বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১২:০৯ পি.এম
তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর উদ্দেশ্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফরজে)’ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম সফল শিল্পোন্নয়ন উদ্যোগ হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পটির মাধ্যমে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। এদিকে, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যশৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) অর্থায়নে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে এই প্রকল্পটি শুরু করে। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, রপ্তানি বহুমুখীকরণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং তাই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি চালু হওয়ার সময়, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশেরও বেশি আগত ছিল তৈরি পোশাক খাত থেকে, যা অর্থনীতিকে একটি নির্দিষ্ট খাতের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল করে তুলেছিল।
এ প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় চারটি উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার, উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর, এবং নতুন রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ইসিফরজে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, প্রকল্পটি প্রায় সব প্রধান কর্মপরিচালনা সূচকেই নির্ধারিত লক্ষ্য ছাড়িয়েছে এবং একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য শুধু রপ্তানি বৃদ্ধি নয়, বরং বাংলাদেশি শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য সক্ষম করে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও। প্রকল্পের ফলাফল প্রমাণ করে যে, রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিলে শিল্পখাতের রূপান্তর উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত হতে পারে।
আব্দুর রহমান জানান, প্রকল্পের অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ ছিল ‘এক্সপোর্ট রেডিনেস ফান্ড (ইআরএফ)’। এই ম্যাচিং গ্রান্ট কর্মসূচির আওতায় নারী উদ্যোক্তাপ্রতিষ্ঠানসহ ৫৭০টি প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেয়েছে। এসব সহায়তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানেরা পরিবেশ, সামাজিক ও গুণগত মান (ইএসকিউ) সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক সনদ অর্জন, এবং নতুন বিদেশি বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৬০টি আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স সনদ অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ইআরএফের মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি সহ-অর্থায়ন (কো-ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে, যা সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি অতিরিক্ত বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করেছে।
প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ৫৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠান ২২টি নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।
প্রকল্প শুরুর আগে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রপ্তানিকারকের হার ছিল ৫৯ শতাংশ, যা বেড়ে ৯৫ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সময়ে, তাদের গড় রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১৯২ শতাংশ।
এছাড়া, ৭৩টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানকে ১৪টি আন্তর্জাতিক সোর্সিং প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, শিল্প অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নেও বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে ইসিফরজে প্রকল্প। এর আওতায়, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লাস্টিকস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বিআইপিইটি) সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বর্তমানে শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এছাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ হাইটেক সিটিতে সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (সিইইটি) এবং গাজীপুরের কাশিমপুরে ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি সেন্টার ফর লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার (ডিটিসিএলএফ)-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
ভবিষ্যৎ শিল্পায়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে প্রস্তাবিত ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইজিইটি) এবং চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব জেনারেল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (আইআইজিইটি)-এর জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও সাইট উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক জানান, এসব প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য উন্নত প্রযুক্তিসেবা, পণ্য উন্নয়ন, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি সরাসরি ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে উপকৃত করেছে। তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই নারী।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার নতুন ও শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজারের প্রায় তিন গুণ।
বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়ন তুলে ধরে আব্দুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার এবং বেসরকারি খাতের সফল অংশীদারিত্বের একটি উদাহরণ হিসেবে ইসিফরজে প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা দ্বারা।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের আওতাভুক্ত তৈরি পোশাকবহির্ভূত খাতগুলোর রপ্তানি প্রায় ৮৩ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটির অন্যতম উদ্ভাবনী দিক ছিল অনুদান ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। একটি স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের সংস্থা আন্তর্জাতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উপকারভোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি, এবং নির্ধারিত অগ্রগতি যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের কাজ পরিচালনা করেছে। এর ফলে একদিকে জবাবদিহি নিশ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও উৎসাহিত হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলেছে, আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সচেতনতার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলি ক্রমেই বৈশ্বিক মানদণ্ড পূরণে সক্ষম হতে পারে। ইসিফরজে প্রকল্পের সাফল্য তা প্রমাণ করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো আবারও বিশ্ব ফুটবলে একটি বড় বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের একটি পরিকল্পনা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে ২১১টি সদস্য ফেডারেশনকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেয়া হয়েছে।
ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার মূল বিষয় অনুযায়ী, ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন ফিফা সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে ২০ শতাংশ মালিকানা থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের। এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই পরিকল্পনার প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠান 'থ্রাইভ ক্যাপিটাল' রয়েছে।
যদি প্রস্তাবটি অনুমোদন হয়, তবে প্রতিটি সদস্য ফেডারেশন ২০৩০ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ২০ মিলিয়ন ডলার করে অতিরিক্ত অর্থ পাবে। অন্যদিকে, যদি প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়, তবে আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের চার বছরে ১০ মিলিয়ন ডলারের সুবিধা পাবার কথা রয়েছে।
তবে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা উয়েফা শুরু থেকেই এই পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, ‘বিশ্বকাপ ফিফার বিক্রি করার সম্পদ নয়।’ এ বিষয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডাকতে যাচ্ছে উয়েফা। প্রয়োজনে ফিফার প্রতিযোগিতাকে বয়কট করার মতো কঠোর পদক্ষেপও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে।
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাপ-ও অভিযোগ করেছে যে, এতো গুরুত্বপূর্ন একটি পরিকল্পনা নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়া তা প্রকাশ করা হয়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের আয়োজন আরও ঘন ঘন হতে পারে, দল সংখ্যা বৃদ্ধি এবং টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিকীকরণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পরে গত ১৯ জুলাই স্পেনের খেলোয়াড়দের ওপর হামলা এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড (মালভিনাস) দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শনের একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ফিফা আর্জেন্টিনার দুটি খেলোয়াড়সহ দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ এনেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফিফা প্রকাশিত অভিযোগের তালিকায় আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে নতুন নতুন আরও কিছু অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সমর্থকদের বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, ফাইনালের পর এক সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এবং বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচে দর্শকদের দ্বারা বস্তু নিক্ষেপের ঘটনার উদাহরণ।
গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ার পর ম্যাচ-পরবর্তী সংঘর্ষে আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে হামলার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে হামলার একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়াও, মলিনা ও থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন স্পেনের মিডফিল্ডার গাভিও।
ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা 'লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস' (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ইসলাস মালভিনাস নামে জানায়। ১৯৮২ সালে তৎকালীন আর্জেন্টাইন সামরিক জান্তার নির্দেশে দ্বীপপুঞ্জে অভিযান চালানোর ফলে ১০ সপ্তাহ ব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়, যার ফলে ব্রিটেন বিজয়ী হয়।
ব্রিটিশ সরকারের কর্মকর্তারা এ ঘটনার তদন্তের আহ্বান করেছেন। ফিফা জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ হলো যে 'খেলাধুলার বাইরের উদ্দেশ্যে একটি ক্রীড়া ইভেন্টকে প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।'
ফিফা উপরোক্ত সকল অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য পর্যালোচনা করার পরে যথাসময়ে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া অ্যাকাউন্ট, ছবি এবং সাইবার প্রতারণা রোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। এর মাধ্যমে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে এবার বিনামূল্যে নতুন ধরনের 'ভেরিফায়েড ব্যাজ' চালু করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মেটার তথ্যমতে, এই ব্যাজের মাধ্যমে সহজেই বোঝা যাবে কোনো অ্যাকাউন্ট প্রকৃত ব্যক্তির, নাকি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া পরিচয়। উল্লেখ্য, এটি 'মেটা ভেরিফায়েড'-এর মতো অর্থের বিনিময়ে পাওয়া যাবে না; বরং যোগ্য সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিনামূল্যে এই সুবিধা পাবেন।
যেভাবে মিলবে ব্যাজ
ভেরিফায়েড ব্যাজ পেতে ব্যবহারকারীকে একটি সেলফি ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। পরবর্তীতে ফেসবুক সেই ভিডিও অ্যাকাউন্টের ছবি ও অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় যাচাই করবে। যাচাই সফল হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে ব্যাজ যুক্ত করা হবে।
যারা এই সুবিধা পাবেন না
মেটা জানিয়েছে, নিচের যেকোনো শর্ত প্রযোজ্য হলে বিনামূল্যের ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়া যাবে না।
* ব্যবহারকারীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে।
* ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করলে বা অ্যাকাউন্ট সচল অবস্থায় না থাকলে।
* অ্যাকাউন্টে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকলে।
* ফেসবুক পেজ এবং প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
* সেলফি ভিডিওভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ে সফল না হলে।
কোথায় দেখা যাবে ব্যাজ
পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে, এই ভেরিফায়েড ব্যাজ শুধু ব্যবহারকারীর প্রোফাইলেই নয়, ফেসবুক মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং ফেসবুক ডেটিং প্ল্যাটফর্মেও প্রদর্শিত হবে।
তবে মেটা স্পষ্ট করেছে, এই ব্যাজ কেবল একজন ব্যবহারকারী বাস্তব ব্যক্তি কি না, সেটির প্রমাণ বহন করবে। এটি কোনো ব্যক্তির সততা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা আচরণের নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অনলাইনে লেনদেন, তথ্য আদান-প্রদান বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকা পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে ফিচারটি বিশ্বের কয়েকটি নির্বাচিত দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশেও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হবে।
সূত্র: এনগ্যাজেট
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁয় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে, শহরের দয়ালের মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আ.ত.ম ইউসুফ (৪৫) নওগাঁ শহরের জগৎসিংহপুর হাজীপাড়া এলাকার একটি বাসিন্দা ও জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন।
নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে শিক্ষক আ.ত.ম ইউসুফ স্কুটি (মোটরসাইকেল) চালিয়ে কর্মস্থল জয়পুরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শহরের দয়ালের মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে তার স্কুটির ধাক্কা লাগে। ফলে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি রাস্তার ওপর পড়ে যান।
এই সময়, বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে আসা দ্রুতগতির একটি বিআরটিসি যাত্রীবাহী বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এর ফলে বাসের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
স্থানীয়দের মতে, অটোরিকশার ধাক্কায় অসাবধানতাবশত সড়কে পড়ে যাওয়ার কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ