০৯:২৪ পি.এম
এক রাতের মধ্যে একটি কৃষকের ঋণ করে গড়া বিশাল কলাবাগান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। যখন গাছে গাছে ফলন্ত কলার ছড়া দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই শত্রুতাবশত রাতের অন্ধকারে প্রায় এক হাজার কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এই অমানবিক তাণ্ডবে কৃষক জয়দার মিয়া তার পরিবারসহ পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছেন।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে মাগুরার মহম্মদপুর থানায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার মিয়া একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের পাল্লা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক জয়দার মিয়া নিজের বাড়ির পূর্ব পাশে গোরস্থানসংলগ্ন ১০০ শতক জমি লিজ ও বর্গা নিয়ে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে কলাবাগানটি গড়ে তোলেন। বাগানটি তৈরি করতে এনজিও এবং বিভিন্ন উৎস থেকে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে গাছে গাছে কলার ছড়া আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারে পুরো বাগানটি ধ্বংস করে দেয়। এতে তার ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জয়দার মিয়া বলেন, ‘এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে আর দিনরাত ঘাম ঝরিয়ে বাগানটি দাঁড় করিয়েছিলাম। আর কিছুদিন পরই কলা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করার কথা ছিল। কিন্তু শত্রুতাবশত রাতের আঁধারে আমার সব শেষ করে দিল। এখন কী দিয়ে এনজিওর কিস্তি দেব আর পরিবার নিয়ে কী খাব, তা বুঝতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।’
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আলম নবী বলেন, ‘জয়দার একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক। ঋণ করে বাগানটি করেছিল। ফলন্ত কলাগাছ এভাবে কেটে ফেলা জঘন্য অপরাধ। এতে তার ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে পুলিশকে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেছি।’
প্রতিবেশী আকিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে বাগানের এই অবস্থা দেখে আমরা স্তম্ভিত হয়ে গেছি। একজন কৃষকের সঙ্গে এমন শত্রুতা কোনো মানুষ করতে পারে না। যারা এই কাজ করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান শিলু বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ কলার কাঁদিসহ ১ হাজার গাছ কেটে ফেলায় কৃষক ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। সরকারি কোনো প্রণোদনা বা সহায়তা এলে তাকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেওয়া হবে।’
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম শামীম আহমেদ জানান, কলাগাছ কাটার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন