প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ খনন করে নৌপথের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখন ফেরি চলাচলের জন্য কোনো বাধা নেই। কিন্তু, ফেরি নেই। ফলে প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ চিলমারী-রৌমারী নৌপথ বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ফেরিশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন একাধিক উপজেলার ১০ হাজার মানুষ।
নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গত আগস্ট মাসে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর একে একে তিনটি ফেরি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ, ২ সেপ্টেম্বর মেরামতের জন্য একমাত্র সচল ফেরি ‘কদম’ নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়, ফলে চিলমারী-রৌমারী নৌপথ এখন পুরোপুরি ফেরিশূন্য হয়ে গেছে।
এতে সরকারের বিপুল বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই পাড়ের মানুষ, চালক এবং ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, জুলাই মাসের শেষ দিকে চিলমারী, রৌমারী ও খেরুয়ার চরসংলগ্ন এলাকায় চারটি কাটার সাকশন ড্রেজার দিয়ে নিবিড় খনন কাজ শুরু হয়। খননের পর নৌপথে ফেরি চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা নিশ্চিত হয়েছে। বর্তমানে চ্যানেল সচল রাখতে সংরক্ষণমূলক ড্রেজিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ফেরি না থাকায় পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।
বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে সময় এবং জ্বালানির খরচ বাড়ছে। পচনশীল পণ্য পরিবহনে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, নৌপথ খনন করে প্রস্তুত রাখার পরও ফেরি না চললে এই বিনিয়োগের সুফল কিভাবে পাওয়া যাবে?
বিআইডব্লিউটিএর পুরকৌশল শাখা ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনকে (বিআইডব্লিউটিসি) দ্রুত ফেরি চালুর তাগিদ দিয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত ফেরি না চললে নৌপথে আবার পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে।
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চালু হওয়া এই রুটে ‘কুঞ্জলতা’, ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ এবং ‘কদম’ নামে তিনটি ফেরি চলাচল করত। কিন্তু, চালুর তিন বছরের মধ্যেই বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা দ্রুত ফেরি চালুর এবং দুই সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিত ড্রেজিং অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম মন্তব্য করেন, "এইভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে ফেরি আর চালু হবে না, আমাদের দুর্ভোগও শেষ হবে না।"
ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, "ফেরি বন্ধ হওয়ার পরে আমাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। রংপুর থেকে এসে মাল নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় মালবাহী নৌকার জন্য। এতে হয়রানি হচ্ছে এবং পোষাচ্ছে না।"
কুলি মজনু মিয়া জানান, "ড্রেজিং করে জনগণের টাকা তো খায়ই খায়ই। কর্মকর্তারা টেবিলে শুয়ে খায়। এখানে শুনছিলাম ৬০০ কোটি টাকা বাজেট বলে আসছিল। সব টাকা ব্যাটা তারা একাই খেয়ে লাইছে।"
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মাহমুদুল আলম তায়েফ বলেন, "ঘাট ম্যানেজমেন্টসহ বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম বিআইডব্লিউটিএ করে। কিন্তু, নৌপথের নাব্যতা সংকট দূরীকরণের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ইতোমধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন