্য করেন, "ডিব্রুগড় ঘাটে একসময় স্টিমারের বাঁশির শব্দ শোনা যেত। প্রায় ৭০ বছর সেই শব্দ বন্ধ ছিল। এখন আবার ডিব্রুগড় থেকে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে।" নদীপথকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয় সদিচ্ছার অভাবই এতদিন এই যোগাযোগব্যবস্থার বড় বাধা ছিল বলেও জানান তিনি।

‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের জাহাজটি ‘কুশল কোঁওর’ নামের টাগবোটের সাহায্যে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরে যাবে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভার্চুয়ালি এই যাত্রার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গণমাধ্যমকে বলেন, "নামরুপে উৎপাদিত আসামের নিজস্ব পণ্য এখন আসামের নিজস্ব নদীপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে যাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "উত্তর-পূর্বাঞ্চল আর ভারতের প্রান্তিক অঞ্চল নয়, বরং এটি পূর্বাঞ্চলের দিকে ভারতের প্রবেশদ্বার হয়ে উঠছে।"

ডিব্রুগড়ের নদীপথ যোগাযোগ পুনরুজ্জীবনে বগীবিল যাত্রী ও পণ্য টার্মিনাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে টার্মিনালটি চালু হয়। পাশাপাশি শুল্ক ও অভিবাসনসংক্রান্ত অবকাঠামো এবং জলপথে পণ্য পরিবহনে প্রণোদনা কর্মসূচিও এই যোগাযোগব্যবস্থাকে সহায়তা করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই নদীপথে নৌযান চলাচল হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাটা স্টিলের একটি বার্জ বাংলাদেশ হয়ে পান্ডুতে পৌঁছায়। ২০২৩ সালে ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ নামের নদীভ্রমণ জাহাজ বাংলাদেশ হয়ে বারাণসী থেকে ডিব্রুগড় পর্যন্ত যাত্রা করে।

পণ্য পরিবহনের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অভ্যন্তরীণ জলপথের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় জলপথে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এক কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২১ কোটি ৮০ লাখ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের জলপথ উন্নয়নে ছয় হাজার ৮০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এর মধ্যে জাতীয় জলপথ-২-এর উন্নয়ন, পান্ডুতে জাহাজ মেরামতের সুবিধা তৈরি এবং পান্ডু বন্দরের সঙ্গে শেষ ধাপের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ রয়েছে।

সোনোয়াল বলেন, "নদীপথে পণ্য পরিবহনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব রয়েছে। নদীপথে প্রতি টন পণ্য পরিবহনের ফলে কম জ্বালানি ব্যবহার হয় এবং মহাসড়কে ট্রাক চলাচলও কমে।"

আঞ্চলিক জলপথ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভারত বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করছে। ডিব্রুগড় থেকে ঢাকায় এই পণ্য পরিবহন উত্তর-পূর্ব ভারতের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর জন্য আরও একটি নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) উদ্যোগে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, শহীদ আবরার ফাহাদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর একটি স্মরণীয় উদাহরণ। তার আত্মত্যাগ থেকে আমাদের উচিত অন্যায়, নিপীড়ন ও আধিপত্যের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস গ্রহণ করা। তিনি বলেন, "আমরা এমন একটি ক্যাম্পাস চাই, যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী নিরাপদে মতপ্রকাশ করতে পারবে এবং ভিন্নমতের প্রতি সম্মান বজায় থাকবে।"

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেন বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস প্রদান করে। তিনি উল্লেখ করেন, "তার স্মৃতি নতুন প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও দেশের স্বার্থে সোচ্চার হতে অনুপ্রেরণা দেবে।"

জকসুর জিএস আব্দুল আলীম আরিফ বলেন, আবরার ফাহাদ শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি নন; তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী চেতনার প্রতীক। তার আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

দোয়া মাহফিলে শহীদ আবরার ফাহাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, কল্যাণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য দোয়া করা হয়।

এ সময় জকসুর নেতৃবৃন্দসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১ হাজার ৩৯৩

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে সারা দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১ হাজার ৩৯৩ জন রেকর্ড করা হয়েছে।

এটি চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০২ শিশুর মৃত্যু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩২ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফলে, হামে ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা মোট ১ হাজার ৩৪ জনে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। বুলেটিনে জানানো হয়েছে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে ৫৬৮ জন, রাজশাহীতে ২৭, সিলেটে ১৬৪, চট্টগ্রামে ২৭৩, বরিশালে ১২৩, ময়মনসিংহে ৮৫, খুলনায় ১১১ এবং রংপুরে ৪২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার ২৯০ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৯১০ জন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিশা সওদাগর: 'কোনো দিনই আপনার ঋণ শোধ করতে পারব না বাবা'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


মিশা সওদাগর:

ঢালিউডের খ্যাতনামা খলঅভিনেতা মিশা সওদাগর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মাধ্যমে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে একক আধিপত্য স্থাপন করেছেন। বর্তমানে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী খলঅভিনেতা হিসেবে পরিচিত। নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন তিনি।

এ অভিনেতা দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্পী ও নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি এখনো নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। বর্তমানে অভিনয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মিশা সওদাগর। নতুন সিনেমার কাজ, শুটিংসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে তাকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।

দীর্ঘ পথচলার এই সময়ে নিজের ক্যারিয়ারে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতি বরাবরই শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসছেন এ খলঅভিনেতা। এবার ঠিক তেমনই এক নির্মাতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মিশা সওদাগর।

এবার সামাজিক মাধ্যমে বরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক ছটকু আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন মিশা সওদাগর। সেই পোস্টে ছটকু আহমেদকে ‘বাবা’ সম্বোধন করে নিজের জীবনে তার অবদানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

মিশা সওদাগরের এই আবেগঘন পোস্ট পরিচালক ছটকু আহমেদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল একজন পরিচালক কিংবা অভিনেতার ছিল না। তার ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার পেছনে পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলেই মনে করেন এ খলঅভিনেতা। তাই প্রিয় এ মানুষটির জন্মদিনে নিজের দীর্ঘদিনের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার কথাই প্রকাশ করেছেন মিশা সওদাগর।

সামাজিক মাধ্যমে তার পোস্টে এ খলঅভিনেতা লিখেছেন— ‘কোনো দিনই আপনার ঋণ শোধ করতে পারব না বাবা। আমি সারাজীবন আপনার কাছে ঋণী।’ শুভ জন্মদিন জানিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন এবং আনন্দে থাকুন। শুভ জন্মদিন বাবা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ মিশা সওদাগর হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান আপনার। আপনার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%