ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

. যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরমাণু প্রযুক্তি পাচ্ছে সৌদি আরব


. যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পরমাণু প্রযুক্তি পাচ্ছে সৌদি আরব

ইরানের পরমাণু কর্মসূচির চরম বিরোধিতা করলেও যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে পরমাণু প্রযুক্তি দিচ্ছে। রিয়াদকে ওয়াশিংটন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বুধবার আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সূত্রগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে, প্রস্তাবিত চুক্তির মেয়াদ হবে প্রায় ৩০ বছর। এই চুক্তির অধীনে সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলো যুক্ত হবে। যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার পরে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

চুক্তিটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য প্রেরণ করা হবে। তবে সেখানে এটি বাধার সম্মুখীন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক আইনপ্রণেতা উদ্বিগ্ন, সৌদি আরবকে নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।

সৌদি আরব আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএআইএ)-এর সদস্য। সংস্থাটি শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির তদারকি করে এবং গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম আছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করে।

তবে সূত্রগুলোর একজন বলেছেন, এই চুক্তিতে আইএইএর ‘অতিরিক্ত প্রোটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। এই প্রোটোকল কার্যকর হলে আইএইএ আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও যাচাইয়ের ক্ষমতা পাবে।

চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণা এমন একটি সময় আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব দাবি করছে, তাদের অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধ্বংস করা।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ইরান বরাবরই দাবি করেছে, তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে শান্তিপূর্ণ। যদিও অতীতে দেশটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার দাবি করেছিল। চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং রিয়াদের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির জন্য চেষ্টা করেছিলেন।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের জন্য সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে দেশটির জন্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পথ প্রশস্ত হয়ে যেতে পারে। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তখন সৌদি আরবও সেই পথে হাঁটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করলেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি সম্ভব নয়; এজন্য আরও জটিল প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তবুও সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা অর্জন অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি প্রস্তুত করে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সৌদি আরব সফর করে দেশটির বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ শিল্প গড়ার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে ইসরাইলের হামলার পর সৌদি আরব ও পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজন হলে সৌদি আরবের জন্য পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। এই মন্তব্যকে অনেকে ইসরায়েলের প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে দেশটি নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করেনি।

পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ বিশেষজ্ঞরা এ মডেলটিকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদল দেশের মানুষের সেবায় কাজ করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৩৩ পি.এম


ছাত্রদল দেশের মানুষের সেবায় কাজ করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক

দীর্ঘ ১৭ বছরের অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ছাত্রদল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে, এরকম মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথে ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম চত্বর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

প্রশাসক আরও বলেন, আজকের ছাত্রদল একদিনে তৈরী হয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছরে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের আরও অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। বিগত সরকারের সময়ে নির্যাতনের কারণে বহু ছাত্রদল নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের অবদান জাতির স্মরণে রাখা উচিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিগত সরকারের আমলে আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশ নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ সকল সময় স্মরণ করা হবে।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যেভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা সে ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। শহীদ ওয়াসিম আকরাম চত্বর উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তার আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারবে এবং তাকে স্মরণ করতে পারবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেছেন, ছাত্রদল সবসময় দেশের মানুষের কল্যাণে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অধ্যক্ষ, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পর্যয়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসা দেখার অজুহাতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, জিম্মি করে ডাকাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


বাসা দেখার অজুহাতে ফ্ল্যাটে প্রবেশ, জিম্মি করে ডাকাতি

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার নাম করে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে তিন নারীকে বেঁধে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় লুণ্ঠিত নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার ও এক গৃহবধূসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কামরাঙ্গীরচর থানা।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে লুট হওয়া ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের একই ভবনের সপ্তম তলার বাসিন্দা জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭) ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী। ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে তিনি ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দিতে তাদের বাসায় যান। এমনকি ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষীও হন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিট থেকে ৭টা ৫০ মিনিটের মধ্যে কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকার রক্সি গলি সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। পরে সেখানে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, ঘটনার পর তদন্তে নেমে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে রিপন মিয়াকে ১ লাখ টাকা লুটের টাকা উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে আরও ১ লাখ টাকা ও লুট হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা।

পুলিশের ভাষ্য, জিয়াসমিনের ভুক্তভোগীদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এ কারণে ওই বাসায় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা থাকার বিষয়টি তিনি জানতেন। পরে পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি ডাকাত দলের সদস্যদের ভবনে প্রবেশ এবং পরে নিরাপদে বের হতে সহযোগিতা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনে অভিযান চালিয়ে জিয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম জিয়ার সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্ক, তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৪৯ পি.এম


বেগম জিয়ার সঙ্গে আচরণ নিয়ে বিতর্ক, তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজিকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর। তাদের মধ্যে একজন ডিএমপিতে কর্মরত, একজন সিআইডিতে এবং অপরজন নৌপুলিশে কর্মরত। জানা যাচ্ছে, আজ অথবা কাল তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

বুধবার (২২ জুলাই) এই তথ্য দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগে সরকার আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বাধ্যতামূলক অবসরের প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নথিতে তাদেরকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন লাভ করেছেন।

অন্যদিকে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে, পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। বিশেষত সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনেন।

জেসমিনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে আলোচিত। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করেছেন এবং তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।

এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেছেন, 'আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় সেখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময়, তাই একটি চক্র ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।'

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পরে সাবেক বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির দ্বিতীয় সিটে বসেছিলেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার বিষয়ে সেসময় প্রশংসা পেয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন, কিন্তু বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বর একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।

শনাক্তকৃত বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন, সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাদ পড়েননি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে রাজাপুরের চিত্র, সুফল পাচ্ছেন ২৪ হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

১১:৫৪ পি.এম


খাল পুনঃখননে বদলে যাচ্ছে রাজাপুরের চিত্র, সুফল পাচ্ছেন ২৪ হাজার মানুষ

এক সময় পলি ও আবর্জনায় ভরাট হয়ে গিয়েছিল ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল। ফলে পানিপ্রবাহ হারানোর কারণে বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হতে যেতো, আবার শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত তীব্র সেচ সংকট। কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই দুর্ভোগ কাটিয়ে এখন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে রাজাপুর। সরকারের উদ্যোগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের ফলে ফিরেছে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ। এর ফলে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সরাসরি উপকৃত হবেন ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানাচ্ছে, সরকারের 'সারা দেশের পুকুর-খাল উন্নয়ন (আইপিসিপি)' এবং 'জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা' প্রকল্পের আওতায় এসব খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।

এর মাঝে শুক্তাগড় ইউনিয়নের ধানসিঁড়ি নদী থেকে পিংড়ি হয়ে কাঠাখালী পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৮২ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। আরও উল্লেখযোগ্য, সাতুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর তারাবুনিয়ার ৮০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ১৬ লাখ টাকা, যার সুফল পাবেন সাড়ে ৩ হাজার মানুষ।

এছাড়া রাজাপুর সদর ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এখানে উপকৃত হবেন প্রায় ১২ হাজার ৫০ জন। তুলাতলি এলাকার ২ হাজার ৯০০ মিটার খাল পুনঃখননে ব্যয় হয়েছে ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যার সুফল পাবেন আড়াই হাজার মানুষ। রাড়িবাড়ি খালের ১ হাজার ২০০ মিটার পুনঃখননে খরচ হয়েছে ১৪ লাখ ৫ হাজার টাকা। এতে উপকৃত হবেন আরও প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ।

স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, খালগুলোতে পানির প্রবাহ ফিরে আসায় সেচের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে। কৃষক রিপন সিকদার, কাদের সিকদার ও করিম বলেছেন, আগে খালে পানি না থাকায় জমিতে সেচ দিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। কিন্তু এখন সহজেই পানি পাওয়া যাবে, ফলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়বে।

শুধু কৃষি ক্ষেত্রেই নয়, খাল পুনঃখননের সুফল স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে মিলছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিখারানি, মনিকা রায় ও শেফালি বেগম জানিয়েছেন, আগে রান্না, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে পানির সংকট ছিল নিয়মিত ঘটনা। খাল পুনঃখননের পর সেই সমস্যা অনেকটা দূর হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে এলে ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ে, দেশীয় মাছের আবাসস্থল তৈরি হয়, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ হয় এবং জলাবদ্ধতা কমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও খালের দুই পাড়ে চলাচলের সুবিধা সৃষ্টি হওয়ায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত হয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় জনগণের দাবী, শুধু খাল পুনঃখনন করলেই হবে না; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আবারও পলি জমে খাল ভরাট হয়ে একই সমস্যা ফিরে আসতে পারে।

রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম মেনে খালগুলো পুনঃখনন করা হয়েছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি জানিয়েছেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।

একসময় যে খাল ছিল দুর্ভোগের প্রতীক, পুনঃখননের পর সেটিই এখন রাজাপুরের কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই খালগুলো দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%