প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাদারীপুরের যুবক রাজীব মীর ইতালি যাওয়ার পথে প্রথমে লিবিয়ায় বন্দি হন। তাকে পরে নির্যাতন করে একটি মাফিয়াচক্র এবং মুক্তিপণ হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদায় করে। এর পর থেকে দেড় বছর ধরে যুবকের কোনো খোঁজ নেই। আদরের সন্তানের কোনো খবর না পেয়ে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নিখোঁজ ছেলের ছবি নিয়ে মা শিল্পী বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও জানেন না আদরের সন্তান কোথায় এবং কেমন আছে। প্রতিদিনই বাড়িতে চলছে আজাহারি এবং প্রতিবেশীরা ভিড় করে আসছেন।
স্বজনদের জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য আরশেদ আলী হাওলাদারের ছেলে লোকমান হাওলাদারের প্রলোভনে পড়ে রাজীব মীর। সে সদর উপজেলার হোগলপাতিয়া গ্রামের খবির মীরের ছেলে। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াকালীন সরাসরি ইতালি নিয়ে যাওয়ার শর্তে দালালের সাথে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০ লাখ টাকা লোকমান ও তার চক্রের হাতে তুলে দিয়ে রাজীবকে ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বন্দি করে নির্যাতন করে পরিবার থেকে মুক্তিপণের আরও সাড়ে ১৬ লাখ টাকা আদায় করে মাফিয়ারা।
এরপরও মানবপাচারচক্রের সদস্যরা দাবি করে আরও ২০ লাখ টাকা। সেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় দেড় বছর ধরে রাজীবের কোনো খোঁজ নেই। এ ঘটনার ফলে, দালালদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন পরিবার।
নিখোঁজ যুবকের মা শিল্পী বেগম গত ১১ জুলাই লোকমান হাওলাদারসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ লোকমান ও তার মেয়ে সেতু আক্তারকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তারা দুজনই কারাগারে রয়েছেন।
শিল্পী বেগম বলেন, 'আমার ছেলের কোন সন্ধান পাচ্ছি না দেড় বছর ধরে। দালালরাও কোন সঠিক উত্তর দিচ্ছে না। একদিকে লাখ লাখ খুইয়ে দিশেহারা, অন্যদিকে নিখোঁজ ছেলের জন্য আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি। আমি ও আমার পরিবার সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। আমার ছেলের সন্ধান চাই। দালালের বিচার চাই।'
প্রতিবেশী সৈকত হাওলাদার বলেন, 'এলাকার যুবকদের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা লিবিয়ায় আটকে নির্যাতন চালায়। পরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এই দালালদের দৃশ্যমান বিচার হলে অবৈধপথে ইতালি যাত্রা কমে যাবে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।'
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সরাসরি বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন