বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৬ পি.এম
বর্তমানে দাম্পত্য সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত সমস্যা হলো পরকীয়া। অনেক সময় সুখী দাম্পত্যেও তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি সম্পর্কের মধ্যে সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তবে পরকীয়া ঘটলে শুধুমাত্র একজনকে দায়ী করে বিষয়টির ব্যাখ্যা করা সবসময় সহজ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে দূরত্ব, আবেগগত অপূর্ণতা, ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি, সুযোগ এবং ব্যক্তির নিজস্ব সিদ্ধান্ত সবকিছুই এ ধরনের ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে।
পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে তাই নিজের আচরণ, আবেগ ও সম্পর্কের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে নিয়ে যাওয়া দুটি ভিন্ন বিষয়। সিদ্ধান্তের জায়গাতেই সচেতন হওয়ার সুযোগ থাকে।
ছোট গোপনীয়তা থেকেই শুরু হতে পারে ঘনিষ্ঠতা। পরকীয়া অনেক সময় হঠাৎ করে তৈরি হয় না। পরিচিত কারও সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নেওয়া কিংবা একসঙ্গে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হতে পারে। শুরুতে বিষয়টি স্বাভাবিক বন্ধুত্ব মনে হলেও একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নিজের আবেগ, সমস্যা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বেশি ভাগ করে নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
সমস্যা আরও বাড়ে যখন এ ধরনের যোগাযোগ সঙ্গীর কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা শুরু হয়। ফোনের চ্যাট মুছে ফেলা, কলের তথ্য লুকানো কিংবা ‘জানলে অযথা সমস্যা হবে’ এমন চিন্তা করে সত্য গোপন করা সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে সতর্ক হওয়ার সংকেত হতে পারে।
দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানে তৃতীয় ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া উচিত নয়। দাম্পত্য জীবনে মনোমালিন্য, একাকিত্ব কিংবা মানসিক দূরত্ব তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। সঙ্গী সময় দিচ্ছেন না, কথা শুনছেন না বা নিজের অনুভূতি বুঝতে পারছেন না এমন অভিজ্ঞতা থেকেও বাইরের কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।
তবে দাম্পত্যের সমস্যা সমাধানের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে বেছে নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে সঙ্গীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, নিজের প্রয়োজন ও কষ্ট স্পষ্টভাবে জানানো এবং প্রয়োজন হলে দাম্পত্য কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া তুলনামূলকভাবে কার্যকর পথ হতে পারে।
‘শুধু বন্ধুত্ব’ কখন সীমা ছাড়াচ্ছে?
কর্মক্ষেত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা পুরোনো বন্ধুত্বের সূত্রে অন্য কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে নিজের কাছে কিছু প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।
এই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি কি সঙ্গীর কাছ থেকে লুকানো হচ্ছে? তার মেসেজের জন্য কি অস্বাভাবিকভাবে অপেক্ষা করা হচ্ছে? সঙ্গীর চেয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কি নিজের সমস্যা বেশি ভাগ করে নেওয়া হচ্ছে? তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তৈরি করতে কি অজুহাত খোঁজা হচ্ছে?
এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর বারবার ‘হ্যাঁ’ হলে সম্পর্কটির সীমারেখা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
ব্যক্তিগত চ্যাট ও একান্ত সময়েও সতর্কতা জরুরি। ডিজিটাল যোগাযোগের সহজলভ্যতায় মানুষের মধ্যে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হচ্ছে। মেসেজ, ভিডিও কল কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত কথাবার্তা থেকেও আবেগগত সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে গভীর রাতে ব্যক্তিগত চ্যাট, ইঙ্গিতপূর্ণ কথাবার্তা কিংবা এমন ছবি-ভিডিও আদান-প্রদান, যা নিজের সঙ্গীর সামনে স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব নয় এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত যোগাযোগ সীমিত করা কিংবা এমন পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা অনেক সময় সম্পর্কের সীমারেখা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
একটি সহজ নীতি হতে পারে যে কাজটি সঙ্গীর সামনে করতে অস্বস্তি হবে, সেটি গোপনে করার আগে থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা।
আকর্ষণ তৈরি হলেই সম্পর্কে জড়াতে হবে না। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকা অবস্থায় অন্য কারও প্রতি সাময়িক আকর্ষণ তৈরি হতে পারে। তবে আকর্ষণ অনুভব করা এবং সেই আকর্ষণকে সম্পর্কের দিকে এগিয়ে নেওয়া এক বিষয় নয়।
কোনো ব্যক্তির প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, একান্তে দেখা করা এড়িয়ে চলা, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কমিয়ে দেওয়া এবং নিজের দাম্পত্যের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ অনুভূতিকে অস্বীকার করার চেয়ে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দাম্পত্য সম্পর্কেও সময় দেওয়া প্রয়োজন
অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হলেও দুজনের কেউই সেটি নিয়ে কার্যকরভাবে কাজ করেন না। একসঙ্গে খাওয়া, কথা বলা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মতো বিষয়গুলো দাম্পত্যের ঘনিষ্ঠতা ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সম্পর্কের মধ্যে নির্যাতন, জোরজবরদস্তি, ভয় কিংবা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
আগে থেকেই নির্ধারণ করুন নিজের সীমারেখা। পরকীয়া এড়াতে শুধু ‘আমি কখনো এতে জড়াব না’ এমন সিদ্ধান্ত যথেষ্ট নাও হতে পারে। বরং কার সঙ্গে কতটা ব্যক্তিগত হওয়া যাবে, কোন ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলতে হবে এবং দাম্পত্যে সমস্যা হলে কার সঙ্গে কীভাবে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে এসব বিষয়ে নিজের সীমারেখা আগে থেকেই স্পষ্ট রাখা প্রয়োজন।
পরকীয়াকে শুধু একজনের ‘ভুল’ হিসেবে দেখলে দাম্পত্য সম্পর্কের জটিল বাস্তবতা অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তবে নিজের সিদ্ধান্ত, গোপনীয়তা ও আচরণের দায়িত্ব প্রত্যেক ব্যক্তিরই রয়েছে। সম্পর্কের বাইরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হলেই তাতে জড়িয়ে পড়তে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সচেতনভাবে দূরত্ব বজায় রাখা, সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার মাধ্যমে অনেক পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান দেখাশোনার জন্য অভিভাবকদের ঘরে থাকার সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বছরে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে। তবে, এই প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে কোন পরিবার কতটা উপকৃত হবে এবং কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছেড়ে সন্তান দেখাশোনায় থাকবেন, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয়ের পর সন্তান দেখাশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য অন্যতম বড় ব্যয়। বিশেষ করে, যখন স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করেন, তখন শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র বা ব্যক্তিগত পরিচর্যাকারীর জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। তবে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সব পরিবারের জন্য সহজ নয়। কারণ বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, অবসরকালীন সঞ্চয় ও অন্যান্য চাকরির সুবিধাও পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কী থাকছে প্রস্তাবে
প্রস্তাব অনুযায়ী, যোগ্য পরিবার প্রতি সন্তান বছরে প্রায় ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত শিশু পরিচর্যার সহায়তা পেতে পারে। এতে বিবাহিত দম্পতির একজন নির্দিষ্ট সময় চাকরি করবেন এবং অন্যজন সন্তানের যত্ন নিতে ঘরে থাকবেন—এমন পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। পরিবারের আয়ও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হতে পারে।
তবে, কারা এই সহায়তা পাবেন, কীভাবে অর্থ দেওয়া হবে এবং এর চূড়ান্ত শর্ত কী হবে—এসব এখনো নির্ধারিত হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা সহায়তা তহবিলের আওতা পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কতটা লাভ
মার্কিন পরিবারের জন্য বছরে ৯ হাজার ডলার সহায়তা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে পরিবারের আয়, সন্তানের সংখ্যা এবং শিশু পরিচর্যার খরচের ওপর। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ণকালীন কর্মরত মায়েদের মধ্যম বার্ষিক আয় প্রায় ৬৫ হাজার ডলার। কর দেওয়ার পর অঙ্গরাজ্য ও ব্যক্তিগত কর পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই আয় কমে প্রায় ৫২ হাজার ডলারে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, একটি শিশুর শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক খরচ প্রায় ১৩ হাজার ডলার হলে, শুধুমাত্র এই খরচের সঙ্গে বেতনের তুলনা করে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সব পরিবারের জন্য লাভজনক নাও হতে পারে। কারণ চাকরি ছাড়লে বেতনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধাও হারাতে হতে পারে।
তবে একাধিক ছোট সন্তান থাকা পরিবারের ক্ষেত্রে হিসাব ভিন্ন হতে পারে। গেটিসবার্গ কলেজের অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক ব্রেন্ডন কাশিং-ড্যানিয়েলস নিউজউইককে বলেন, "কয়েকটি ছোট সন্তান থাকা পরিবারের জন্য একজন অভিভাবকের চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকার সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।"
তিনি মিসিসিপির একটি পরিবারের উদাহরণ দেন। ধরা যাক, পরিবারের একজনের বার্ষিক আয় ৮৫ হাজার ডলার এবং অন্যজনের আয় ৫০ হাজার ডলার। তিন সন্তানের জন্য বছরে প্রায় ৩০ হাজার ডলার শিশু পরিচর্যা খরচ হলে, একজন অভিভাবক চাকরি ছেড়ে ঘরে থাকলে কর সাশ্রয়ের পাশাপাশি তিন সন্তানের জন্য মোট ২৭ হাজার ডলার সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্য দেশেও আছে এমন ব্যবস্থা
শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান দেখাশোনা করা অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশে রয়েছে। ফিনল্যান্ডে তিন বছরের কম বয়সী সন্তানকে সরকারি দিবাযত্ন কেন্দ্রে না পাঠানো পরিবারকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। মূল ভাতার পরিমাণ ৩৭৭ দশমিক ৬৮ ইউরো। অতিরিক্ত প্রতিটি সন্তানের জন্য আরও ১১৩ দশমিক ০৭ ইউরো দেওয়া হয়।
হাঙ্গেরিতেও নির্দিষ্ট শর্তে সন্তানকে বাড়িতে রাখার জন্য অভিভাবকেরা সহায়তা পেতে পারেন। দুই বছর বয়স পর্যন্ত সন্তানের ক্ষেত্রে একজন অভিভাবক তার বেতনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পেতে পারেন। এরপর সন্তান তিন বছর বয়সে পৌঁছানোর পর্যন্ত মাসিক সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ৫০০ হাঙ্গেরীয় মুদ্রা দেওয়া হতে পারে।
প্রস্তাব নিয়ে মতভেদ
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও একমত দেখা যায়নি। রক্ষণশীল ভাষ্যকার মাইকেল নোলস এটিকে ট্রাম্পের অন্যতম সেরা নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রক্ষণশীল সংগঠন টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএর মুখপাত্র অ্যান্ড্রু কোলভেটও প্রস্তাবটির প্রশংসা করেছেন।
তবে সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনের মতে, ৯ হাজার ডলার যথেষ্ট নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অর্থ আরও বাড়ানোর পাশাপাশি যারা সন্তানদের বাড়িতে রেখে পড়াশোনা করান, তাদের বিভিন্ন কর থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে শিক্ষা বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অ্যাঞ্জেলা মরাবিতো প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, কর্মজীবী মায়েদের কাছ থেকে কর নিয়ে অন্যদের ঘরে থাকার জীবনযাপনকে অর্থায়ন করা হলে তা কর্মজীবী নারীদের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।
সরকারি তহবিল নিয়েও প্রশ্ন
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিশু পরিচর্যা ও উন্নয়ন তহবিলের অর্থ নতুনভাবে বণ্টন করতে হতে পারে। এই তহবিলের মাধ্যমে অঙ্গরাজ্যগুলো নিম্নআয়ের পরিবারকে শিশু পরিচর্যার খরচে সহায়তা দেয়। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অন ইকুয়াল অপরচুনিটি বলেছে, বর্তমানে যারা এই তহবিলের সহায়তা পাচ্ছেন, তাদের জন্য বরাদ্দ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বর্তমানে শিশু পরিচর্যা সহায়তা পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার।
শুধু বেতন নয়, আরও বিষয় বিবেচনায়
একজন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত শুধু শিশু পরিচর্যার খরচ ও বেতনের তুলনার ওপর নির্ভর করে না। চাকরি ছাড়লে দীর্ঘমেয়াদে অবসরকালীন সঞ্চয় বা ৪০১(কে) সুবিধা হারানোর সম্ভাবনাও থাকে। সন্তান স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতেও অনেকের সমস্যা হতে পারে।
স্বাস্থ্যবিমাও পরিবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো পরিবারের একজনের বেতন বেশি হলেও অন্যজনের চাকরিতে তুলনামূলক ভালো বা কম খরচের স্বাস্থ্যবিমা থাকতে পারে। ফলে কোন অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা নির্ধারণে পরিবারগুলোকে একাধিক আর্থিক ও সামাজিক বিষয় বিবেচনা করতে হবে।
২০২৬ সালের মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসন পরিবার ও শিশু পরিচর্যা নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল। হোয়াইট হাউস তখন শিশু পরিচর্যার সুযোগ ও সামর্থ্য বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা অভিভাবকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির কথা জানায়।
তবে বছরে ৯ হাজার ডলার করে সহায়তার প্রস্তাবের চূড়ান্ত কাঠামো, অর্থের উৎস এবং কারা এর আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত চূড়ান্ত হয়নি। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে কত পরিবার এতে উপকৃত হবে বা কতজন কর্মজীবী অভিভাবক চাকরি ছাড়বেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
সূত্র: নিউজউইক, হোয়াইট হাউস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজে সস্ত্রীক অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে গিয়ে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সম্মানে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, তুরস্ক বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ, রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং সামরিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ অধিবেশনের বিভিন্ন বৈঠক এবং সাইডলাইন আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। জাতিসংঘও রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শিক্ষা, ব্যবসা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো এসব আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি গভীর নিম্নচাপ অবস্থান করছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এটি রাতে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য প্রকাশিত হয়।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সকাল ৬টায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭২০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ রাতের মধ্যে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বেশ উত্তাল রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ‘হ্যাকার সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা (৩২) এবং তার সহযোগীসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়ানোর জন্য ওহিদুল নিজের বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। লুকিয়ে থাকার জন্য তিনি বাড়ির একটি কবুতরের ঘর ব্যবহার করতেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড। পুলিশ জানায়, এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওহিদুল মোল্লা লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, তিনি এলাকায় ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্য গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়িকে নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রেখেছিলেন। বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই তা বুঝতে পারতেন তিনি।
তবে তার থাকার জায়গার ব্যবস্থা ছিল সবচেয়ে অদ্ভুত। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ঘর। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও ভেতরে ছিল ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ছিল। পুলিশ বলছে, ওই ঘরে বসেই সাইবার অপরাধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।
অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিমগুলো আলাদা করে একটি সাদা কাগজে ছক আকারে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হতো, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
ওসি আরও বলেন, ওহিদুল গ্রেপ্তার এড়াতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি স্থাপন এবং কবুতরের ঘরের ভেতরে থাকার ব্যবস্থাও তারই অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ