ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোবিন্দগঞ্জে বৌ-ভাতে চুরি করা গরু জবাই, অতঃপর একজন আটক


গোবিন্দগঞ্জে বৌ-ভাতে চুরি করা গরু জবাই, অতঃপর একজন আটক

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গরু চুরি করে জবাই করার অভিযোগে পুলিশ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ঘটনায় গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া রফিকুল ইসলাম বকশিচর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বকশিচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহানের সঙ্গে রুদ্রনগর গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ের বিয়ে শুক্রবার সম্পন্ন হয়। পরদিন শনিবার সোহানের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের জন্য রফিকুল ইসলাম একটি গরু জবাই করে রান্নার প্রস্তুতি নেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

এদিকে, পশ্চিম মাস্তা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি কালো রঙের ক্রস জাতের গাভী গোয়ালঘরে বেঁধে রাখেন। রাত ৩টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং গোয়ালঘরের দরজা খোলা।

এরপর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে চুরি যাওয়া গরুর সন্ধানে বের হলে বাড়ির পাশের জমিতে গরুর পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। সেই ছাপ অনুসরণ করে পার্শ্ববর্তী বকশিচর গ্রামের এক বাড়িতে গিয়ে চুরি যাওয়া গরুটি জবাই করে মাংস কাটার দৃশ্য দেখতে পান গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম।

এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শহিদুলের ভাতিজা আনারুলের মাথায় আঘাত করেন। এতে আনারুল গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় কয়েকজন অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জবাই করা গরুর মাংস, চামড়া, মাথা ও পা উদ্ধার করে। আহত আনারুলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

পরে শনিবার বিকেলে গরুর মালিক শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রফিকুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, চুরি হওয়া গরুর মাথা, মাংস ও চামড়াসহ অন্যান্য অংশ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বরের বাবা রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ছাত্রদল নেতা আল মামুনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


বিএনপির সম্মেলন থেকে ফেরার পথে ছাত্রদল নেতা আল মামুনের মৃত্যু

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিএনপির কর্মী সম্মেলন থেকে বাড়ি ফেরার সময় অসুস্থ হয়ে আল মামুন নামে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু ঘটে। নিহত আল মামুন সহনাটি ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামের আলাল উদ্দিনের পুত্র ছিলেন। তিনি সহনাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের পাছার বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে পার্শ্ববর্তী মাওহা ইউনিয়নে ভুটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বিএনপির কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভুটিয়ারকোনা যান আল মামুন। সন্ধ্যার পর সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে সহনাটি ইউনিয়নের পাছার বাজারে পৌঁছালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুনায়েদ খান পাঠান সাব্বির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএনপির কর্মী সম্মেলন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় পাছার বাজারে চায়ের দোকানে বসেছিলেন মামুন। সেখানে হঠাৎ অসুস্থবোধ করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোকের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মোফাক্কারুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই আল মামুনের মৃত্যু ঘটেছে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, আল মামুনের মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্নেলে গণধর্ষণকাণ্ডে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান মাইকেল কটলিকফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


কর্নেলে গণধর্ষণকাণ্ডে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান মাইকেল কটলিকফ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের (গণধর্ষণের) অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মাইকেল কটলিকফ মুখ খুলেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে এ ঘটনায় আরও ভালো করতে হবে এবং কীভাবে বিষয়টি সামাল দেওয়া হয়েছিল, তার জবাব খুঁজে বের করা হবে।

৩ অক্টোবর দেওয়া প্রায় আট মিনিটের ভিডিও বক্তব্যে কটলিকফ বলেন, জেন ডোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ যৌন নিপীড়ন, মানুষকে অমানবিকভাবে দেখা এবং পার্টিতে মদ ও মাদক ব্যবহারের সংস্কৃতি নিয়ে হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে জেন ডোর সঙ্গে যা ঘটেছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং এর প্রভাব কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘদিন থাকবে।

কটলিকফ স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সব উত্তর নেই। তাই বিষয়টি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আগামী সপ্তাহে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছেন কটলিকফ। বাইরের একটি আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে সামাল দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে কটলিকফ বলেন, অভিযোগের ফৌজদারি তদন্তের দায়িত্ব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয়ের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি সমর্থন জানান। বিশ্ববিদ্যালয় এই তদন্তে সহযোগিতা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত নিউইয়র্কের আইন পরিবর্তনের উদ্যোগকেও সমর্থন করেছেন কর্নেল প্রধান। বর্তমান আইনে কেউ স্বেচ্ছায় মাদক বা মদ গ্রহণ করলে শুধু সেই কারণে তাকে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার আইনগত অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয় না—এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। কটলিকফ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কী করতে পারে, কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কারভাবে জানানো হবে। আইন ও নীতিমালার সীমার মধ্যে স্বচ্ছতাও বাড়ানো হবে।

২০২৪ সালের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই শিক্ষার্থী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। এর আগে একই বছরের ১৯ অক্টোবর কর্নেলের ‘চি ফাই’ ভ্রাতৃসংঘের ভবনে তাকে কয়েকজন সদস্য যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে সেপ্টেম্বরে করা মামলায় অভিযোগ করেন জেন ডো। ওই সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জেন ডোর ছয় পৃষ্ঠার একটি বক্তব্য স্থানীয় সরকারি জজদের কাছে পাঠায়। পরে আরও কিছু প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারের তথ্য নিয়ে পুলিশ স্থানীয় জজদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেসব অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সরকারি জজ ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন আগে অভিযোগে মামলা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ২ অক্টোবর তিনি বলেন, ঘটনাটির পুরো চিত্র হয়তো তার কাছে পৌঁছায়নি।

ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রমও পর্যালোচনা

কটলিকফ জানিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভ্রাতৃসংঘের ভূমিকা ও কার্যক্রমও নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাতৃসংঘগুলোর ইতিবাচক দিকগুলো কীভাবে ধরে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও অন্যের নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্ববোধ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা দেখা হবে।

সমালোচনা তীব্র হওয়ার মধ্যে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহান্তের সব সামাজিক ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভেরও পরিকল্পনা করেছে।

এছাড়া যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন কটলিকফ।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের শুরু কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের নিজেদের মধ্য থেকেই হতে হবে।

সূত্র: ইউএসএ টুডে

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার হবিগঞ্জে স্বামীর খোঁজে ভারতীয় নারী প্রতারক মিজান মিয়ার জন্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


এবার হবিগঞ্জে স্বামীর খোঁজে ভারতীয় নারী প্রতারক মিজান মিয়ার জন্য

ভারতের এক নারী হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে এসে প্রতারণার শিকার স্বামীর খোঁজ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মিজান মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করেছেন এবং পরে তার নামে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন।

মিজান মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর ইউনিয়নের চানপুর বন্দের বীমা তাহের মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ওই নারী বাংলাদেশে আসার পর থেকে মিজান আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি, তিনি কাতারে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, মিজান দীর্ঘদিন ভারতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় তিনি কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে সিতারা নামে এক খ্রিস্টান তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একপর্যায়ে সিতারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিজানকে বিয়ে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর সিতারার নামে ভারতের এক্সিস ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নেন মিজান। পরে তিনি মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ঋণের টাকা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ভারতে কর্মরত বানিয়াচংয়ের শ্রমিক সাইদুর রহমানের মাধ্যমে সিতারা জানতে পারেন, মিজানের বাড়ি কলকাতায় নয়, বরং বাংলাদেশে। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে স্বামীর প্রকৃত ঠিকানা সংগ্রহ করে বানিয়াচংয়ে আসেন তিনি।

সিতারা জানান, স্বামীর নেওয়া ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে পারছেন না তিনি। এ অবস্থায় স্বামীর সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছেন এবং এ ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

ভারতে মিজানের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিক সাইদুর রহমান বলেন, মিজানের সঙ্গে তিনি ভারতে কাজ করেছেন। সিতারার সঙ্গে মিজানের বিয়ে এবং তাঁর নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার বিষয়টি সত্য বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, স্বামীর সন্ধানে কয়েক দফা মিজানের বাড়িতে যান সিতারা। তবে মিজানের পরিবারের সদস্যরা তাকে জানান, মিজান বাড়িতে নেই এবং চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তারা মিজান ও সিতারার বিয়ের কাগজপত্র এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত নথি দেখেছেন। সিতারা বানিয়াচংয়ে আসার পর থেকেই মিজান বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রতারিত নারীর আইনি অধিকার নিশ্চিত এবং তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবির মিল কেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


একাধিক দেশের নেতার সাথে ট্রাম্পের ছবির মিল কেন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের একটি ছবি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি উঠেছে যে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি। ছবিতে ট্রাম্পের দাঁড়ানোর ভঙ্গি এবং ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

তবে, ট্রাম্পের অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গে তোলা একই ধরনের ছবিগুলো যাচাই করার পর ভিন্ন চিত্র প্রকাশ করেছে দ্য ডিসেন্ট। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক এআই শনাক্তকারী টুলে এসব ছবির কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদনার কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, একই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলার কারণে ট্রাম্পের ছবিগুলোতে এতটা মিল দেখা যেতে পারে।

দ্য ডিসেন্ট এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ট্রাম্পের সঙ্গে ছবিটি প্রকাশ করেন। পোস্টের বিবরণে তিনি জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসা বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া সংবর্ধনায় তিনি ও ডা. জুবাইদা রহমান অংশ নিয়েছেন। ছবিটির উৎস হিসেবে হোয়াইট হাউসের নামও উল্লেখ করা হয়।

ছবিটি প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ‘ইনফো বাংলা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ছবিটি প্রকাশ করে দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ‘ফটো কাটআউটের’ সঙ্গে ছবি তুলেছেন। একই ধরনের দাবি আরও কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করে জানতে চান, ছবিটি কেউ যাচাই করেছেন কি না এবং ফ্যাক্টচেকারদের অবস্থান কী।

অন্যদিকে, মীর জাহান নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটিকে সম্পূর্ণ এআই দ্বারা তৈরি বলে দাবি করা হয়। ছবিটি অনুষ্ঠান হওয়ার কয়েকদিন পর প্রকাশের বিষয়টিকেও সন্দেহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই রকম পোজ কেন?

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ কসোভো, আলবেনিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া ও রোমানিয়ার নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবিতে প্রায় একই ধরনের ভঙ্গি দেখা যায়। কোথাও ট্রাম্পকে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখতে দেখা গেছে।

কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফোর পর্যবেক্ষণেও এসব ছবিতে ট্রাম্পের অবস্থান ও অঙ্গভঙ্গিতে উল্লেখযোগ্য মিলের কথা উঠে এসেছে। কসোভোর সংবাদমাধ্যম কোহার এক প্রতিবেদনে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নির্দিষ্ট একটি জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা একে একে তার পাশে এসে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলেন। একই পটভূমি, ক্যামেরার অবস্থান এবং ট্রাম্পের নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ছবিগুলোতে তার পোজ প্রায় একই রকম দেখা যায়।

কোহা আরও জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের নির্দিষ্ট আলোকচিত্র ছাড়া অন্য কারও ছবি তোলার অনুমতি ছিল না। ফলে একই ফটোগ্রাফি প্রক্রিয়ায় একাধিক নেতার ছবি তোলা হয়। তবে ছবিগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান পুরোপুরি অভিন্ন নয়। বিভিন্ন ছবিতে তার বাঁ হাতের অবস্থান, মুখের অভিব্যক্তি ও হাসিতে ছোটখাটো পার্থক্য রয়েছে।

সব ছবিতে কি একই পোজ?

অনুষ্ঠানের অন্যান্য ছবিগুলোতেও ট্রাম্পকে ভিন্ন ভঙ্গিতে দেখা গেছে। কসোভোর ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান হিব্রিড ডট ইনফো জর্জিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইরাকলি কোবাখিদজে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে তোলা ছবির উদাহরণ দিয়েছে। শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ছবিতে ট্রাম্পকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে রাখতে দেখা গেলেও অন্য একটি ছবিতে তাকে করমর্দন করতে দেখা যায়। অর্থাৎ অনুষ্ঠানজুড়ে ট্রাম্পের অঙ্গভঙ্গি একেবারে অপরিবর্তিত ছিল না।

হিব্রিড ডট ইনফোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাইভ মডারেশন ব্যবহার করে পরীক্ষায় আলোচিত বলকান নেতাদের ছবিগুলোকে এআই-নির্মিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া দ্য ডিসেন্ট বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে এসব নেতার ছবি সংগ্রহ করে একাধিক এআই যাচাইয়ের মাধ্যমে পরীক্ষা করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের সঙ্গে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুশোর দানের একটি ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। ২ অক্টোবর ট্রাম্পের সঙ্গে নিজের ও তার সঙ্গী মিরাবেলা গ্রাদিনারুর ছবি প্রকাশ করার পর ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। পরে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে শুধু হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল আলোকচিত্রীর প্রবেশাধিকার ছিল এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের পর অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদলের কাছে একসঙ্গে পাঠানো হয়।

এ কারণে অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর বিভিন্ন দেশের নেতাদের ছবি প্রায় একই সময়ে প্রকাশিত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

একই ধরনের ছবি তোলার নজির আগেও

বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ছবিতে একই ধরনের ভঙ্গি নতুন নয়। ২০১৯ সালেও ট্রাম্পের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের একটি সংবর্ধনায় তাকে একই ধরনের ভঙ্গিতে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও ব্যঙ্গের ঘটনাও নতুন নয়। ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ছবি প্রকাশের পর পোপের গম্ভীর মুখভঙ্গি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও তুলনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

তাহলে বাংলাদেশের আলোচিত ছবিটি?

বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ট্রাম্পের ‘কার্ডবোর্ড কাটআউট’-এর ছবিটি অবশ্য আলাদা বিষয়। ফেসবুকে ওই ছবি শেয়ার করে দাবি করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও ছবিটি শেয়ার করে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, ছবিটি মূল ছবি নয়; এটি ওপেনএআই ব্যবহার করে তৈরি করা একটি কৃত্রিম ছবি।

অর্থাৎ, ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের আসল ছবিতে ট্রাম্পের পোজ অন্য কয়েকটি দেশের নেতার সঙ্গে তোলা ছবির সঙ্গে মিল থাকলেও, শুধুমাত্র এই মিলকে ছবিটি এআই দ্বারা তৈরি হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখানো যায় না। বরং একই অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে একই ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার কারণেই একাধিক ছবিতে ট্রাম্পকে প্রায় একই ভঙ্গিতে দেখা যাওয়ার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%