০৬:২০ পি.এম
জাতিসংঘ শুক্রবার সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে ব্যয় হ্রাসের ফলে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন একটি নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, প্রয়োজন দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও নারীদের নিয়ে কাজ করা বেশ কিছু সংগঠন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জেনেভা থেকে এএফপি সংবাদ মাধ্যমটি এই তথ্য জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গত বছরে দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সময় অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও সহায়তা ব্যয় হ্রাস করেছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারী সংগঠনগুলোর জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা, স্কুলছুট হতে বাধ্য হওয়া কিশোরী এবং টিকে থাকার ত্রাণসামগ্রী রক্ষা করার জন্য যুদ্ধরত জনগণের কাছ থেকে এক ডলার করে সহায়তা প্রত্যাহার করা।’
ইউএন উইমেন জানিয়েছে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সশস্ত্র সংঘাত বিশ্বজুড়ে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
সংকট কবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪ শতাংশ সংগঠনের সেবার চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতি ১০টি সংগঠনের মধ্যে প্রায় ৯টি বর্তমানে চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছে না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনগুলো টিকিয়ে রাখতে অবস্থান নিয়েছেন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ও কর্মীরা নিজেদের শ্রম ও ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা দিয়ে।
ইউএন উইমেন জানিয়েছে, নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫ শতাংশ সংগঠনের কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সেবা প্রদান করে চলেছেন।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ইউএন উইমেনের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ঠিক সেই সময়েই ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৬ শতাংশ নারী সংগঠন জানিয়েছে, তারা যেসব এলাকায় কাজ করছে সেখানে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বৃদ্ধি ঘটেছে।
সংস্থাটি জোর দিয়ে জানিয়েছে, সহায়তা কমানোর প্রভাব ভয়াবহ।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
তারা বলেছেন, সহিংসতা থেকে আশ্রয় নিতে আসা একজন নারী হয়তো এমন এক আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছাবেন, যা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আবার একজন গর্ভবতী নারীকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে।
এছাড়াও, কোনো মাকে তাঁর সন্তানদের জন্য খাদ্য সহায়তার অভাবেও পড়তে হতে পারে।
ইউএন উইমেন আরও জানায়, এ সহায়তা কমানো মানে শুধু মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে দুর্বল করা নয়।
সংস্থাটি বলেছে, ‘নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এমন একটি সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী ও কিশোরীদের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জোরদার হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারে ৫ বিষয়ে অগ্রাধিকার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে নারীর নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। আর অর্ধেকের বেশি সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে যেতে দেখছে তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন