প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
বাংলাদেশ পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজিকে শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়ার পর। তাদের মধ্যে একজন ডিএমপিতে কর্মরত, একজন সিআইডিতে এবং অপরজন নৌপুলিশে কর্মরত। জানা যাচ্ছে, আজ অথবা কাল তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) এই তথ্য দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলকে দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ আরও বিভিন্ন অভিযোগে সরকার আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
বাধ্যতামূলক অবসরের প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নথিতে তাদেরকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন লাভ করেছেন।
অন্যদিকে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা করার অভিযোগও রয়েছে, পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিন নারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তাদের হেনস্তা করা হয়েছে। বিশেষত সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা ও নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনেন।
জেসমিনের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রশ্নের ক্ষেত্রে আলোচিত। তার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সরকারি নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে পাচার করেছেন এবং তিনি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
এ বিষয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা বলেছেন, 'আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝবেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) গ্রেপ্তারের সময় সেখানে ছিলাম না। এখন পদোন্নতির সময়, তাই একটি চক্র ভিত্তিহীন খবর ছড়াচ্ছে।'
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ২০১৮ সালের অবৈধ মামলার রায় ঘোষণার পরে সাবেক বেগম খালেদা জিয়াকে জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির দ্বিতীয় সিটে বসেছিলেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার বিষয়ে সেসময় প্রশংসা পেয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত আছেন, কিন্তু বক্তব্যের জন্য তার সরকারি নম্বর একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তাকে পাওয়া যায়নি।
শনাক্তকৃত বাধ্যতামূলক অবসরের তালিকায় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন—ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন, সানা শামীনুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানও বাদ পড়েননি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন