মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৯ পি.এম
মোবাইল ফোন প্রদান না করার কারণে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হয়েছে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগের রোববার রাত ১০টার দিকে, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হলে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, অভিযোগকারী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবহারের জন্য মিনার (ছদ্মনাম) বাবা-মায়ের কাছে আবদার করে। কিন্তু মোবাইল ফোন না দেওয়ায় তার পরিবারের সঙ্গে মনোমালিন্য ঘটে। একপর্যায়ে, মারধরের অভিযোগ নিয়ে রাতের বেলায় সে একাই হাজীগঞ্জ থানায় চলে আসে। পরে থানায় পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেনের সঙ্গে শিক্ষার্থীর কথা হয়। তিনি বিষয়টি শুনে ওই শিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন।
পুলিশ পরিদর্শক জহির হোসেন বলেন, ‘শিশুটি অভিমান করে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় এসেছিল। আমরা তার সঙ্গে শান্তভাবে কথা বলেছি এবং বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছি। পরে তার বাবা-মাকেও ডেকে এনে সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলি। তাদের বুঝিয়ে বলেছি, পারিবারিক বিষয়গুলো যেন ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। পরে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, ‘ছোট একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেন শিশুর মনে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়েও তার বাবা-মাকে সতর্ক করা হয়েছে।’ পুলিশের পরামর্শ ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি সমাধানের পর ওই শিক্ষার্থীকে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসন এবং বিএসটিআই কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় এই অভিযানটি সম্পন্ন করে।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান। এ সময় বিএসটিআই কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার খাইরুল ইসলাম এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মামুনুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে শহরের চাকলাপাড়ার প্রভাতী পিওর ড্রিংকিং অ্যান্ড টয়লেট্রিজকে মোড়কজাত নিবন্ধন সনদ ছাড়া লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, লিকুইড ডিশওয়াশ এবং প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার উৎপাদনের অভিযোগে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অগ্রিবীণা সড়কের অয়ন স্টিল কর্নারকে ব্যবহৃত ডিজিটাল স্কেলের ভেরিফিকেশন সনদ না থাকার কারণে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া পোস্ট অফিস মোড়ের সোমা দধি অ্যান্ড মিষ্টিকে উৎপাদিত মিষ্টিজাতীয় পণ্যে যথাযথ উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় ১৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। মদিনা সুইটস অ্যান্ড পেস্ট্রি শপকে ফার্মেন্টেড মিল্ক, সুইটমিট ও ডেকোরেটেড কেক পণ্যে বাধ্যতামূলক মান সনদ গ্রহণ না করে আবেদনের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে পণ্যের গুণগত মান এবং ওজন-পরিমাপের সঠিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশায় মাদক সেবন এবং নিয়মিত পরিবারের ওপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে কাওছার হাবিব (২৫) নামের এক যুবককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে মাদকাসক্ত সন্তানের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন তার নিজ বাবা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পোরশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল ইসলাম।
দণ্ডপ্রাপ্ত কাওছার হাবিব পোরশা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের পুরইল গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মাদক সেবনের অপরাধ সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারায় কাওছার হাবিবকে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। নিজ সন্তান হওয়া সত্ত্বেও পিতার এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজে এক অনন্য বার্তা প্রদান করবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাওছার হাবীবের অন্যায় ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে শুধু তার পরিবার নয়, প্রতিবেশীরাও চরম অতিষ্ঠ ছিল। নিজের সন্তানকে আইনের আওতায় এনে বাবা আবুল হোসেন যে সাহসিকতা ও সচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন, তা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নাটোর জেলা শহর থেকে উত্তরবঙ্গে প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের নাটোর অংশে একাধিক স্থানে সড়ক ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে, সড়কের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে।
সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় গেলে সড়কের এই বেহাল অবস্থার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর ফলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও যাত্রীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। রাজধানী ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগের জন্য এই মহাসড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে বগুড়া, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, রাজশাহী, নওগাঁসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে।
সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম এলাকায় প্রায় ১৫টি স্থানে সড়কের কিনারায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কিছু স্থানে বালুর বস্তা ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও সড়কের পোল উল্টে পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ জানায়, ২০২১-২২ অর্থ বছরে নাটোর থেকে বগুড়া মহাসড়কের প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে সিংড়া উপজেলার শেরকোল থেকে চৌগ্রাম পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রাস্তার ফোরলেনের কাজ এ বছরই সম্পন্ন করেছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নিংগইন ও হাইটেক পার্ক এলাকায় এখনো ২টি ব্রিজের কাজ চলমান রয়েছে। কাজগুলো কয়েকটি প্যাকেজে সাজানো হয়েছে, যার মধ্যে রাস্তার দু’ধারে মাটি ফেলা, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ব্রিজ নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ এবং অনিয়মের কারণে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হওয়ার পরপরই চৌগ্রাম এলাকার কিছু স্থানে সড়কের পাশে ধস দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর ভেঙে মাটি ও পাথর সরে গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এ বিষয়ে তদন্তের পাশাপাশি সড়কের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আজহারুল ইসলাম জানান, "নাটোরে দায়িত্ব পেয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো দ্রুত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার একটি খনিতে বুলডোজার ব্যবহার করে মাটি সরানোর সময় এক খনি শ্রমিক প্রায় ৯ কেজি ওজনের একটি বিশাল সোনার পিণ্ড আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে এটি আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড হিসেবে চিহ্নিত হয়।
১৯৯৮ সালে আলাস্কার রুবি শহরের নিকটবর্তী সুইফট ক্রিক এলাকায় মাটি সরানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন খনি শ্রমিক ব্যারি ক্লে। কাজের এক পর্যায়ে বুলডোজারের সরানো মাটির স্তূপে তিনি একটি ভারী বস্তু দেখতে পান। প্রথমে সেটিকে সাধারণ পাথর মনে হলেও, পরে তিনি সেটিকে পরীক্ষা করেন।
পরিষ্কার করার পর ক্লে বুঝতে পারেন যে, এটি পাথর নয় বরং সোনা ও কোয়ার্টজের তৈরি একটি বিশাল প্রাকৃতিক পিণ্ড।
‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’ নামে পরিচিত এই সোনার পিণ্ডটির ওজন ২৯৪ দশমিক ১০ ট্রয় আউন্স, যা ২০ পাউন্ডের কিছু বেশি বা প্রায় ৯ দশমিক ১৪ কেজি। আকারে এটি একটি শিশুর মাথার সমান।
তৎকালীন হিসাবে, এটি পশ্চিম গোলার্ধে পাওয়া সোনার পিণ্ডগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম ছিল। এর চেয়ে বড় ছিল ১৯৮৯ সালে মেক্সিকোয় পাওয়া প্রায় ২৪ পাউন্ড ওজনের ‘বুট অব কর্টেজ’।
আলাস্কার ঐতিহাসিক ক্লনডাইক সোনার সন্ধানের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পিণ্ডটির নামকরণ করা হয় ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল নাগেট’। পরে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এটিকে আলাস্কায় পাওয়া সবচেয়ে বড় অক্ষত সোনার পিণ্ড হিসেবে নিশ্চিত করেন।
আবিষ্কারের পরপরই ব্যারি ক্লে সোনার পিণ্ডটি বিক্রি করেননি। এটি দুই দশকেরও বেশি সময় ব্যক্তিগত মালিকানায় ছিল।
২০২১ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্লের কাছ থেকে পিণ্ডটি সংগ্রহ করা এক বিক্রেতা সেটি যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে হেরিটেজ নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেন। অনলাইনে এক সংগ্রাহক ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে সোনার পিণ্ডটি কিনে নেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, পিণ্ডটির গুরুত্ব শুধুমাত্র এর বিপুল সোনার মূল্যে নয়, বরং এর বিরলতাতেও। এত বড় আকারের এবং ভালো অবস্থায় সংরক্ষিত প্রাকৃতিক সোনার পিণ্ড অত্যন্ত বিরল।
হেরিটেজের এক মুখপাত্র নিলামের আগে জানিয়েছিলেন, ‘আলাস্কা সেন্টেনিয়াল গোল্ড নাগেট’ অঙ্গরাজ্যটিতে পাওয়া সবচেয়ে বড় সোনার পিণ্ড। ১৯৯৮ সালে রুবির কাছে সুইফট ক্রিক এলাকায় এটি আবিষ্কার করেন ব্যারি ক্লে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ