শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সরকারের নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, শুধুমাত্র সেই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত, যারা প্রতিবছর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন।
টিআইবি আরও আহ্বান জানিয়েছে যে, যারা সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এই আহ্বান জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
সংস্থাটি মনে করে, এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তিন ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত যুক্তিসঙ্গত। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব।
টিআইবি মনে করে, জনগণের করের টাকায় বেতন-ভাতা বাড়ানোর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ প্রকাশ করতে হবে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অনেক সরকারি কর্মজীবী অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং সৎভাবে জীবনযাপন করেন। তাদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য।
অন্যদিকে, ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থসম্পদ অর্জনে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এই সুবিধা অযৌক্তিক ও নিষ্প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে। এর আগে এরূপ উদাহরণও রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, সরকারের এমন আশাবাদের কথা উল্লেখ করেছে টিআইবি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যালয়ে চালু করা হয়েছিল ‘সততা স্টোর’, যা শিশুদের মধ্যে সততার চর্চা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। সেখানে কোনো বিক্রেতা উপস্থিত থাকতেন না। শিশুরা নিজেদের পছন্দের খাবার নিয়ে নির্ধারিত দাম টিনের বাক্সে রেখে যেত। তবে, ওই টাকার বাক্স ভেঙে ১ হাজার ২৫০ টাকা চুরি হয়ে গেছে।
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের খাগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের দুটি বৈদ্যুতিক পাখাও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জানালার গ্রিল কেটে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ‘সততা স্টোরের’ টাকার বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ দুটি বৈদ্যুতিক পাখা চুরি হয়েছে এবং একটি আলমারির তালা ভেঙে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পূর্ণেন্দু চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১০৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। সাত বছর আগে শিশুদের মধ্যে সততার চর্চা গড়ে তোলার জন্য ‘সততা স্টোর’ চালু করা হয়েছিল।
সেখানে মুড়ি, বিস্কুট, চানাচুরসহ বিভিন্ন শুকনা খাবার রাখা হতো। প্রতিটি খাবারের দাম লেখা থাকত। টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের খাবার নিয়ে নির্ধারিত টাকা টিনের বাক্সে রেখে দিত। ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর ওই টাকা দিয়ে আবার খাবার কেনা হতো।
চুরির ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, বিদ্যালয়ে এভাবে চুরি হওয়ায় তাঁরা মালপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় রাতে পুরো প্রতিষ্ঠান অরক্ষিত থাকে। একই রাতে বিদ্যালয়ের পাশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খাগা আশ্রমেও চুরি হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন। আশ্রমের একটি ঘরের তালা ভেঙে পূজার কাজে ব্যবহৃত কাঁসার থালাবাসন ও বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।
এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে অভিযোগ করে খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মুন্নাফ হোসেন জানিয়েছেন, মাদকের টাকা জোগাড় করতে কেউ এ ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এলাকার পুলিশের টহল বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ে চুরির বিষয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার কাজ শুরু করেছে, যা সংসদীয় বিষয়াবলি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
এই কমিটি গঠন করা হয়েছে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য, যা প্রথাগত ও সরকারি কূটনীতির পাশাপাশি সংসদীয় কূটনীতি এবং পেশাদার বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়।
বৈঠকে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
এ সময় সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, "১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে।" সময়ের পরিক্রমায় এই সম্পর্ক আজ সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিজ্ঞান, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি খাত এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কানেকশন’ সুসংহত করতে যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বৈদেশিক নীতিতে বিশ্বাস করে। নতুন প্রজন্মের সমন্বয় এবং নতুন কাঠামোর অধীনে যৌথ উদ্যোগে ঢাকা-মস্কো দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, "দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, উভয় দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"
তিনি বিশ্বাস করেন যে, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের এই যৌথ অংশগ্রহণের ফলে বিদ্যমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, "পারস্পরিক সুবিধা বা ‘মিউচুয়াল বেনিফিট’ হলো যেকোনো টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আসল ভিত।"
তিনি জনকূটনীতি এবং সামাজিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন।
তিনি বলেন, যৌথ স্বার্থ ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত বৈঠকে মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাইরুল কবির খোকন, সাঈদ আল নোমান, সাইফুল আলম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং জেবা আমিন খান।
এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ স্টেট দুমাতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে 'গ্রুপ অব ডেপুটিস' বা সংসদীয় মৈত্রী দল গড়ে তোলা হয়েছে।
সেখানে আন্তর্জাতিক ও জনকূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের সুসম্পর্ক সুসংহত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। সংসদীয় কূটনীতির এই শক্তিশালী বিকাশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে উভয় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ফেনীর মুহুরীগঞ্জ এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ইউনিক পরিবহণের একটি বাসের সংঘর্ষে তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কাভার্ড ভ্যানের চালক, হেলপার এবং ইউনিক পরিবহণের বাসচালক। তবে, তাদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি কাভার্ডভ্যান বিকল হয়ে পড়ে ছিল। পরে, একটি লং ভেহিক্যালের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানটি বেঁধে নেওয়ার কাজ চলছিল। এই সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ইউনিক পরিবহণের বাসটি কাভার্ড ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়।
এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই কাভার্ড ভ্যানের চালক, হেলপার এবং ইউনিক পরিবহণের বাসচালক নিহত হন। আহত একজনকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত তিনটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেয়ারফ্যাক্স ডিস্ট্রিক্টে একটি শপিং সেন্টারের পার্কিং লটে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। তবে, ড্রাইভারকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে থার্ড স্ট্রিট ও ফেয়ারফ্যাক্স অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত ‘গিলমোর স্টেশন’ শপিং সেন্টারে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিয়ন্ত্রণহীন একটি টেসলা গাড়ি ট্রেডার জোস, মেন্ডোসিনো ফার্মস এবং সাইডকার ডোনাটসের যৌথ পার্কিং লটের সামনে থাকা সিকিউরিটি স্ট্যান্ডে সজোরে ধাক্কা দেয়।
লস অ্যাঞ্জেলেস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সী এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আহতদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ গুরুতরভাবে আহত হন, এবং ৩০ ও ৫৭ বছর বয়সী দুই নারী সামান্য আঘাত পেয়েছেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ড্রেক পিসিওন জানান, দুর্ঘটনার পর চালক চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।
ড্রাইভারের দাবি, তিনি গাড়িটি থামানোর জন্য ব্রেক চাপিয়েছিলেন, কিন্তু টেসলা গাড়িটি থামার পরিবর্তে দ্রুত গতিতে সামনে এগিয়ে যায়। গাড়ি থেকে নামার পর তিনি বুঝতে পারেননি যে তার গাড়ির ধাক্কায় একজনের মৃত্যু ঘটেছে।
ঘটনার পর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দুর্ঘটনাস্থলে সংকটাপন্নদের সহায়তায় ক্রাইসিস রেসপন্স টিম পাঠিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "ফেয়ারফ্যাক্স ও থার্ড স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে ট্রেডার জোসের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। যারা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার কার্যালয় থেকে ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের সদস্যদের পাঠানো হয়েছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগের (LAPD) কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সহায়তা প্রদানকারী সাহসী উদ্ধারকর্মীদের আমি ধন্যবাদ জানাই।"
পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানিয়েছে, এটি একজন বয়স্ক চালকের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে, প্রযুক্তির কোনো ত্রুটি নাকি চালকের ভুল—তা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ