প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির অন্যতম প্রধান তেল টার্মিনালে ইউক্রেন বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পিটার্সবার্গে হামলার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। জেলেনস্কি বলেন, তেল টার্মিনালটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলের জোগান দেওয়ার একটি প্রধান রাজস্ব অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ইউক্রেন দাবি করেছে যে ওই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান একটি রুশ নৌঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে।
সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকসান্দ্র বেগলোভ জানিয়েছেন, শহরটি ব্যাপক ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে এবং তিনি তেল টার্মিনালে হামলার তথ্যও নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি জানান, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সম্প্রতি রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলার ফলে দেশটিতে ব্যাপক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। কিয়েভ জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অচল হয়ে পড়েছে।
তবে ইউক্রেনের এসব দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ, মস্কো যুদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য খনিজ জ্বালানি রপ্তানির উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেওয়ার বিষয়ে, গত সপ্তাহে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিরল স্বীকারোক্তি দেন। এরপর শনিবার, তিনি অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি বিলে স্বাক্ষর করেন এবং সেটিকে আইনে পরিণত করেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেন পুতিন। শনিবার সকালে জেলেনস্কি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং এর আশপাশের অঞ্চলে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
হামলায় ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা যায়নি। তবে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে উড়ে যাচ্ছে এবং আঘাত হানার পর ওই এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলি বাতাসে ভাসছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী এই টার্মিনালকে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ স্থাপনা হিসেবে দাবি করেছে। রুশ এই টার্মিনালের বার্ষিক ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন