মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৮ পি.এম
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এ সভার কার্যক্রম শুরু হয়।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান।
সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত রয়েছেন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠক শেষে বিকেল ৩টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী সেখানে একনেক সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের অনেক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ধাপে ধাপে প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি প্রদান, ডিএস-১৬০ পূরণ এবং ভিসা ইন্টারভিউ—প্রতিটি ধাপে সঠিক তথ্য ও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে সময় দিন
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ১২ থেকে ১৮ মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করা উচিত। শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বিষয়ে পড়তে হবে, ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা কী, শিক্ষার খরচ কত হবে, বৃত্তির সুযোগ আছে কি না এবং কোথায় থাকতে চান—এসব বিষয় বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের এডুকেশনইউএসএ জানাচ্ছে, কোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয় সবার জন্য সেরা নয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক, আর্থিক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের সঙ্গে যেই প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে ভালোভাবে মেলে, সেটিই তার জন্য উপযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারি একক র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ের পর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সাধারণত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও নম্বরপত্র, প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রমাণ, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, জীবনবৃত্তান্ত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণাসংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
কিন্তু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠান ও বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তগুলো ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
ভর্তি নিশ্চিত হলে আই-২০
বিশ্ববিদ্যালয় আবেদন গ্রহণ করলে শিক্ষার্থীকে ভর্তি নিশ্চিত করার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি অবশ্যই শিক্ষার্থী ও বিনিময় দর্শনার্থী কর্মসূচির অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হতে হবে।
ভর্তি গ্রহণের পর শিক্ষার্থীকে সেভিসে নিবন্ধন করতে হয় এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ প্রদান করা হয়। এই আই-২০ স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় এটি দেখাতে হবে।
সেভিস ফি দিতে হবে
এফ বা এম শ্রেণির স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য সেভিসের আই-৯০১ ফি বর্তমানে ৩৫০ মার্কিন ডলার। এই ফি ভিসা আবেদনের ফি থেকে আলাদা।
ডিএস-১৬০ পূরণ
এরপর অনলাইনে ডিএস-১৬০ ফরম পূরণ করতে হবে। এখানে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পড়াশোনার পরিকল্পনা ও ভ্রমণসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য দিতে হয়।
ডিএস-১৬০-এর তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ফরম জমা দেওয়ার পর এর নিশ্চিতকরণ পৃষ্ঠাটি সংরক্ষণ করে রাখতে হবে এবং ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় সেটি সঙ্গে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আই-২০তে থাকা সেভিস নম্বর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য ডিএস-১৬০ পূরণের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন ফি
স্টুডেন্ট ভিসাসহ এফ ও এম শ্রেণির অ-অভিবাসী ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি বর্তমানে ১৮৫ মার্কিন ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়।
এরপর ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য সময় নিতে হবে। সাক্ষাৎকারের সময় স্থান ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অপেক্ষার সময় পরিবর্তিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় এফ, এম ও জে শ্রেণির ভিসার পরবর্তী সাক্ষাৎকারের সময় পেতে অপেক্ষা অর্ধ মাসের কম দেখানো হয়েছে। তবে এই সময় নিয়মিত পরিবর্তিত হয়।
ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে যেসব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন
ভিসা ইন্টারভিউয়ের আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় আবেদনকারীর শিক্ষাগত প্রস্তুতি, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে যাওয়ার অভিপ্রায় সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে।
ভিসা ইন্টারভিউতে কী জানতে চাওয়া হতে পারে
ভিসা ইন্টারভিউতে মূলত শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পরিকল্পনা, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ও কোন বিষয়ে পড়বেন, কেন ওই বিষয়টি বেছে নিয়েছেন, পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।
সুতরাং মুখস্থ করা উত্তর না দিয়ে নিজের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিষয় এবং আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। ডিএস-১৬০, আই-২০ এবং অন্যান্য কাগজপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের উত্তরের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা আই-২০ পাওয়া মানেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর যোগ্যতা যাচাই করেন এবং ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।
শেষ মুহূর্তে নয়, আগে থেকেই প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে ভাগ করা যায়—বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় বাছাই, আবেদন, ভর্তি নিশ্চিত করা, আই-২০ সংগ্রহ, সেভিস ফি দেওয়া, ডিএস-১৬০ পূরণ, ভিসা আবেদন ফি দেওয়া এবং সবশেষে ভিসা ইন্টারভিউ।
বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই থেকে ভিসা ইন্টারভিউ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে তথ্যের নির্ভুলতা ও সময়মতো প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভিসা ইন্টারভিউয়ের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং নিজের শিক্ষাগত ও আর্থিক পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি আগে থেকেই নেওয়া উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনের সংসদ সদস্যের শয়নকক্ষের বারান্দায়ও ঘুমাতে হতো, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে জানান, প্রথমে মৌখিকভাবে বিয়ে করা হয়েছিল।
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গাজী নজরুলকে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মরিয়ম মাঝে মাঝে বারান্দায় ঘুমাতেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে জানায় যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কের দিক থেকে ভাগনে। মরিয়ম আসামির নাতনি। ঢাকায় আসলে নজরুল ইসলাম বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এভাবে মরিয়মের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এবং তিনি মরিয়মকে বিয়ে করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, গত ১৭ জুন গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মকে ধর্মীয় নিয়মে বিয়ে করেন। পরে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করেন। আবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে গাজী নজরুল ন্যাম ভবনে বসবাস করতেন। মোছা. মাকছুদা ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী।
‘প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশে ব্যালকনিতে ঘুমাতেন,’ উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ‘আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ পাওয়া গেছে।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন ও মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। গত বুধবার এ মামলার তৃতীয় আসামি ভুক্তভোগীর মামা ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি–২। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতা এবং তার দাদার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর ওই ছাত্রনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শহরতলির উপশহর তেলপাম্পের সামনে ট্রাকস্ট্যান্ড বস্তি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মোহাম্মদ জুবায়ের ইসলাম (২২) যশোর শহরের সেন্ট্রাল রোড এলাকার টিপুর ছেলে এবং সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
অভিযোগের সূত্র অনুযায়ী, হামলাকারীদের মধ্যে মোহাম্মদ শাকিল (৩২), মোহাম্মদ রিদয় (৩০), মোহাম্মদ রিজভী (২৬), মোহাম্মদ বাবলুসহ (২৮) অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জুবায়ের এবং তার দাদা মুক্তার শিকদারের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলাকারীরা তাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে জুবায়েরকে তার ব্যবসায়িক দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। দোকান না ছাড়ায় পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান গণমাধ্যমকে জানান, মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের চকরিয়ায় মোহাম্মদ ইসফাতুল ইসলাম জিসান নামে এক ছাত্রদল নেতাকে অপহরণের প্রায় চার ঘণ্টা পর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে। এর আগে, তার বড় ভাইকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, "আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে।"
জিসানকে দুই দিন পর একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টা পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে, হত্যার হুমকির সঙ্গে জিসানের মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিহত জিসান চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজম উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, কেয়ারবিল এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ওই হুমকি দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে জিসানের বড় ভাইকে উদ্দেশ্য করে মিজানকে বলতে শোনা যায়, "আমি আওয়ামী লীগ করা মানুষ। আমার ক্ষমতাও আছে, টাকাও আছে। আপনার ভাইকে ১৪ টুকরা করার ক্ষমতা আছে। তাকে ৫০ জন খুঁজছে।"
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার রাতে কাকারা মাইজপাড়া এলাকার একটি দোকানের সামনে ছিলেন জিসান। এ সময় একটি সাদা নোয়াহ মাইক্রোবাস সেখানে আসে। গাড়ি থেকে কয়েকজন নেমে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মহাসড়কের কচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে জিসানকে তুলে নেওয়া গাড়িটি শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে ৮ থেকে ১০ জনের উপস্থিতির কথা জানা গেছে। মাইক্রোবাসটি কোথা থেকে এসেছিল, জিসানকে তুলে নেওয়ার পর কোন পথে গিয়েছিল এবং তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছিল—এসব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, জিসানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুলির আঘাত কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। আওয়ামী লীগের এক ব্যক্তির হুমকির বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে মাথা ও কপালে আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এসব আঘাত গুলির কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চকরিয়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেজাউল করিম বাপ্পি বলেন, "আমরা ধারণা করছি, আওয়ামী লীগের ওই মিজানই আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।"
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) অহিদুল রহমান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে খুনিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ