বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৮ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল রাতে। এই ঘটনার পর সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করেছে।
শোকজ প্রাপ্ত দুই নেতার মধ্যে একজন হলেন— জবি ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সর্দার এবং অপরজন ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।
কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে প্রদত্ত নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই ঘটনায় তাদের দায়িত্বশীল পদে অবস্থানকালে কি ভূমিকা ছিল এবং তাদের সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কেন তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের নির্দেশনায় এই নোটিশটি জারি করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন ও ধানমণ্ডি লেকের দূষণ রোধ এবং পরিবেশগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমন্বিত কার্যক্রমের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। লেকগুলোতে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ বন্ধ করার পাশাপাশি নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব নির্দেশনা প্রদান করা হয়। রাজধানীর লেকগুলোর দূষণ রোধ, সংস্কার ও পরিবেশগত উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে জুলাই মাসে ধানমণ্ডি ও গুলশান লেকের উন্নয়ন এবং অবৈধ বর্জ্য সংযোগ বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
বৈঠকে গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা, দূষণের উৎস এবং সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ধানমণ্ডি লেকের সংস্কার, স্লাজ অপসারণ এবং পাইলট প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয় যে, গুলশান লেকে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের উৎস ও মাধ্যম হিসেবে ছয়টি প্রাইমারি এবং ছয়টি সেকেন্ডারি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পয়েন্টের মাধ্যমে লেকে দূষিত পানি ও পয়ঃবর্জ্য প্রবেশ করছে। সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গঠিত কারিগরি কমিটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ উপস্থাপন করে।
লেকের দূষণ রোধে পয়ঃবর্জ্য প্রবেশের পথ বন্ধ করা, ভবনভিত্তিক এসটিপি স্থাপন এবং বিদ্যমান স্যুয়ারেজ নেটওয়ার্কের বিস্তারিত জরিপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলশান-বনানী এলাকায় শর্তসাপেক্ষে স্যুয়ারেজ বিল আদায় এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ক্যাচমেন্ট এরিয়া তৈরির বিষয়েও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
লেকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভাসমান বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত যান্ত্রিক নৌকার সংখ্যা দুটি থেকে বাড়িয়ে ১০টিতে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভাসমান এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে লেকের তলদেশে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকে ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রযোজ্য ভবনগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসটিপি স্থাপন নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পয়ঃনিষ্কাশন লাইন সরাসরি বৃষ্টির পানির ড্রেন বা লেকের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করে অবৈধ সংযোগ বন্ধে ঢাকা ওয়াসা ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া লেকের পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে এরেটর স্থাপন, দুর্গন্ধ দূর করতে জৈবিক ও রাসায়নিক পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্যানিটেশন নেটওয়ার্ক নির্মাণের প্রস্তাবও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।
বৈঠকে জানানো হয় যে, রাজউকের আওতাধীন লেকগুলোর সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৪২ জন জনবলের সমন্বয়ে পাঁচটি বিশেষ টিম নিয়োজিত করা হয়েছে।
বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ. বি. এম. আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং প্রকৃতি-পাখির সুরক্ষায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে শেরপুরের বয়ড়া পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুর এবং সল্ট-কেন্ডি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের সহযোগিতায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বট, কদম, চালতা, আমলকি, গাব, আমড়া ও ডেউয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, বয়ড়া পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক করুণা দাস কারুয়া, শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রকৃতি-পরিবেশবাদী সংগঠন শাইনের নির্বাহী পরিচালক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. মুগনিউর রহমান মনি, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃক্ষরোপণ শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতি ও পাখির সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাইনের নির্বাহী পরিচালক মো. মুগনিউর রহমান মনি বলেন, "প্রতিবছর আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে পাখি ও পরিবেশবান্ধব বিশেষ প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, রাস্তার পাশে ও বিভিন্ন খোলা জায়গায় লাগানো হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও চারা বিতরণ করা হয়।"
তিনি আরও জানান, "এ বছর প্রায় পাঁচ হাজার চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। এই কর্মসূচির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনায় ঋণ প্রদান করা হবে।
সরকারের তরফ থেকে নির্ধারিত ঋণের সুদহার বার্ষিক দশমিক ৫ শতাংশ। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাভোগীদের যে ঋণ প্রদান করবে, তাতে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। এই সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের জারি করা একটি পরিপত্রে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানানো হয়েছে। গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জারি করা ওই পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমাত্রার ব্যবহার উৎপাদন ব্যয়, ভর্তুকির চাপ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সহজ শর্তে এবং স্বল্প ব্যয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করার জন্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬–২০৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, সরকারের অগ্রাধিকার বিবেচনায় এ কর্মসূচির জন্য মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। এর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে।
এই অর্থ তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫০০ কোটি টাকা সরকারি ঋণ দেওয়া হবে।
এ জন্য অর্থ বিভাগ এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পৃথক ঋণচুক্তি সম্পাদিত হবে। ওই চুক্তিতে ঋণের পরিমাণ, অর্থ ব্যবহারের অনুমোদিত খাত, ঋণ পরিশোধ, প্রতিবেদন, নিরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত উল্লেখ থাকবে। অর্থ বিভাগ প্রয়োজন অনুযায়ী অথবা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন ও অন্যান্য শর্ত পূরণের পর অর্থ ছাড় করবে।
সরকারি ঋণের সুদহার বার্ষিক দশমিক ৫ শতাংশ থাকবে। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক হার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ হতে পারবে। অর্থাৎ ঋণ ব্যবস্থাপনার নামে অতিরিক্ত ফি বা চার্জ নিয়ে নির্ধারিত ৬ শতাংশের সীমা অতিক্রম করা যাবে না।
সরকারের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের অর্থের মেয়াদ ১০ বছর হবে। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পরবর্তী মাস থেকে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের অনুকূলে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করবে। ঋণচুক্তিতে পরিশোধের বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সেচপাম্প
সরকারি এ অর্থায়নের আওতায় মূলত গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নে ঋণ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌরচালিত সেচপাম্প, সংশ্লিষ্ট ইনভার্টার, মিটার এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি অথবা অংশীদার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ ঋণ বিতরণ করতে পারবে। তবে যে পদ্ধতিতেই ঋণ বিতরণ করা হোক, পরিপত্রে নির্ধারিত সব শর্ত মানতে হবে। সুবিধাভোগীর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার ঝুঁকি বহন করবে সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান।
ঋণ বিতরণের পদ্ধতি, কিস্তির কাঠামো, পণ্য পরিকল্পনা, কর্মসূচির নির্দেশিকা এবং সুবিধাভোগীর যোগ্যতা ও মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণের দায়িত্ব অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই বা ডিউ ডিলিজেন্স করতে হবে এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
কর্মসূচির অর্থ বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, ঋণ নবায়ন বা ‘লোন এভারগ্রিনিং’, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রতিষ্ঠানের সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিল বা কর্মসূচিতে স্থানান্তর করা যাবে না।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে আলাদা ব্যাংক হিসাব এবং পৃথক হিসাব কোড রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনা তথ্যব্যবস্থা চালু করতে হবে। ঋণ সুবিধাভোগীদের অনুমোদিত ব্যাংক হিসাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ বিতরণ করতে হবে।
ঋণ বিতরণের আগে সুবিধাভোগীর যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে। কর্মসূচির নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের (এএমএল/সিএফটি) বিধানও পরিপালন করতে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ক্যাম্পিওনেস কাপের ফাইনালে ইন্টার মায়ামির জয়ে লিওনেল মেসির অবদান ছিল বিশেষ। তিনি নিজে গোল করার পাশাপাশি কাসেমিরোকে গোল করাতে সাহায্য করেছেন। মেসির এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর, ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন ইন্টার মায়ামির অন্যতম মালিক এবং ইংল্যান্ডের প্রাক্তন কিংবদন্তি ডেভিড বেকহ্যাম। তার মতে, এবারের পুরস্কারটি মেসিরই প্রাপ্য।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মিশেলোব আল্ট্রা ক্যাম্পিওনেস কাপের ফাইনালে ক্রুজ আজুলকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপা জেতে ইন্টার মায়ামি। মেসি দলের দুই গোলেই সরাসরি অবদান রাখেন। প্রথম গোলটি তিনি নিজেই করেন, এবং দ্বিতীয় গোলটি তার পাস থেকে হেডে করেন কাসেমিরো।
ম্যাচের ফলাফল ব্যালন ডি’অর দৌড়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে না। তবে, মেসির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে বেকহ্যাম তার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
ইএসপিএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপল টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেকহ্যাম বলেন, "গত এক বছরে মেসির পারফরম্যান্স নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই।"
বেকহ্যাম আরও বলেন, "আজ রাতে ওর (মেসি) পারফরম্যান্স বা বিশ্বকাপে যেভাবে খেলেছে, তা দেখার পর এটুকু বলা যায় যে আবারও ব্যালন ডি’অরের আলোচনায় থাকা কোনো ভাগ্যের বিষয় নয়। সে টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিল এবং গত বছরটিও তার জন্য দুর্দান্ত ছিল।"
মেসির বয়সের বিষয়টিও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন বেকহ্যাম। তিনি বলেন, "৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপে গিয়ে প্রতিটি ম্যাচে এমন প্রভাব ফেলা বিশেষ কিছু। এই বয়সে এই মানের ফুটবল আর কেউ খেলছে না। তাই ব্যালন ডি’অরের জন্য তার নাম বিবেচনা করাটা একেবারেই যৌক্তিক। আমার মতে, পুরস্কারটি তারই প্রাপ্য।"
হ্যারি কেইন, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়রাও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে রয়েছেন, তবে বেকহ্যাম মেসির প্রতি তার সমর্থন স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, "ওরা দুর্দান্ত খেলোয়াড়। কিন্তু লিওকে নিয়ে কথা বললে আমি সবসময়ই তার সবচেয়ে বড় সমর্থক।"
মেসির ব্যালন ডি’অরে আধিপত্য নতুন কিছু নয়। তিনি ইতোমধ্যে রেকর্ড আটবার এই পুরস্কার জিতেছেন। সম্প্রতি রেকর্ড ১৭তমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়ার পর, বেকহ্যামের বিশ্বাস, এবার মেসির ট্রফির সংখ্যা নয়েও পৌঁছাতে পারে।
গত এক বছরে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মেসির পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ইন্টার মায়ামিকে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে মূল একাদশে খেলার কীর্তিও গড়েছেন মেসি।
বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া, ৮ গোলের পাশাপাশি ৪টি অ্যাসিস্ট করেছেন। চলতি ২০২৬ মৌসুমেও গোল ও গোলে সহায়তায় ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন তিনি। এমএলএসে এখন পর্যন্ত ১৯ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট নিয়ে গোল এবং গোল-অবদানের দুই তালিকাতেই শীর্ষে রয়েছেন মেসি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ