০৬:১৬ পি.এম
স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। তার স্ত্রী বাংলাদেশে চার সন্তানের সঙ্গে আছেন। স্বামীর কাছে ইতালি যাওয়ার ভিসার জন্য আবেদন করার পর, ওই নারীকে জানানো হয় যে, তার পাসপোর্টের মেয়াদ ইতালি দূতাবাস থেকে শেষ হয়ে গেছে। এই সময় নাজমুল হাসান নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পর তিনি ভিসাও পান। কিন্তু নির্ধারিত দিনে যখন বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছান, তখন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান যে, ভিসাটি ‘জাল’ ছিল।
এ ঘটনায় কেবল ওই নারীই নয়, নাজমুল হাসান নামের ওই ব্যক্তি এইভাবে অসংখ্য প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে। ২০ জুলাই (সোমবার) রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাজমুল হাসানসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, ১৫৩টি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
সিআইডি জানায়, নাজমুল হাসান এবং গ্রেপ্তার করা ৭ জন মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। ইতালিপ্রবাসীর স্ত্রীকে জাল ভিসা দেওয়ার অভিযোগে গুলশান থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, মামলার বাদীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। বাদী স্বামী এবং চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন করেন। পরে তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে, দূতাবাস থেকে নবায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় অভিযুক্ত নাজমুল হাসান নিজেকে পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা করার সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে, তাঁকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়নের আশ্বাসও দেন অভিযুক্ত। সেখানে প্রতিষ্ঠানের প্রধান বেলায়েত হোসেন ভিসা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করেন।
চুক্তি অনুসারে, বাদী অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাবে দুই দফায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরে তিনি পাসপোর্ট ফিরে পান। পরবর্তীতে প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার জন্য একটি ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করেন। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসাটি ব্যবহার করে অন্য এক নারী চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ইতালিতে চলে গেছেন।
এ ঘটনায় হতবাক হয়ে বাদী ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে সিআইডির মানব পাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, ওই চক্রটি বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছুক ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে, পরে তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, চক্রের মূল হোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।
সিআইডি জানিয়েছে, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটারসহ অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন