ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বগুড়ায় ‘শাহ ফতেহ আলী’ বাসের চাপায় ৭ দিনমজুর নিহত


বগুড়ায় ‘শাহ ফতেহ আলী’ বাসের চাপায় ৭ দিনমজুর নিহত

বগুড়ার সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে ৭ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এ দূর্ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার কথা জানা যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সদর উপজেলার এরুলিয়া সিলকিবান্ধা এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে কাজের জন্য অপেক্ষারত কৃষি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বামী আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন স্ত্রী রিনা বেগম। কখনো মরদেহটি জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন, আবার কখনো বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমাকে একা রেখে কোথায় চলে গেলে?’ পাশেই থাকা স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তার বুকের শূন্যতা পূরণ করতে পারছিল না।

আবু সাঈদ ও আমিরুলের স্বজন সানাউল প্রধান বলেন, এদের দুইজনই দিনমজুর ছিলেন। সাঈদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ জন। সংসারের সব দায়িত্ব ছিল তার ওপর। তিনি কাজের সন্ধানে বগুড়ায় এসেছিলেন, কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না।

তিনি আরও বলেন, নিহত আমিরুলও ছিলেন ভূমিহীন। এক শতক জমির ওপর একটি ছোট্ট ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের মারা যাওয়াতে তাদের পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

নিহত নূর মোহাম্মদের ভাতিজা আল আমিন জানান, ফজরের নামাজ পড়ে চাচা কামলার হাটে গিয়েছিলেন কৃষি শ্রমিক নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কে জানতো, সেটাই হবে তার জীবনের শেষ পথচলা।

কৃষি শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ভোর ৫টার পর থেকেই এরুলিয়ার কামলার হাটে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা জড়ো হন। কৃষিজমির মালিকরা প্রয়োজন অনুযায়ী সেখানে থেকে শ্রমিক নিয়ে যান। নিহত ও আহতদের অনেকেই সেখানে জনপ্রতি ২০ টাকা ভাড়ায় একটি কক্ষে থাকতেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিনের মতো আমারও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমি দেরি হয়ে যাই। পরে গিয়ে দেখি চারদিকে মানুষের ভিড়, রক্তাক্ত মানুষ এবং আর্তনাদ। তখন injuredদের উদ্ধারে অন্যদের সাথে আমিও এগিয়ে যাই।

আরেক শ্রমিক মোশাররফ হোসেন সরকার জানান, গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শ্রমিকরা এই হাটে আসেন। বর্তমানে কৃষি কাজে একজন শ্রমিক দৈনিক প্রায় ৭০০ টাকা মজুরি পান। সেই সামান্য আয়ের ওপরই নির্ভর করে অসংখ্য পরিবারের জীবন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন ইরানের সঙ্গে যু/দ্ধ শিগগিরই শেষ হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করছেন ইরানের সঙ্গে যু/দ্ধ শিগগিরই শেষ হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশা করছেন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান ‘খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে না’ বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ বিষয়টি নিয়ে তার মতামত তুলে ধরেন। খবরটি রয়টার্সের।

ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা খুব শিগগির শেষ হবে। আমার মনে হয় না, তারা আর খুব বেশি দিন টিকে থাকতে পারবে।’ তিনি এ সময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কিছু অস্ত্রের মজুত–সংক্রান্ত সমস্যা নিয়েও কথা বলেন এবং এটি স্বীকার করেন।

গণমাধ্যম রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হামলা চালানোর সক্ষমতাসম্পন্ন দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘কিছু নির্দিষ্ট ধরনের শক্তিশালী অস্ত্রের সীমাহীন মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে। তবে অন্য কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলকভাবে কম।’

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘বিপুল পরিমাণ’ অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের কোম্পানিগুলো নতুন নতুন উৎপাদন কারখানা তৈরি করছে। উক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে প্যাট্রিয়ট ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাও রয়েছে।

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধ শেষ করার যে দাবি ট্রাম্প শুরুতে করেছিলেন, সেখান থেকে সরে এসে চলমান কূটনৈতিক চেষ্টা ও হুমকি-পাল্টা হুমকির মুখে তিনি এখন চরম উভয় সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ট্রাম্পের সামনে বর্তমানে বিকল্প মূলত দুটি।

একদিকে রয়েছে, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান। এই চুক্তির ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের যে কর্তৃত্ব ছিল না, তা তারা পেয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সামনে আরও একটি বিকল্প রয়েছে, যা হলো নতুন করে সামরিক হামলা জোরদার করার হুমকি বাস্তবায়নের সুযোগ, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প যদি প্রথম পথটি বেছে নেন, তবে যুদ্ধ শুরুর পর এটি হবে ইরানের সবচেয়ে বড় জয়। এর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ন্ত্রণ করার আনুষ্ঠানিক অধিকার পেয়ে যাবে ইরান। অথচ এই প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব আটকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের সূচনা করেছিল।

দ্বিতীয় পথ হিসেবে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করার বিষয়টি রয়েছে। ট্রাম্পের জন্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কারণ এর আগে যেসব বিমান হামলা ছিল, সেগুলোতে তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে। নতুন করে হামলা চালিয়ে সফল হওয়ার কোন নিশ্চয়তাও নেই।

তিনি চাইলে চলমান এই অস্বস্তিকর অবস্থাটিকে বজায় রাখতে পারেন। এতে বোঝায়, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর থাকবে এবং কোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হলে সময়ে সময়ে পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার যে পূর্বাভাস ট্রাম্প দিয়েছিলেন, এই পথ অবলম্বন করলে সেখান থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার কোন উপায় থাকবে না।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেটা ইউজার ও প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কবির উদ্দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫৭ পি.এম


ডেটা ইউজার ও প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কবির উদ্দিন

 জিওস্পেশিয়াল এক্সপার্ট বাংলাদেশি বিজ্ঞানী কবির উদ্দিন ডেটা ইউজার ও প্রোভাইডার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফ্লাড পার্টনারশিপ (জিএফপি) বার্ষিক সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিগহাম ইয়ং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে তাকে এ মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার দেওয়া হয়।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বর্তমানে কবির উদ্দিন জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ) দুর্যোগ ও বাস্তুতন্ত্র বিষয়ক ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণের গবেষণা ফেলো হিসেবে কর্মরত আছেন।

‘ফ্রম রিসার্চ টু অপারেশনস: অ্যাডভান্সিং গ্লোবাল ফ্লুড ফোরকাস্টিং অ্যান্ড অপারেশনাল হাইড্রোলজি’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭৮ জন জলবিজ্ঞানী, জিওস্পেশিয়াল এক্সপার্ট এবং পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেছেন।

গ্লোবাল ফ্লাড পার্টনারশিপের স্টিয়ারিং কমিটি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের অংশীজনদের কার্যকর সংযোগ স্থাপনে বিশেষ অবদানের জন্য কবির উদ্দিনকে এ সম্মাননা প্রদান করেছে।

সম্মেলনে কবির উদ্দিন ‘বিয়ন্ড র‌্যাপিড ফ্লুড ম্যাপিং ফ্রম লোকাল টু ন্যাশনাল স্কেল ইউজিং অ্যাকশনেবল জিওস্পেশিয়াল ডেটা ফর রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড ফ্লুড শেল্টার সুইটেবিলিটি’ শিরোনামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এই মূল প্রবন্ধে তিনি উপগ্রহভিত্তিক ভূ-পর্যবেক্ষণ চিত্র ও ভৌগোলে তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ব্যবহার করে বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং উপযুক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চিহ্নিত করার পদ্ধতি তুলে ধরেছেন।

ইউএনইউ-আইএনডব্লিউইএইচ-এ যোগদানের আগে কবির উদ্দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিমড)-এ ডেটা বিশ্লেষক, ইন্টারন্যাশনাল চার্টার স্পেস অ্যান্ড মেজর ডিজাস্টার্স-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সেন্টিনেল এশিয়ার ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বন্যার জলমগ্নতা মানচিত্র তৈরিতে কবির উদ্দিনের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের কোসি বন্যা, ২০১০ সালের পাকিস্তান বন্যা, ২০১৬ সালের বিহার বন্যা এবং নেপালের কাঠমান্ডু ও থামে এবং বাংলাদেশের ফেনী নদী অববাহিকার ২০২৪ সালের বন্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও বন্যার ঝুঁকি হ্রাসে স্যাটেলাইট তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি নেপালের জলবিজ্ঞান ও আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বৈশিষ্ট্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ পি.এম


সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির বৈশিষ্ট্য

সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান একে অপরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি যৌথ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে তিনটি দেশ সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করতে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিজ্ঞা করেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের মক্কার আল-সাফা প্রাসাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলন’-এ সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সম্মেলনের শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীরতর করা এবং অঞ্চল ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চুক্তির আওতায় বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হবে। এ ছাড়া, প্রতিরক্ষার সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য একটি কাঠামোও তৈরি করা হয়েছে।

চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে যে, সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবাইকে লক্ষ্য করে হামলা হিসেবে ধরা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি আরব সফর করেন। এরপর তাদের মধ্যে মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে তিন দেশের নেতারা সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, পারস্পরিক কৌশলগত স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই চুক্তিটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ইসলামী সংহতির বন্ধন এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সহযোগিতা তিন দেশের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দি মাদারীপুরের যু বক, মু ক্তি পণ দিয়েও মেলেনি সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


ইতালি যাওয়ার পথে লিবিয়ায় বন্দি মাদারীপুরের যু বক, মু ক্তি পণ দিয়েও মেলেনি সন্ধান

মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দি হন। তাকে পরে নির্যাতন করে একটি মাফিয়াচক্র এবং মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদায় করে। এর পর থেকে দেড় বছর ধরে যুবকের কোনো খোঁজ নেই। আদরের সন্তানের কোনো খবর না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে মা শিল্পী বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও জানেন না আদরের সন্তান কোথায় এবং কেমন আছে। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আজাহারি এবং প্রতিবেশীরা ভিড় করে আসছেন।

স্বজনদের জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়ে রাজীব মীর। সে সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন সরাসরি ইতালি নিয়ে যাওয়ার শর্তে দালালের সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিয়ে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন্দি করে নির্যাতন করে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা।

এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরও ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো খোঁজ নেই। এ ঘটনার ফলে, দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবার।

নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা দুজনই কারাগারে রয়েছেন।

শিল্পী বেগম বলেন, 'আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোন সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ খুইয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।'

প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, 'এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধপথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।'

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%