০৮:১৩ পি.এম
চট্টগ্রাম থেকে হারানো একটি মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান টিটু এক লাখ ৫ হাজার টাকা মূল্যের আইফোন নিয়ে গেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন যে, এসআই তার কাছ থেকে ট্র্যাকিং খরচের নামে আরও ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আয়ানের বাড়িতে গিয়ে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার কাছে থাকা মোবাইলটি নিয়ে যান। এ সময় তিনি ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন।
আবুল হাসনাত আয়ান, যিনি তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ (সফিক মোড়) গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে, বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিএসসি (সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আপিলের চূড়ান্ত শুনানি ৮ ডিসেম্বর
আয়ান জানান, তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর মাসে দেশের বৃহত্তম শপিং সেন্টার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৪, ব্লক-ডি, দোকান নং-৪ডি/০১৬এ এপেল 'হট' দোকান থেকে ইউসেবল ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ এক লাখ ৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই মেহেদী হাসান টিটু তার বাসায় এসে জানান যে, তিনি যে মোবাইলটি কিনেছেন সেটি চোরাই ফোন। এর আগে তিনি আয়ানের কাছে ফোন করে তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।
এসআই জানান, চট্টগ্রাম থেকে এক নারী ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে মোবাইল, টাকা এবং স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যায়। আয়ান বলেন, তিনি এসআইকে তার ক্রয় করা ক্যাশ ম্যামো এবং মোবাইলের বক্স দেখান এবং দোকানে ফোন করে নিশ্চিত করেন যে, তিনি মোবাইলটি কিনেছেন। এরপর এসআই তাকে বলেন, "ফোন যেহেতু আপনার কাছে পেয়েছি তাহলে সমস্যাটা আপনারই।" এ সময় আয়ানের মামা এসআইকে বলেন যে, বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। কিন্তু এসআই মোবাইলসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।
আয়ান আরও বলেন, "আমি বাবার টাকা দিয়ে ‘আইফোন ১৬ প্রোম্যাক্স’ কিনেছি। আমার সমস্ত ডকুমেন্ট রয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ তদন্ত করলেও প্রমাণ পাবে আমি ওই দোকান থেকে মোবাইল কিনেছি। এসআই মেহেদী হাসান টিটু আমার কেনা মোবাইল নিয়ে গেল এবং আমার কাছ থেকে ১৭ হাজার টাকা ঘুষ নিল।" তিনি এসআইকে ভিডিও ধারণ করতে বলেন কিন্তু এসআই তা সংরক্ষণ করেননি।
এসআই মেহেদী হাসান টিটু বলেন, ১৭ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক নারীকে তার পরিচিত লোকজন ঘুম পাড়িয়ে তার বাসা থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি আইফোন নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় নারী একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি গাজীপুর জেলা গোয়েন্দার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তাকে মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর
একজন শিক্ষার্থী বৈধ ক্রেতা হিসেবে মোবাইল কিনেছেন, তার আর্থিক ক্ষতি কিভাবে উদ্ধার হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে এসআই বলেন, "আমি শ্রীপুরের স্থানীয় এক সাংবাদিককে চিনি এবং তিনি আমাকে খুব ভালোভাবে চেনেন।"
গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, "এসআই ১৭ হাজার টাকা কেন নেবে? মোবাইল ট্র্যাকিং খরচের কথা বলে টাকা নিতে পারে না এবং এটি সঠিক নয়।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন