সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:১৭ পি.এম
বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি হিসেবে ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
তিনি বহুদলীয় আমেরিকান ককাসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এই মন্তব্য করেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তার মাধ্যমে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি নিশ্চিত করেন।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বার্তায় বহুদলীয় আমেরিকান ককাসের প্রতিনিধিদের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আলোচনা ছিল অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। তিনি ভবিষ্যৎমুখী আইন কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করেন, আধুনিক ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন এবং অগ্রগতির ধারাকে আরও গতিশীল করবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ব্যালন ডি’অর নিয়ে উত্তেজনা বর্তমানে তুঙ্গে অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে লামিন ইয়ামাল এবং কিলিয়ান এমবাপের মধ্যে পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন ইয়ামাল, যিনি জানাচ্ছেন যে, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য তিনি নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য মনে করছেন।
মুভিস্টারের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ইউনিভার্সো ভালদানো’তে ইয়ামালের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। যদিও পুরো সাক্ষাৎকারটি আগামী শুক্রবার প্রচারিত হবে, তবুও আগেই প্রকাশিত অংশগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘স্পোর্ট’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের পছন্দের কথা বলতে গিয়ে বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা বলেছেন, "আমি ব্যালন ডি’অর কাকে দেব? সত্যি বলতে, আমার মনে হয় দুজন খেলোয়াড় আছে, যারা বিশ্বসেরা। তবে এই বছর আমি এটি পাওয়ার যোগ্য।"
বিশ্বসেরার সেই দুজন খেলোয়াড় কারা, সেই প্রশ্নের উত্তরও ইয়ামাল এড়িয়ে যাননি। তিনি বলেন, "আমার কাছে কিলিয়ান এমবাপে ও আমি সেরা দুই খেলোয়াড়। যারা ম্যাচ দেখে, তারা এটা ভালোভাবেই জানে।"
এর কয়েকদিন আগে এমবাপে নিজেকে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। ব্যক্তিগত পুরস্কার হওয়ায় দলীয় সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে ফরাসি তারকা বলেছিলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি এটি জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য, একই সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যও।"
এমবাপে তার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে তিনি এবারও নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
ব্যালন ডি’অরের মাপকাঠিতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও গুরুত্বপূর্ণ। সেই হিসেবে এবারের প্রতিযোগিতায় ইয়ামাল কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারেন। দুজনের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নজরকাড়া হলেও সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি করেছে জাতীয় দলের সাফল্য। বিশ্বকাপে এমবাপের ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে ইয়ামালের স্পেন এবং তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসর। প্রথমবারের বিজয়ী স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউসকে সম্মান জানাতে এবার লন্ডনে আয়োজন করা হচ্ছে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। ইতোমধ্যে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট শেষ পর্যন্ত কার মাথায় ওঠে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকায় পদ্মার তীব্র স্রোত ও ভয়াবহ ভাঙনের কারণে একটি মসজিদ সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মুসল্লিরা ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করেন। পরবর্তীতে ফজরের সময় গিয়ে তারা দেখতে পান, মসজিদটির সেখানে কোনো চিহ্নই অবশিষ্ট নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি, রাকিরকান্দি ও পূর্বরাখী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পাড়জুড়ে তীব্র ভাঙন চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পূর্বেই বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। তবে কয়েক দিনের প্রবল স্রোতে সেই প্রতিরোধব্যবস্থার একটি বড় অংশও ধসে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা থামায়নি, কিন্তু নদীর স্রোত এতটাই তীব্র যে, প্রতিরোধব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থার মধ্যেই রাকিরকান্দি এলাকার মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার ইমাম আবু হানিফা জামে মসজিদটি শেষ পর্যন্ত পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।
মাদরাসার ছাত্র সোহেল জানান, "আমরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে মসজিদে এশার নামাজ পড়ে মাদরাসার ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলাম। পরে ফজর নামাজ পড়তে এসে দেখি মসজিদটি নেই, নদীতে ভেঙে গেছে। এখন আমরা খোলা মাঠে নামাজ আদায় করছি।"
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান দুদু মন্তব্য করেন, "কিছু অসাধু ব্যক্তি ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় নদী গভীর হয়ে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।"
মাদানী কমপ্লেক্স মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মো. খালেক সাইফুল বলেন, "আমাদের এখানে ৫ বছর ধরে নদীতে কিছু না কিছু ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের মাদরাসার ১০০ শতাংশ জমি ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। অনেক দিন ধরে শুনছি এখানে স্থায়ী বাঁধ দেবে। কিন্তু পদক্ষেপ দেখছি না। মানুষের বাড়ি-ঘর, মসজিদ সব পদ্মায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে।"
শুধু সদর উপজেলা নয়, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী এলাকায়ও তীব্র নদীভাঙন চলছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্রোতের কারণে ছোট নৌযান চলাচলেও মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
স্থানীয় মো. হোসেন লিটন খান বলেন, "আমরা এই এলাকার লোকজন পদ্মার করাল গ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছিনা। আমাদের এখানকার মাদানী কমপ্লেক্সের মসজিদসহ ভালো একটা অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে প্রতি বছর মাহফিলের সময় অনেক লোক হয়। মাহফিল করার যে মাঠ ছিলো, সেটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাদানী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠানটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের আকুল আবেদন প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এখানে একটি স্থায়ী বাধ নির্মাণ করা হোক।"
স্থানীয় জামাল জানান, "নদীটা ছোট ছিল। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে আশে-পাশের অনেকগুলো বাড়িঘর নদীতে চলে গেছে। এখানে মানুষের জীবনের কোনো নিশ্চয়তা নাই। অনেকে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এখানে একটি মাদরাসায় এলাকার ছাত্ররা লেখাপড়া করে, সেই মাদরাসার মসজিদটিও ভেঙে গেলো।"
এদিকে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাঙন কবলিত সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি এলাকা পরিদর্শন করেছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন ও মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী। এ সময় তারা বালুর বস্তা ফেলে ভাঙনরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক নুর মহল আশরাফী বলেন, "এই এলাকার ভাঙনরোধে আমরা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ভাঙনের হুমকিতে থাকা ৪০০ মিটার এলাকা নিয়ে কাজ করছি আমরা।"
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি কামরুজ্জামান রতন বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। তীব্র স্রোতে একটি মসজিদ পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনরোধে আমরা আন্তরিক। সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, "পদ্মা নদীতে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনরোধে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করে যাচ্ছি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হওয়ার কয়েক দিন পর দেশে ফিরে এসেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই তথ্য জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাঁধন বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, যারা আক্রমণটা চালাচ্ছে, তারা নিজেদের একটা সমস্যার মধ্যে ফেলছে। আক্রমণকারীরা মনে করছে তারা পার পেয়ে যাবে, কিন্তু আজকে তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। এমন নয় যে শুধু দূর থেকে গালি দিয়েছে, স্লোগান দিয়েছে, পানি মেরেছে। তারা আমার গায়ে হাত তুলেছে। তাদের এই বর্বরতা বন্ধ হতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, তারা তাদের স্থানটাকে আসলে অনিরাপদ করছে।"
ভেনিসে হামলার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বাঁধন বলেন, "প্রবাসী ভাইয়েরা আমার সঙ্গে বর্বরতা করেছে এবং আমাকে খুবই জঘন্যভাবে আক্রমণ করেছে। এটার কারণে আমাদের দেশের নাম আসলে বিদেশের মাটিতে কিন্তু ক্ষুণ্নই হলো। বিদেশিরা ভাববে, আমরা হয়তো জাতিগতভাবে সারাক্ষণ মারামারি করি। যে যেখানে যাচ্ছে, সেখানেই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সেটা তো আসলে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "আমি একটা কথা বলতে চাই, যাঁরা এই দলের সাপোর্টার, তাদের জন্য আমার একটাই কথা, আপনারা দলকে ভালোবাসতে পারেন, সাপোর্ট করতে পারেন, কিন্তু আপনারা দলকানা হইয়েন না। আজকে আপনার বিচার হলে আপনার পরিবার সাফার করবে। বড় বড় নেতা যাঁরা আছেন, আরামে দেশে–বিদেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যাঁরা বিদেশের মাটিতে বসে অডিও বার্তা, ভিডিও বার্তা দিয়ে আপনাদের উসকে দিচ্ছেন, তাঁদের জীবনটা কিন্তু আপনাদের মতো নয়। আপনারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিদেশ থেকে টাকাগুলো বাংলাদেশে পাঠান। আপনারা প্লিজ এটা কইরেন না। এটা আমার রিকোয়েস্ট। আপনারা যেটা করেছেন, সেটা খুবই অন্যায় হয়েছে।"
আরেক প্রশ্নের জবাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশ্যে বাঁধন বলেন, "নেতাদের প্রতি একটাই অনুরোধ করব, আপনারা একটি বড় দল। সাময়িকভাবে হয়তো আপনাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু আপনারা তো ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন। আপনারা কী ধরনের রাজনীতি করবেন, সেটার কিন্তু একটা রূপরেখা আপনারা তৈরি করছেন। আপনারা এমন রূপরেখা তৈরি কইরেন না, যেটার জন্য ভবিষ্যতে আপনাদের লজ্জিত হতে হবে।"
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে নিজের টিম নিয়েও অভিযোগ করেন বাঁধন। তিনি জানান, "সবাই তাতে সহযোগিতা করলেও তার টিম তাকে ‘ডিজওন’ করেছে। টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকেও তাকে বাদ দিয়েছে।"
বাঁধনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন।
৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়। প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নেহা ব্লান্ট প্রযুক্তি ও তরুণ ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে পানি অপচয় রোধে একটি নজির স্থাপন করেছেন। তিনি তৈরি করেছেন ‘ওয়াটার সেভার’ নামের একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, যা বিশ্বজুড়ে লাখো পরিবারকে পানির অপচয় কমাতে এবং নিয়মিত সাশ্রয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করছে।
নিজের উদ্ভাবিত অ্যাপ এবং ‘ওয়াটার সেভার্স’ প্রচারণার মাধ্যমে নেহা ১০ লাখের বেশি মানুষের কাছে পানি সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন। তার এই উদ্যোগের ফলে প্রায় ১ লাখ মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন, যার ফলে আনুমানিক ২ কোটি গ্যালন পানি সাশ্রয় হয়েছে বলে জানায় পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন অ্যাকশন ফর নেচার।
পরিবেশ সুরক্ষায় অসাধারণ এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নেহা ২০২৬ সালের ‘আন্তর্জাতিক ইয়াং ইকো-হিরো অ্যাওয়ার্ডে’ প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভাগে ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্যাটাগরিতে যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
উদ্যোগটির পেছনের গল্পটি বেশ সাধারণ। স্থানীয় মিউনিসিপ্যাল ইউটিলিটিজের সতর্কবার্তায় নেহা লক্ষ্য করেন যে, একটি মাত্র লিক হওয়া কল থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার গ্যালন পানি অপচয় হতে পারে। এই তথ্যটি তাকে প্রযুক্তির সাহায্যে দৈনন্দিন পানি ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখার অ্যাপ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে। টানা সাত মাস প্রোগ্রামিং করে মাইএসকিউএল কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তিনি এই ‘ওয়াটার সেভার’ ওয়েব অ্যাপটি তৈরি করেন।
ছোটবেলা থেকেই অনন্য মেধার স্বাক্ষর রাখা নেহা মাত্র তিন বছর বয়স থেকে কোডিং শিখছেন। ইতিমধ্যে ১৩ বছর বয়সেই তিনি ২২টি কলেজ ক্রেডিট অর্জন করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় কাউন্টির সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে এপি ক্যালকুলাস কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। অ্যাপ উদ্ভাবন ছাড়াও তিনি সুবিধাবঞ্চিত কিশোরীদের বিনামূল্যে ২০০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কোডিং শিখিয়েছেন।
বর্তমানে নেহা স্থানীয় পৌরসভার সঙ্গে মিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারঅ্যাকটিভ চার্টসংবলিত ‘ওয়াটার সেভার ২.০’ সংস্করণের কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সাইবার নিরাপত্তায় উচ্চশিক্ষা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে এই উদীয়মান তরুণ উদ্ভাবকের।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ