বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩০ পি.এম
দৌলতপুরে, কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর তীর থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধা নারীর লাশ উদ্ধার করেছে দৌলতপুর থানাপুলিশ। গতকাল সকাল বেলা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের আবেদের ঘাট সংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে অজ্ঞাত বৃদ্ধা (৬৫) এর লাশ উদ্ধার করা হয়। এই বৃদ্ধার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে যখন এলাকার বাসিন্দারা নির্মাণাধীন ভবনের মেঝেতে তাকে পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ পেয়ে দৌলতপুর থানাপুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠান।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, "পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় একজন মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।" তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে আঞ্জুমানে মুফিদুলের মাধ্যমে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও, তিনি বলেন, "প্রাথমিকভাবে মরদেহের সুরতহালে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।" ধারণা করা হচ্ছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহিতের বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের বুধহাটা বাজার সংলগ্ন ভেড়ী বাঁধ ভাঙন রক্ষায় জিও ব্যাগ এসে পৌছেছে, তবে নওয়াপাড়া গভীর ফাটল রক্ষায় এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় বুধহাটাসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে ৬০০০ ব্যাগ বুধহাটায় পৌছে।
বুধহাটা বাজার সংলগ্ন পাউবোর ভেড়ী বাঁধ ভাঙতে ভাঙতে প্রায় ৭ হাত মত বাধের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এমপি হাফেজ রবিউল বাশারের ডিও লেটারের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা পরিদর্শন করে সাময়িক ভাবে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ফলশ্রুতিতে পাউবোর পক্ষ থেকে ৬ হাজার জিও ব্যাগ বুধহাটায় আনা হয়েছে। ব্যাগে বালি ভরে ভাঙন স্থানে ডাম্পিং করা হবে। এজন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে এবং ২/১ দিনের মধ্যে বস্তায় বালি ভরে পাইলিং এর ভিতরে বস্তা ফেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঠিকাদার আমিনুল ইসলাম বস্তাগুলো স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থানে হেফাজতে রাখেন। এসময় সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এপিপি, বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব আঃ হান্নান, বাজার কমিটির সেক্রেটারী নুরুজ্জামান জুলু, বিএনপি নেতা বকুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পাশ্ববর্তী নওয়াপাড়া গ্রামে পাউবোর ভেড়ী বাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন চলছে। মূল বাঁধে ফাটল ধরে কয়েক হাত নিচে নেমে গিয়ে বাঁধের স্লোব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন স্থান পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদ সদস্য হাফেজ রবিউল বাশার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, পাউবোর এসও আঃ আলিম বাঁধটি পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা নিতে পাউবো কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। পাউবো দ্রুত ব্যবস্থা নেবে ঘোষণা দিলেও সপ্তাহ পার হওয়ার পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এলাকাবাসী রীতিমত ভীতিকর পরিস্থিতি ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। আগামী গণমুখে নদীর পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের টান শুরুর আগেই বাঁধ রক্ষায় কাজে হাত দেওয়ার জোর দাবী জানিয়েছে আতঙ্কগ্রস্থ এলাকাবাসী।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আশাশুনি থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওয়ারেন্টভুক্ত এবং বিভিন্ন মামলার ৮ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতদের বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে গ্রেফতার করেছে। সিআর ৩৪/১৭ মামলার আসামী বৃধহাটা গ্রামের মৃত এজদান সরদারের ছেলে খলিল, এজদান গাজীর ছেলে মহাসিন গাজী, সিআর ৩১৯/২৫ (কাউনিয়া) মামলার আসামী শ্রীউলা গ্রামের মৃত নসোউদ্দীন গাজীর ছেলে দাদা কেনা গাজী ও কেনা গাজীর ছেলে তৌফিক গাজী রয়েছেন।
এছাড়া, পারিঃ জারিঃ ৫/২৬ মামলায় ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী বাইনতলা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে হাফিজুল সানা, আশাশুনি থানার মামলা নং ২৪ তাং ২০/৭/২৬ এর ৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামী কোদন্ডা গ্রামের কাদের গাজীর স্ত্রী কুলসুম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সং ২৫) এর ৭/৩০ ধারার আসামী রামনগর গ্রামের লাভলু গাজীর ছেলে রিফাত গাজী এবং সিসি নং ৩৯/১৭ এর আসামী বুধহাটা গ্রামের মৃত আবু তালেব মোল্যার ছেলে রফিকুল ইসলামও গ্রেফতার হন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পিএমজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বাশতলা ব্রিজ-ঘোলা খেয়াঘাট-ওয়াপদা হয়ে কাকড়াবুনিয়া জিপিএস পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ কাচা রাস্তাটি অবহেলার কারণে বছরের পর বছর বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়, যার ফলে পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানে সড়কটির দ্রুত পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী, যাঁরা স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানাগেছে, রোড আইডি-২৮৭০৪৪১৬২-এর আওতাধীন সড়কটি শ্রীউলা ইউনিয়নের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। এখানে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচল এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন উন্নয়ন না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে কাদা জমে যায় এবং যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জরুরী রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোও দুরূহ হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সড়কটি পাকাকরণ করা হলে এটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, বরং কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত এবং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিগত সময়ে শ্রীউলা ইউনিয়নে কাগজে-কলমে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে গেছে, তবে জনগুরুত্বপূর্ণ ৬টি সড়কের ৩৫ কিমি রাস্তা কাচা থাকায় জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, "এটি শ্রীউলা ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। সড়কের পাশে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ, ৩টি খেয়াঘাট এবং ৫০ থেকে ৬০টি মুরগির খামারসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জনস্বার্থ বিবেচনায় সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত পাকাকরণের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্যের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করছি।"
শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান দীপঙ্কর বাছাড় দিপু বলেছেন, "সড়কটি পাকা হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে। দ্রুত বাস্তবায়নে সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।" অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে সড়কটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাকাকরণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের বিশ্বাস, সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের উদ্যোগে সড়কটির পাকাকরণ হলে শ্রীউলা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
খুলনার রূপসা এলাকায় একটি বাস শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ৮ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোনো সন্ধান এখনও পর্যন্ত মেলেনি। এই ঘটনায় রূপসা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। নিখোঁজের স্ত্রী উর্মি বেগম এই অভিযোগটি গত বুধবার (২২ জুলাই) দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগে বলা আছে যে, রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের রামনগর অচিনতলা মাদ্রাসা এলাকার সোরহাব খানের ছেলে হিরু খান (২৮) গত ১৬ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৫ টায় তার নিজ বাসা হতে বাহির হয়ে যায়। তারপর থেকে সে এখনো বাড়ি ফেরেনি। হিরু খান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার স্ত্রী উর্মি বেগম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একত্রিত হয়ে আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নিখোঁজ হিরুর ১০ দিন আগে প্রতিবেশী অন্তু (২৬) এবং তার বড় ভাইয়ের সাথে হিরুর সামান্য বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ হয়েছিল। এতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকিও প্রদান করা হয়েছিল। এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবারের এই ধারণা রয়েছে যে, তাদের নিখোঁজের পেছনে কার্যক্রম থাকতে পারে। বাস শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার অবুজ দুই ছেলে জুনায়েদ (৫) ও রাব্বি (৩) সহ অসহায় স্ত্রী দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা মানবতার জীবনযাপন করছেন। এই ঘটনায় প্রতিকার দাবি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। রূপসা থানার এস আই নুর আলম মুন্সি বলেন, "রূপসা থানায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে নিখোঁজ হিরু খানের সাথে বাস স্টাফদের মধ্যে বিভিন্ন দফায় কলহ-বিবাদ ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার জন্য জরিমানা হিসেবে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছিল নিখোঁজ হিরুর স্ত্রী উর্মি বেগমকে। এই কারণে উর্মি বেগম মনে করছেন যে, নিখোঁজের বিষয়ে বাস স্টাফদেরও হাত থাকতে পারে। সাংবাদিকদের সামনে উনি এ সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ