বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:২৬ পি.এম
খুলনায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় একটি বিদেশি পিস্তল এবং গুলিসহ দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, কেএমপি, খুলনার গোয়েন্দা বিভাগের একটি টিম বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নগরীর খালিশপুর থানার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোস্তফা কামাল (৪৮) নামের একজন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়। মোস্তফা কামাল বৈকালি বাজারের পিছনের এবি সিদ্দিক লেনের আঃ খালেক মৃধার পুত্র। তার কাছ থেকে ০১টি বিদেশি পিস্তল, ০১টি ম্যাগাজিন এবং ০২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনের অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, কেএমপি'র খুলনা সদর থানার পুলিশ বুধবার রাত পৌনে ১টার সময় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানটির ফলস্বরূপ দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো-মিলন শেখ, মোঃ মনিরুল ইসলাম এবং মোঃ আসিফ গাজী (২০)। তাদের হেফাজত থেকে একটি স্টিলের চাপাতি, একটি ছুরি, একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, একটি নাইলনের দড়ি এবং একটি টেপের রোল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টা, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা ও নন-এফআইআর-এর তথ্য পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে মিলন শেখের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে, মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নন-এফআইআর রয়েছে এবং আসিফ গাজীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনা রেঞ্জে বন অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে গত ১ বছরে ২৯৪ টি মামলায় ৩৯৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুন্দরবনে চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। যদিও অভিযানে বন অপরাধীরা ধরা পড়ছে, তবুও তাদের কার্যক্রম থমকে যাচ্ছে না। বন বিভাগ নানা সংকট এবং দস্যুদের চাপে হিমসিম খাচ্ছে, তবে খুলনা রেঞ্জের বনরক্ষীরা অব্যাহত নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে সুফল অর্জন করেছে। পশ্চিম সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের অধীন বন অপরাধের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। জনবল সংকট ও উন্নত জলযানের অভাব থাকা সত্ত্বেও বনরক্ষীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১ বছরে খুলনা রেঞ্জে গঠন করা হয়েছে ১৩৫ জনের একটি তালিকা, যাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এতে বন অপরাধের মাত্রা কমে এসেছে। বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের মধ্যে বনরক্ষীরা পায়ে হেঁটে এবং জলপথে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছেন। এই সময় উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫৭১২ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদ, ৪৮৭ কেজি হরিণের মাংস এবং প্রচুর অবৈধ মৎস্য ও কাঁকড়া আহরণের সরঞ্জাম। খুলনা রেঞ্জের অধিনস্থ বনের দুর্গম এলাকা থেকে ২২ টি ট্রলার, ৩৪৯ টি নৌকা, ৬ হাজার ৯৮৬ টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার ফাঁদ, ৯৮৩৩ মিটার দৌনদড়ি, ২৬১২ কেজি মাছ এবং ১ হাজার ৯৮১ কেজি অবৈধভাবে আহরিত কাঁকড়া জব্দ করা হয়েছে। বন্দুকধারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সুন্দরবনের অপরাধ কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। হরিণ শিকার ও বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ শিকার বন্ধ করতে সামাজিক আন্দোলন প্রয়োজন। বন বিভাগের কর্মীরা দিন ও রাত প্রচুর টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দৌলতপুরে, কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধা নারীর লাশ উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানাপুলিশ। গতকাল সকাল বেলা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধা (৬৫) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই বৃদ্ধার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে যখন এলাকার বাসিন্দারা নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে তাকে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ পেয়ে দৌলতপুর থানাপুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, "পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।" তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে আঞ্জুমানে মুফিদুলের মাধ্যমে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে মরদেহের সুরতহালে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।" ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহিতের বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা বাজার সংলগ্ন ভেড়ী বাঁধ ভাঙন রক্ষায় জিও ব্যাগ এসে পৌছেছে, তবে নওয়াপাড়া গভীর ফাটল রক্ষায় এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় বুধহাটাসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে ৬০০০ ব্যাগ বুধহাটায় পৌছে।
বুধহাটা বাজার সংলগ্ন পাউবোর ভেড়ী বাঁধ ভাঙতে ভাঙতে প্রায় ৭ হাত মত বাধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমপি হাফেজ রবিউল বাশারের ডিও লেটারের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা পরিদর্শন করে সাময়িক ভাবে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে পাউবোর পক্ষ থেকে ৬ হাজার জিও ব্যাগ বুধহাটায় আনা হয়েছে। ব্যাগে বালি ভরে ভাঙন স্থানে ডাম্পিং করা হবে। এজন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে এবং ২/১ দিনের মধ্যে বস্তায় বালি ভরে পাইলিং এর ভিতরে বস্তা ফেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম বস্তাগুলো স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থানে হেফাজতে রাখেন। এসময় সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এপিপি, বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব আঃ হান্নান, বাজার কমিটির সেক্রেটারী নুরুজ্জামান জুলু, বিএনপি নেতা বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পাশ্ববর্তী নওয়াপাড়া গ্রামে পাউবোর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন চলছে। মূল বাঁধে ফাটল ধরে কয়েক হাত নিচে নেমে গিয়ে বাঁধের স্লোব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, পাউবোর এসও আঃ আলিম বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাউবো দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ঘোষণা দিলেও সপ্তাহ পার হওয়ার পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী রীতিমত ভীতিকর পরিস্থিতি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আগামী গণমুখে নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের টান শুরুর আগেই বাঁধ রক্ষায় কাজে হাত দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছে আতঙ্কগ্রস্থ এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত এবং বিভিন্ন মামলার ৮ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করেছে। সিআর ৩৪/১৭ মামলার আসামী বৃধহাটা গ্রামের মৃত এজদান সরদারের ছেলে খলিল, এজদান গাজীর ছেলে মহাসিন গাজী, সিআর ৩১৯/২৫ (কাউনিয়া) মামলার আসামী শ্রীউলা গ্রামের মৃত নসোউদ্দীন গাজীর ছেলে দাদা কেনা গাজী ও কেনা গাজীর ছেলে তৌফিক গাজী রয়েছেন।
এছাড়া, পারিঃ জারিঃ ৫/২৬ মামলায় ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী বাইনতলা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল সানা, আশাশুনি থানার মামলা নং ২৪ তাং ২০/৭/২৬ এর ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী কোদন্ডা গ্রামের কাদের গাজীর স্ত্রী কুলসুম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং ২৫) এর ৭/৩০ ধারার আসামী রামনগর গ্রামের লাভলু গাজীর ছেলে রিফাত গাজী এবং সিসি নং ৩৯/১৭ এর আসামী বুধহাটা গ্রামের মৃত আবু তালেব মোল্যার ছেলে রফিকুল ইসলামও গ্রেফতার হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ