রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ধনী ব্যক্তিদের ভোগব্যয় অব্যাহত রয়েছে। বরং, দৈনন্দিন খরচের জন্য অনেকে তাদের বিনিয়োগের অর্থ তুলে নিচ্ছেন। জেপিমরগ্যান চেজ ইনস্টিটিউটের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ২০১৫ সালে বিনিয়োগ হিসাব থেকে ব্যাংকের চলতি হিসাবে অর্থ স্থানান্তরের হার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে এই হার বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা আরও বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করতেন। ২০২৬ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি বয়সী এবং বেশি আয়ের ব্যক্তিরা বিনিয়োগের অর্থ খরচে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
মার্কিন অর্থনীতিতে ধনী মানুষের ভোগব্যয়ের প্রভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মুডিজ অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ শতাংশ মানুষ দেশের মোট ভোগব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৫ শতাংশের জন্য দায়ী। সবচেয়ে বেশি আয় করা ২০ শতাংশের অংশ প্রায় ৬০ শতাংশ। একই সময়ে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অংশ ছিল মোট ভোগব্যয়ের ৪৬ শতাংশ।
বিনিয়োগের অর্থের ওপর নির্ভরতা বাড়ার পেছনে শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময়ের মূল্যবৃদ্ধিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন পরিবার এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের নিট মূল্য ১২ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৯৫ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির বড় একটি অংশ এসেছে শেয়ারমূল্য বৃদ্ধির কারণে।
তবে, এই প্রবণতার সঙ্গে কিছু ঝুঁকিও রয়েছে। শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হলে বিনিয়োগ থেকে অর্থ তুলে খরচ করার প্রবণতা কমে যেতে পারে। ২০২২ সালে বাজারে বড় পতনের সময় এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। ফলে, মার্কিন অর্থনীতিতে ভোগব্যয় এখন আগের তুলনায় আর্থিক বাজারের ওঠানামার ওপর অধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূত্র: দ্য ইউএসএ টুডে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানি প্ল্যান্ট গাছের জনপ্রিয়তা ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বসার ঘরের কোণ, পড়ার টেবিল কিংবা ব্যালকনি, কম যত্নে এই গাছটি বেড়ে ওঠে। তবে কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন এই গাছের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’? সত্যিই কি এই গাছ বাড়িতে থাকলে বাড়ে ধন-সম্পত্তি, নাকি নামটির পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?
মানি প্ল্যান্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘Epipremnum aureum’। যদিও বিশ্বজুড়ে এটি ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামেই অধিক পরিচিত। এই নামের সঙ্গে ইতিহাস, লোকবিশ্বাস এবং গাছটির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
মানি প্ল্যান্ট নামকরণের সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি চীনা লোককথার সঙ্গে যুক্ত। কথিত আছে, এক দরিদ্র ব্যক্তি আর্থিক উন্নতির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করছিলেন। সেই সময় তিনি বনে একটি বিশেষ ধরনের গাছ খুঁজে পান। গাছটি বাড়িতে এনে যত্ন নেওয়ার পর সেটি দ্রুত বেড়ে ওঠে। পরে গাছটির চারা ও ফলন বিক্রি করে তিনি অর্থ উপার্জন করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তাঁর আর্থিক অবস্থারও উন্নতি ঘটে। এই গল্প থেকেই চীনা সংস্কৃতিতে গাছটি সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পায় বলে প্রচলিত রয়েছে।
চীনা ফেংশুই এবং ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্রেও মানি প্ল্যান্টকে শুভ বলে মনে করা হয়। ফেংশুইয়ের বিশ্বাস অনুযায়ী, এর গোলাকার ও মসৃণ পাতা অনেকটা মুদ্রার মতো দেখতে হওয়ায় এটি অর্থ ও সমৃদ্ধির প্রতীক। বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এই গাছ রাখলে ইতিবাচক শক্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বাড়ে এমন বিশ্বাসও রয়েছে।
অন্যদিকে, বাস্তু মতে মানি প্ল্যান্ট ঘরের নেতিবাচক শক্তি দূর করে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।
তবে এসব ধারণা মূলত লোকবিশ্বাস ও প্রচলিত সংস্কৃতির অংশ। বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মানি প্ল্যান্টের নাম ‘মানি প্ল্যান্ট’ হওয়ার পেছনে অর্থবৃদ্ধির কোনো প্রমাণ নেই। বরং গাছটির দ্রুত বৃদ্ধি, সহজে বংশবিস্তার এবং কম যত্নে টিকে থাকার ক্ষমতাই এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ।
অল্প আলো, সীমিত জল ও কম পরিচর্যাতেও মানি প্ল্যান্ট বেশ ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই ‘মানি প্ল্যান্ট’ নামটি শুনে ঘরে টাকা আসার নিশ্চয়তা না থাকলেও, ঘরের সৌন্দর্য ও সবুজ পরিবেশ বাড়াতে এই গাছের জুড়ি মেলা ভার।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার জাতীয় দলের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের কাছ থেকে দুই বছরের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলারের প্রস্তাব পেয়েও ৩৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার তা ফিরিয়ে দিয়েছেন।
স্যান্টনারের সামনে রয়েছে একটি ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে তিন সংস্করণের সিরিজ শুরু করবে নিউজিল্যান্ড। এরপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার টেস্টের সিরিজও রয়েছে। স্যান্টনার কেন্দ্রীয় চুক্তি ও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ধরে রাখার পরিকল্পনাও করেছেন। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি খেলতে চান। সুযোগ পেলে নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছাও রয়েছে তার।
নিউজিল্যান্ডের কোচ রব ওয়াল্টার স্যান্টনারের সিদ্ধান্তকে তার ব্যক্তিত্ব ও দলপ্রেমের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। পুরো প্রক্রিয়ার সময় স্যান্টনারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন তিনি।
নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে ওয়াল্টার বলেন, "আমার কাছে এটা একজন মানুষের চরিত্রের মাপকাঠি। অন্য কাউকে বিচার করার জন্য নয়, তবে মিচের ক্ষেত্রে দলকে সবার আগে রাখার বিষয়টি তার চরিত্রই তুলে ধরে।"
স্যান্টনারের কাছে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়কত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন ওয়াল্টার। তার মতে, দেশের নেতৃত্ব দেওয়া স্যান্টনারের কাছে বিশেষ কিছু। সামনে থাকা টেস্ট সিরিজগুলোতেও দলের হয়ে খেলার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে তার।
ওয়াল্টার বলেন, "দেশের অধিনায়কত্ব তার কাছে কী অর্থ বহন করে, সেটা আমি জানি। সামনে যে টেস্টগুলো আছে, সেগুলোর অংশ হওয়ার ইচ্ছাটাও তার প্রবল। তাই বিষয়টি কারও কাছে অবাক করার মতো হলেও আমার কাছে নয়।"
জাতীয় দলের প্রতি স্যান্টনারের এই অগ্রাধিকার নতুন নয়। এর আগেও তিনি কেন্দ্রীয় চুক্তি ও নেতৃত্বের দায়িত্ব ধরে রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুত থাকতে চান তিনি। তাই দীর্ঘ মেয়াদে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পথ বেছে নেননি।
তবে নিউজিল্যান্ডের সব ক্রিকেটার একই পথ অনুসরণ করছেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ ধরে রাখতে ভিন্ন ধরনের চুক্তি বেছে নিয়েছেন ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট, লকি ফার্গুসন, মার্ক চ্যাপম্যান ও অ্যাডাম মিলনের মতো ক্রিকেটাররা। ডেভন কনওয়ে ও ফার্গুসনও নমনীয় চুক্তির ব্যবস্থায় গেছেন।
অর্থাৎ নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটে এখন জাতীয় দলকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এবং তুলনামূলক বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার দুই ধরনের পথ খোলা রয়েছে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিস্তারকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন না ওয়াল্টার। তিনি মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন লিগে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়া তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিরই অংশ।
ওয়াল্টারের ভাষায়, "আমাদের খেলোয়াড়রা যখন স্বীকৃতি পায়, আমি খুশি হই। ক্রিকেট যেদিকে এগোচ্ছে, এটা তারই বাস্তবতা।"
তবে সবকিছুর ওপরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার আগ্রহ ধরে রাখাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন নিউজিল্যান্ডের কোচ। তার মতে, ক্রিকেটারদের দেশের হয়ে খেলার ক্ষুধা ধরে রাখতে হবে এবং এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা নিউজিল্যান্ডকে নিজেদের ঘর মনে করে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
“নীতি থেকে বাস্তব প্রয়োগ: নৌ খাতে উৎকর্ষতা অর্জন” এই প্রতিপাদ্যকে ভিত্তি করে বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পরিবেশবান্ধব এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতাসক্ষম করে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী প্রদান করেছেন।
তারা বাংলাদেশের সমুদ্র, নদী ও নৌসম্পদের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দক্ষ মানবসম্পদ, আধুনিক বন্দর, কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নৌনিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিধিবিধানের বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মেসবাহ-উল-আজিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, "নীতি, পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।" তিনি আরও বলেন, "শুধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুসমর্থন বা আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, নিরাপদ জাহাজ, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বন্দর, দক্ষ নাবিক, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং টেকসই নৌবাণিজ্যের মাধ্যমে এর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে হবে।"
মন্ত্রী বাংলাদেশের বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন, অটোমেশন, সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং পণ্য খালাসের সময় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নৌপরিবহন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফ্ল্যাগ স্টেট ও পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ এবং নিরাপত্তা ও পরিবেশগত মানের কার্যকর প্রতিপালন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, "দেশের নাবিকরা বাংলাদেশের সবচেয়ে মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ এবং বহির্বিশ্বে দেশের শক্তিশালী প্রতিনিধি।" তিনি বলেন, "তাদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ, সনদায়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা হবে।" একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌপথ ও উপকূলীয় নৌপরিবহনের টেকসই উন্নয়ন, নদীদূষণ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান তার বক্তব্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সমৃদ্ধির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "বন্দর, নৌবাণিজ্য, মৎস্যসম্পদ, অফশোর সম্পদ এবং ব্লু ইকোনমির বিকাশ একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল।" তিনি সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময়, মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
নৌবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের সমৃদ্ধ নৌ-ঐতিহ্য, দেশীয় নৌযান নির্মাণের দক্ষতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি মেরিটাইম শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নারী মেরিটাইম পেশাজীবীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে সামুদ্রিক খাতের উৎকর্ষ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর বর্তমানে বছরে প্রায় ৩৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে প্রায় ৪০ লাখ টিইইউ অতিরিক্ত সক্ষমতার চাহিদা মোকাবিলায় মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০২৯ সালে কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলা এ বন্দর প্রায় ২৩০ মিটার দীর্ঘ এবং আট থেকে দশ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাদার ভেসেল সরাসরি গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে পরিবহন সময় ও লজিস্টিক ব্যয় কমবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশের প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথকে দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় নৌপথ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপথের মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সমন্বিত মাল্টিমোডাল পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।
জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, Hong Kong International Convention কার্যকর হওয়ার পর দেশের ২৪টি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ড ইতোমধ্যে কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে এবং আরও ২০টি ইয়ার্ড সনদায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নিরাপত্তা, শ্রমিককল্যাণ ও পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে এ শিল্পকে আধুনিক, দায়িত্বশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, তেল ও বাংকার দূষণজনিত ক্ষতিপূরণ এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষ অপসারণসংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনে দেশের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন। পাশাপাশি জাতীয় আইন, বিধিমালা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার GreenVoyage2050 কর্মসূচির সহায়তায় জাহাজ চলাচল থেকে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে বাংলাদেশ জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কম-কার্বন জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা, বন্দর কার্যক্রমের বিদ্যুতায়ন এবং পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে সবুজ নৌপরিবহনে উত্তরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দেশের সামুদ্রিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অগ্রগতি তুলে ধরে জানানো হয়, বর্তমানে ১৫টি মেরিটাইম একাডেমি ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান এবং একটি মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষ নাবিক, মেরিন প্রকৌশলী ও বন্দর ব্যবস্থাপনা পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করছে। ২০১৪ সাল থেকে ১৩৮ জনের বেশি নারী ক্যাডেট দেশের মেরিটাইম একাডেমিগুলো থেকে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ৫০ জন নারী ক্যাডেট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করছেন।
সামুদ্রিক দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া প্রদান, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম, জাহাজ শনাক্তকরণ এবং সমন্বিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের Joint Rescue and Coordination Centre-JRCC-এর সক্ষমতা আরও সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
বক্তারা জানান, সরকার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী, মেরিটাইম একাডেমি, নাবিক এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টাই বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে দৃশ্যমান অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপান্তর করতে পারে।
বিশ্ব নৌ দিবস ২০২৬-এর মূল আহ্বান হিসেবে বলা হয়, নীতি হতে হবে কার্যক্রমে রূপান্তরিত, অঙ্গীকার হতে হবে পরিমাপযোগ্য অর্জন এবং সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে পরিণত করতে হবে দৃশ্যমান জাতীয় সুফলে।
সম্মিলিতভাবে নিরাপদ, সবুজ, স্মার্ট, সুরক্ষিত এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাসক্ষম সামুদ্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, জাহাজমালিক, শিপিং কোম্পানি, জাহাজ ব্যবস্থাপনা ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, মেরিটাইম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, নাবিক, সামুদ্রিক পেশাজীবী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ খনন করে নৌপথের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখন ফেরি চলাচলের জন্য কোনো বাধা নেই। কিন্তু, ফেরি নেই। ফলে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-রৌমারী নৌপথ বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন একাধিক উপজেলার ১০ হাজার মানুষ।
নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত আগস্ট মাসে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একে একে তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ, ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য একমাত্র সচল ফেরি ‘কদম’ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়, ফলে চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে গেছে।
এতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই পাড়ের মানুষ, চালক এবং ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, জুলাই মাসের শেষ দিকে চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে নিবিড় খনন কাজ শুরু হয়। খননের পর নৌপথে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে চ্যানেল সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ফেরি না থাকায় পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে সময় এবং জ্বালানির খরচ বাড়ছে। পচনশীল পণ্য পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নৌপথ খনন করে প্রস্তুত রাখার পরও ফেরি না চললে এই বিনিয়োগের সুফল কিভাবে পাওয়া যাবে?
বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) দ্রুত ফেরি চালুর তাগিদ দিয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত ফেরি না চললে নৌপথে আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এই রুটে ‘কুঞ্জলতা’, ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ এবং ‘কদম’ নামে তিনটি ফেরি চলাচল করত। কিন্তু, চালুর তিন বছরের মধ্যেই বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত ফেরি চালুর এবং দুই সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত ড্রেজিং অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম মন্তব্য করেন, "এইভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে ফেরি আর চালু হবে না, আমাদের দুর্ভোগও শেষ হবে না।"
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, "ফেরি বন্ধ হওয়ার পরে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। রংপুর থেকে এসে মাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় মালবাহী নৌকার জন্য। এতে হয়রানি হচ্ছে এবং পোষাচ্ছে না।"
কুলি মজনু মিয়া জানান, "ড্রেজিং করে জনগণের টাকা তো খায়ই খায়ই। কর্মকর্তারা টেবিলে শুয়ে খায়। এখানে শুনছিলাম ৬০০ কোটি টাকা বাজেট বলে আসছিল। সব টাকা ব্যাটা তারা একাই খেয়ে লাইছে।"
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মাহমুদুল আলম তায়েফ বলেন, "ঘাট ম্যানেজমেন্টসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বিআইডব্লিউটিএ করে। কিন্তু, নৌপথের নাব্যতা সংকট দূরীকরণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ইতোমধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ