০৯:০৪ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দরের প্রশাসনিক এলাকায় অবস্থিত আবাসিক ভবন কম্পাউন্ডের দুইটি সীমানা দেয়াল আবার ধসে পড়েছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ ফুট। এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে, যখন আবাসিক এলাকার উত্তর পাশে ছ’আনি খালের মধ্যে উল্লিখিত দেয়াল দুটি ধসে যায়। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এলাকার মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে দুর্নীতির কারণে এমনটি ঘটেছে। আশপাশের বাসীন্দাদের মতে, সীমানা দেয়াল নির্মাণে ব্যবহৃত নিম্নমানের সামগ্রীই এই অবস্থা তৈরি করেছে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই একই এলাকার প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি সীমানা দেয়াল খালের দিকে হেলে পড়ে গেছে। একই বছরের ৩০ জুন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে আরও একটি সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে এবং তখন তিনটি দেয়াল হেলে পড়েছিল। স্থানীয় জনগণের আশঙ্কা হচ্ছে, বর্তমানে তিন হাজার ফুট দীর্ঘ গাইড ওয়ালও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তিন বছরের মধ্যে ফের সীমানা দেয়াল ধসে পড়ার ফলে স্থানীয় জনগণ তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে এবিএম ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন হাজার ফুট দীর্ঘ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্দরের কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে নিম্নমানের এবং অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছেন যে বিগত সরকারের সময় একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট এখানে সকল ধরনের উন্নয়ন কাজ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং এর সঙ্গে বন্দরের প্রকৌশল বিভাগের একটি চক্র জড়িয়ে আছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মো. আজিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি পূরকৌশল বিভাগে কথা বলেছি। পূরকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে দেয়ালের নীচের মাটি সরে গিয়ে এটা ঘটেছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে এটা ঠিকাদার কর্তৃক দ্রুত মেরামত করা হবে।’ তিনি পায়রা বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফা আশিক আলির সঙ্গে কথা বলে এই মতামত জানান। এবিষয়ে এবিএম ওয়াটার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন