বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৫৫ পি.এম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে একটি বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর বাদ দিয়ে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আরটিভি অনলাইনকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।
উপাচার্য জানিয়েছেন, কোডিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তিনি এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগের বিষয়ে দাবি জানাতে গেলে উপাচার্য তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘তোমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আসো। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের যে-কোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসবে, আমি সমাধান করব। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রোল লেখার নিয়ম তুলে দিয়ে কোডিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।’
পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের পরিবর্তে কোডিং সিস্টেম চালুর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইবি শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এর ফলে খাতা মূল্যায়নে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন থাকবে এবং মূল্যায়নে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর বড় বাজারে ভারতীয় ইলিশ মাছকে দেশীয় হিসেবে উচ্চমূল্যে বিক্রি করার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক এক আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বড়বাজারের মাছ বাজারে অভিযান পরিচালনা করে কর্ণফুলী ফিস নামক ওই আড়তকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় আড়তদার ভারতীয় ইলিশের নির্ধারিত মূল্য ও ক্রয় বিক্রয়ের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এ সময় মাছ বাজারের বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি দোকান মনিটরিং করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, ভারতীয় ইলিশ বিক্রি করতে হবে নির্ধারিত মূল্যে এবং আমদানি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।
অভিযানকালে সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ১৯টি আমদানিকারকের মাধ্যমে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এই আমদানিকৃত ইলিশ দেশের বাজারে ‘বরিশালের ইলিশ’ নামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে তা কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভিডিওটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৫ সেকেন্ড। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা চলছে।
তবে, ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি এবং এটি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য নেই।
ভিডিওটিতে পাভেলের মতো দেখতে একজন পুরুষকে একটি নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার অনেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সাইদুর রহমান পাভেল বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের একটি পরিচিত নাম। তিনি ভারতের জনপ্রিয় কমেডি রিয়েলিটি শো ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার সিজন ৯’-এ অংশ নিয়ে রানারআপ হন। দেশে ফিরে তিনি স্টেজ শো এবং বিভিন্ন ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
পাভেল অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন তপু খানের ‘কট বিহাইন্ড’ নাটকের মাধ্যমে। তবে তিনি কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের ‘বজরা বাজারের জাকির’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
এরপর, অমির পরিচালনায় ‘ফিমেল ১’, ‘ফিমেল ২’, ‘স্ট্যাটাস’, ‘হোটেল রিল্যাক্স’ ও ‘হাউ সুইট’-সহ বিভিন্ন নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করেছেন পাভেল।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা এবং এটি কি সম্পাদিত বা এআই-নির্মিত, সে বিষয়ে অভিনেতা পাভেলের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জরুরি বিভাগে রোগীর ড্রেসিং ও চিকিৎসা চলাকালীন হঠাৎ করে ছাদের পলেস্তারা প্লাস্টিকের সিলিং ভেদ করে নিচে মেঝেতে আছড়ে পড়ে।
এ সময় সুজাপুর প্রফেসরপাড়ার ফেরদৌস (২০) নামে এক যুবকের ক্ষতস্থানে ড্রেসিং করা হচ্ছিল এবং পাশের বেডে শিবনগর ইউনিয়নের রহিমা বেগম (৪০) পা ভাঙা অবস্থায় শুয়ে ছিলেন। আকস্মিক এই ঘটনায় বিকট শব্দ হলে রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সে সময় ঘরে অনেক রোগী ও স্বজন উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লে সবাই আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শামীমা আক্তার সুইটি জানান, জরুরি বিভাগে পর্যাপ্ত ভিড় থাকায় পলেস্তারা পড়ে অনিক (২৪), মিরপুরের আব্বাস আলী (২৬) ও পাকাপানের নরেন চন্দ্রসহ (৩৮) পাঁচজন আহত হন।
জুনিয়র মেকানিক আবুজার গিফারী বলেন, ‘ভাগ্যিস ছাদের নিচে প্লাস্টিকের সিলিং দেওয়া ছিল, তা না হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও জরুরি বিভাগের ছাদের পলেস্তারা তিনবার ধসে পড়েছিল। প্রায় তিন বছর পরপর এটি সংস্কার করা হলেও এবারসহ মোট চারবার ধসের ঘটনা ঘটল। বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ভবনটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সেবা নিতে আসা রোগী, স্বজন এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এই বিপজ্জনক পুরোনো ভবনটিকে দ্রুত পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর পরই স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এ জেড এম মোস্তাহিদুল ইসলামসহ দুই কর্মকর্তা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা স্বীকার করেন যে, ভবনটি জরুরি ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা প্রয়োজন এবং এ বিষয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাজেদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বারবার পলেস্তারা খসে পড়ার বিষয়টি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত পাশের কক্ষে জরুরি বিভাগের সেবা কার্যক্রম স্থানান্তর করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বর্তমানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে এলইডি বাল্ব ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে, এলইডি বাল্বের আলোতে বিদ্যমান নীল আলোর পরিমাণ এবং লাল ও অবলোহিত আলোর অভাব চোখের স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, এ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
লন্ডনের একদল গবেষক জানিয়েছেন, এলইডি বাল্বের আলোতে সাধারণত নীল আলোর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সূর্যের আলো এবং পুরোনো ফিলামেন্ট বাল্বের আলোতে লাল ও অবলোহিত আলোর পরিমাণ বেশি থাকে।
গবেষকদের মতে, লাল আলো শরীরের কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলইডি আলোতে এই ধরনের লাল আলোর পরিমাণ কম থাকায়, তারা আশঙ্কা করছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে চোখের রেটিনার কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
গবেষণার অংশ হিসেবে ২২ জন অংশগ্রহণকারীকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লাল ও অবলোহিত আলোর সংস্পর্শে রাখা হয়েছিল। গবেষকরা জানিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের সূক্ষ্ম রঙ শনাক্ত করার ক্ষমতায় প্রায় ২৫ শতাংশ উন্নতি দেখা গেছে।
তবে, গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই পরীক্ষা খুব অল্পসংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে এলইডি বাল্বের আলো চোখের জন্য আসলে কতটা ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরও বড় পরিসরে গবেষণার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণার ফলাফল এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে, দৈনন্দিন জীবনে আলোর ব্যবহারে সচেতন থাকা এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ