১০:০২ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে দেশের উন্নয়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। গত ১৭ বছর ধরে নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে এবং জেল খেটেছে। এখন সময় এসেছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজে মনোনিবেশ করা।
তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে দূর্নীতি ও চাঁদাবাজি থেকে দূরে থাকতে হবে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিগত দিনেও আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও আপনাদের পাশে থাকবো।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর শহরের থানা রোডে নাগরিক কমিটির আয়োজনে বিজয়ের বর্ষপূর্তি ও নাগরিক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য
উন্নয়নের বিষয় তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যেই পদ্মা ব্যারেজ একনেকে পাস হয়েছে, পানির সমস্যা থাকবে না। ফরিদপুরকে বিভাগ এবং সিটি করপোরেশন করা হবে। কৃষি প্রধান জেলার চাষিদের সমস্যা হচ্ছে পেঁয়াজ সংরক্ষণে, ইতিমধ্যেই সরকার প্রতিটি উপজেলায় কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়াও একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও সাইন্স-টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন, অবশ্যই ফরিদপুরের সকল দাবিও তিনি পূরণ করবেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে, জেল খেটেছে, গুম হয়েছে। এই আন্দোলনের ফসল হচ্ছে আজকে আমরা একটি স্বাধীন বাংলাদেশে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন বাংলাদেশে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে এক মঞ্চে বসে বক্তব্য দিতে পারছি এটাই আমাদের স্বার্থকতা। এই ১৭ বছরে নেতাকর্মীরা যারা জীবন দিয়েছে, জুলাই যোদ্ধারা জীবন দিয়েছে আমি তাদের এই মঞ্চ থেকে সালাম জানাই, কারণ তাদের জন্যই এই নতুন বাংলাদেশ।
অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো: ইলিয়াস মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রিয় কমিটির সুরা সদস্য অধ্যাপক আবদুত তাওয়াব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, শিল্পপতি মীর নাছির হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক কাজী রিয়াজ প্রমূখ। এর আগে দুপুর থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।
এর আগে ফরিদপুরে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে অয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
শহরের শিশু একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বিদ্রোহের প্রতীক, সাম্যর দূত, মানবতার কন্ঠস্বর এবং বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার সৃষ্টির অন্যতম নির্মাতা। নজরুল কেবল একজন কবি নয়, তিনি একটি চেতনা, একটি আন্দোলন এবং অনন্ত প্রেরণার নাম। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন, শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। নারী-পুরুষের সম অধিকারের কথা বলেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা যদি নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুলের সাহিত্য, সঙ্গীত ও দর্শনকে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে তারা শুরু দক্ষ নাগরিকই নয় দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষসহ কর্মকর্তাবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি।
আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন