ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এলপিজির সংকট নেই, মন্ত্রীকে নিশ্চিত করলেন অপারেটররা


এলপিজির সংকট নেই, মন্ত্রীকে নিশ্চিত করলেন অপারেটররা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এলপি গ্যাসের অপারেটররা নিশ্চিত করেছেন যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) কোনো সংকট নেই।

এটি সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জানানো হয়। অপারেটরদের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।

সভাটির আয়োজন করা হয়েছিল দেশের এলপিজি আমদানির পরিমাণ, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি, বাজার দর এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করার জন্য। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারীদের ভাতা নির্ধারণে নতুন প্রজ্ঞাপন জারি

এ সময় দেশের এলপিজি খাতের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। এনবিআরের সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট ২০২৬ মাসে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন এবং চলতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসে (২২ তারিখ পর্যন্ত) ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে।

প্রদর্শিত উপাত্ত অনুযায়ী, দেশে এলপিজির জোগান ও মজুদ পরিস্থিতি ভালো। তাই বর্তমানে এলপি গ্যাসের কোনো ধরনের সংকট নেই বলে সভায় জানান এলপিজি আমদানিকারক ও অপারেটররা।

এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও গ্রাহক পর্যায়ে যেন সরবরাহ ঘাটতি না হয় এবং অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ যেন মজুদ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করেন, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জ্বালানিমন্ত্রী। অপারেটররা মন্ত্রীকে তাদের দিক থেকে সব সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

এ সময় অপারেটরদের ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা শোনার পাশাপাশি সেগুলো দ্রুত সমাধান করার জন্য জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে গেল, বিনিয়োগকারীদের নজর ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্তে

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এলপি গ্যাস আমদানির ক্ষেত্রে সব বাধা অপসারণে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। একইসঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবার আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করেন মন্ত্রী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবিপ্রবির সিট বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১১ পি.এম


পাবিপ্রবির সিট বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রতা, শিক্ষার্থীরা আবাসন সংকটে

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া প্রায় ছয় মাস ধরে সম্পন্ন হয়নি, ফলে অনেক শিক্ষার্থী আবাসন সংকটে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যার কোনো দৃশ্যমান সমাধান এখনও হয়নি।

হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে সর্বশেষ স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে, প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও সিট বরাদ্দের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনার্স শিক্ষাজীবন শেষ হয়েছে। সর্বশেষ এপ্রিল মাসে তৎকালীন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলীর দেওয়া তথ্যমতে ৭৮টি সিট ফাঁকা থাকার কথা জানা যায়। সঠিক সময়ে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার কারণে প্রায় সবগুলো সিটই অবৈধভাবে দখলে রয়েছে শিক্ষার্থীদের।

এছাড়া, সাবেক হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সিট দেওয়ার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। তবে, সিট বরাদ্দের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম অনুমতি দেননি বলে হল প্রভোস্ট অভিযোগ করেন। রহস্যজনকভাবে ওই সময়ে জুলাই-৬ হলের সিট বরাদ্দের অনুমতি মিললেও স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের বিষয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের দ্বিমুখী কার্যকলাপের কারণে ২৫ এপ্রিল অধ্যাপক ড. মো. শাহাজান আলী ব্যক্তিগত কারণে হল প্রভোস্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

হল প্রভোস্টের আকস্মিক পদত্যাগের পর সিট বরাদ্দের বাকি কাজ থমকে যায়। এরপর বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শামীম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর সহকারী হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়াকে হল প্রভোস্ট (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও সিট বরাদ্দের বিষয়ে প্রভোস্টের সাথে যোগাযোগ করে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করা হলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে মেসে থাকছেন, আবার অনেকে অতিরিক্ত খরচে আবাসনের ব্যবস্থা করছেন। বর্তমানে হলের সিটগুলো প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে থাকলেও কবে নাগাদ নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "হলে সিট পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছি। বিষয়টি নিয়ে সংবাদও হয়েছে। কিন্তু এখনো সিট বরাদ্দের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না। এতে আমাদের ভোগান্তি বাড়ছে।"

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সিট না পাওয়ায় বাইরে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ খরচের পাশাপাশি যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।"

শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বাধীনতা হলের সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে আবাসন সংকটের সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, "সিট বরাদ্দের বিষয়ে একটি ড্রাফট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে, গণরুমের ১১ জন ছাত্রের আবাসিকতা নিয়ে স্বাধীনতা হল ও জুলাই-৬ হলের মাঝে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধান করলে আমি যেকোনো সময় সিট বরাদ্দ দিতে পারব।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী পরিবারে নতুন শাবক জন্মগ্রহণ করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী পরিবারে নতুন শাবক জন্মগ্রহণ করেছে

গাজীপুর সাফারি পার্কে সম্প্রতি জলহস্তী পরিবারের মধ্যে নতুন একটি শাবকের জন্ম হয়েছে। মা জলহস্তী নতুন শাবককে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। খাবার দেওয়ার সময় কেউ গেলে শাবকটি পানিতে ডুব দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, আবার হঠাৎ করে ভেসে উঠে আসছে এবং কচুরিপানার আড়ালে লুকিয়ে থাকার মাধ্যমে জলহস্তী পরিবারে আনন্দের এক বন্যা বইছে। জলহস্তী বেষ্টনীতে নতুন শাবককে নিয়ে মাতিয়ে রেখেছে পরিবারটি।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্তমানে পার্কে নতুন শাবকসহ জলহস্তীর সংখ্যা ৫টি হয়েছে। তবে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না, কবে জলহস্তীর জন্ম হয়েছে।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ জানান, জন্মের পর থেকে শাবকটি সুস্থ রয়েছে। তার মা শাবকটিকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান করছে। পুষ্টির কথা বিবেচনা করে তাদের খাবারের পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় শাবকটি মায়ের সঙ্গে পানিতে থাকে। পুরো শরীর ডুবিয়ে চোখ বের করে কচুরিপানার মধ্যে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকে। তবে মাঝে মাঝে শাবকটি ডাঙায়ও উঠে আসে।

তিনি আরও বলেন, জলহস্তীর প্রজনন প্রক্রিয়া পানির ভেতরেই সম্পন্ন হয়। স্ত্রী জলহস্তী সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছর বয়সে এবং পুরুষ জলহস্তী ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে প্রজননের জন্য পরিপক্কতা অর্জন করে। স্ত্রী জলহস্তীর গর্ভধারণকাল বা জেস্টেশন পিরিয়ড প্রায় ২৪০ দিন (৮ মাস)। পানির নিচে তারা সাধারণত একটি মাত্র বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের পরপরই বাচ্চাকে সাঁতার কেটে পানির ওপরে এসে প্রথম শ্বাস নিতে হয়। বাচ্চারা পানির নিচে এবং ডাঙায় উভয় স্থানেই মায়ের দুধ পান করতে পারে। মা জলহস্তী তার বাচ্চার প্রতি অত্যন্ত রক্ষণশীল থাকে এবং কুমির বা অন্যান্য শিকারী প্রাণীর হাত থেকে বাচ্চাকে রক্ষা করতে যেকোনো স্তরের আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলহস্তীর আচরণ জল এবং ডাঙায় দুই জায়গায় ভিন্ন হয়ে থাকে। পানিতে নিজেদের এলাকা রক্ষায় পুরুষ জলহস্তীগুলো খুব উগ্র হয়ে ওঠে। কিন্তু ডাঙায় থাকার সময় সাধারণত একে অপরের এলাকা নিয়ে মাথা ঘামায় না। দিনের বেলা প্রচণ্ড সূর্যরশ্মি এবং তাপ থেকে বাঁচতে কাদার মধ্যে গা ডুবিয়ে অলস সময় কাটায়। এদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পানি বা কাদা এদের শরীরকে ঠান্ডা ও ভেজা রাখতে সাহায্য করে। এরা পানির নিচে এবং ওপরে বিভিন্ন ধরনের আওয়াজ (গর্জন বা ফুঁসানি) করে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে।

শ্রীপুর সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক নূরুল ইসলাম বলেন, জলহস্তী একটি আধা-জলচর স্তন্যপায়ী প্রাণী। জলহস্তী মূলত জলজ এবং স্থলজ উভয় পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। স্থলচর প্রাণীদের মধ্যে হাতির পর জলহস্তী অন্যতম বৃহৎ প্রাণী। এদের চামড়া অত্যন্ত পুরু এবং শরীরে কোনো লোম থাকে না বললেই চলে। জলহস্তীর মুখ প্রায় ১৫০ ডিগ্রি পর্যন্ত বড় করে খোলা যায়। এদের নিচের চোয়ালের দাঁতগুলো প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ওই দাঁতগুলো দিয়ে তারা নিজেদের রক্ষা করতে বা লড়াইয়ের সময় ব্যবহার করে। চোখ, কান এবং নাসারন্ধ্র মাথার একেবারে উপরের অংশে অবস্থিত হওয়ায় তারা শরীরের বাকি অংশ পানির নিচে ডুবিয়ে রেখেও অনায়াসে দেখতে, শুনতে এবং শ্বাস নিতে পারে। পানির নিচে যাওয়ার সময় এরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাক ও কান বন্ধ করে নিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জলহস্তী মূলত তৃণভোজী প্রাণী। এদের প্রধান খাবার হলো ঘাস। ডাঙার নরম ও ছোট ঘাস খেতে এরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। দিনের বেলা পানিতে কাটানোর পর, সূর্যাস্তের সময় এরা পানি থেকে ডাঙায় উঠে আসে। পানিতে অলস বসে থাকায় এদের শক্তি খুব কম খরচ হয়। ঘাস ছাড়া এরা মাঝে মাঝে বুনো ফলমূল বা জলজ উদ্ভিদও খেয়ে থাকে। তবে এরা পানির ভেতরের জলজ উদ্ভিদ খুব একটা পছন্দ করে না। জলহস্তী দেখতে শান্ত স্বভাবের মনে হলেও এরা আক্রমণাত্মক প্রাণী হিসেবে পরিচিত।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, দেড় সপ্তাহ আগে পার্কের জলহস্তী বেষ্টনীতে শাবকসহ মা জলহস্তী বেষ্টনীর ভেতরে ডাঙায় উঠে আসে। পার্কের কর্মীরা তাদের দেখতে বেষ্টনীতে গেলে গভীর পানিতে ডুবে লুকিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে জলাধারের কোথাও সামান্য ভেসে উঠেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে। এটি যেন এক প্রকার লুকোচুরি খেলা। এখনো শাবকটির লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি। তবে লিঙ্গ শনাক্ত করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। শাবকটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মা জলহস্তীর সাথে কচুরিপানার ভেতরে দিয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। মা জলহস্তীকে বাড়তি খাবারও দেওয়া হচ্ছে। মায়ের পেছন পেছন বেষ্টনীর পুকুরের পানি থেকে পাড়ে উঠে আসছে, বেশ কিছু সময় অবস্থানের পর আবার মায়ের সঙ্গে পুকুরের গভীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। আবার গভীর পানিতে মাঝে মাঝে গা ভাসিয়ে পার্কের দর্শনার্থীদের বিনোদন দিচ্ছে সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকসহ পার্কের বেষ্টনীতে থাকা জলহস্তীগুলো।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি বিতরণে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


নবজাতকদের জন্য সোনার আংটি বিতরণে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেন বিজয়

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নবজাতকদের জন্য ২২ ক্যারেটের এক গ্রাম ওজনের সোনার আংটি বিতরণের প্রকল্প চালু করেছেন। সোমবার(২৮ সেপ্টেম্বর) মাদুরাইয়ের সরকারি রাজাজি হাসপাতালে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি।

এই উদ্যোগটি ‘থাইমামান থাঙ্গা মোথাইরাম থিত্তাম’ বা ‘মাতুলের সোনার আংটি প্রকল্প’ নামে পরিচিত। এর আওতায় সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য নবজাতকদের একটি করে সোনার আংটি প্রদান করা হবে। তামিলনাড়ু সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৭৫৫ কোটি ৮৩ লাখ রুপি বরাদ্দ করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কয়েকজন নবজাতককে কোলে নিয়ে তাদের হাতে সোনার আংটি তুলে দেন। রাজ্য সরকারের মতে, নবজাতকদের প্রতি ভালোবাসা ও শুভকামনা জানানো এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সরকারের আশা, এই প্রকল্প মাতৃত্বের মর্যাদা রক্ষা, নারীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদানে মানুষকে উৎসাহিত করবে। তারা মনে করছে, এর মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে বিতরণের জন্য ইতোমধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার সোনার আংটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের ২২ জুন বা তার পরে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুরা এই সুবিধা পাবে। তামিলনাড়ুর স্থায়ী বাসিন্দা যেসব মা গর্ভাবস্থায় পিকমি পোর্টালে নিবন্ধন করে আরসিএইচ আইডি পেয়েছেন, তাদের সন্তানদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।

রাজ্যের মন্ত্রী অরুণ রাজ জানান, মামা ও ভাগনে-ভাগনির সম্পর্ক ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক। এই সম্পর্কের প্রতি সম্মান জানাতেই সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের সোনার আংটি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশুর জন্মের পর মামা যেমন তার বোন ও নবজাতকের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন, এই আংটিও তেমন ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।

মাদুরাই শহরের ঐতিহ্য ও গুরুত্ব বিবেচনায় প্রকল্পের সূচনা এখানে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি আংটিতে আলাদা সিরিয়াল নম্বর থাকবে এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ প্যাকেটে করে তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

২২ জুন থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য জমে থাকা আংটি বিতরণে রাজ্যজুড়ে ১০৭টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদিন ১০০ জন শিশুকে আংটি দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ই আংটি প্রদান করা হবে।

তবে প্রকল্পটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সোনার আংটি কেনার জন্য তামিলনাড়ু মেডিকেল সার্ভিসেস কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, সংস্থাটির মূল দায়িত্ব ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী কেনাকাটা করা। ফলে সোনার আংটি কেনার ক্ষেত্রে এ সংস্থাকে ব্যবহার করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ের নারী ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদ অফিসের কর্মীদের উপহার দিলেন ‘আইফোন ১৮’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:১৬ পি.এম


দুবাইয়ের নারী ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদ অফিসের কর্মীদের উপহার দিলেন ‘আইফোন ১৮’

দুবাইয়ের একজন নারী ব্যবসায়ী কর্মীদের কাজে মনোযোগ ও উদ্দীপনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আকস্মিকভাবে সকল কর্মীর হাতে একটি করে চকলেটের প্যাকেট তুলে দেন।

কর্মীরা আনন্দের সঙ্গে প্যাকেট খুলতেই হতবাক হয়ে যান। তারা দেখতে পান, প্যাকেটে আসলে চকলেট নয়, বরং রয়েছে একেবারে নতুন ‘আইফোন ১৮’। সেরা কর্মীদের ধরে রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী হাসিনা নিশাদের কিছু কর্মীকে নতুন আইফোন ১৮ উপহার দেয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তিনি জানান, কর্মীদের খুশি রাখা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা তাদের প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মূলনীতি।

‘কর্মীরাই আমাদের শক্তি। তাদের ছাড়া আমাদের কোনো উন্নতি সম্ভব নয়। তাই প্রথম দিন থেকেই কর্মীদের পেছনে ব্যয় করাকে আমার স্বামী ও আমি অগ্রাধিকার দিয়ে আসছি,’ খালিজ টাইমসকে বলেন ওয়ার্ল্ড স্টার হোল্ডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনা নিশাদ।

হাসিনা তার স্বামী নিশাদ হুসাইনের সঙ্গে মিলিতভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নিশাদ হুসাইন জনবল সরবরাহ সেবা নিয়ে কাজ করেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিশাদকে কয়েকজন কর্মীর মধ্যে প্যাকেট বিতরণ করতে দেখা যায়। সেই ভিডিওটি পরে ভাইরাল হয়ে যায়। প্যাকেটগুলোর অর্ধেকের মধ্যে নতুন আইফোন ১৮ ছিল, আর বাকি অর্ধেকের মধ্যে ছিল বড় একটি চকলেট বার।

সবাই যখন প্যাকেট খুলে ফেলেন, তখন হাসিনা সেখানে উপস্থিত হন। এরপর যেসব কর্মী চকলেট পেয়েছিলেন, তাদের প্রত্যেককেও নতুন ফোন উপহার দেয়া হয়।

‘আমাদের সেরা পারফর্ম করা ১২ জন কর্মীর জন্যই এই উপহার ছিল,’ বলেন হাসিনা। ‘চকলেটগুলো ছিল আমাদের করা ছোট্ট একটি প্র্যাঙ্ক। তবে সেখানে থাকাকালে আমি লক্ষ্য করেছি, যারা চকলেট পেয়েছিলেন, তাদের কেউই হতাশ হননি। তারা যা পেয়েছেন, খুশি মনে তা গ্রহণ করেছেন। অবশ্য আমরা যখন তাদের ফোন দিলাম, তখন তারা ভীষণ আনন্দিত হয়েছেন। তাদের মুখের আনন্দই আমাদের জন্য একটি উপহার।’

কর্মী ধরে রাখার কৌশল

কর্মীদের খুশি রাখতে হাসিনা ও নিশাদের এই উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। গত বছরও সেরা পারফর্ম করা কর্মীদের আইফোন উপহার দেয়া হয়েছিল।

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ১৬ কর্মীর জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। তাদের পাঁচ তারকা হোটেলে থাকার সুযোগ, চালকসহ বিলাসবহুল গাড়িতে ভ্রমণ এবং ইয়টে পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। আর ২০২৩ সালে কর্মীদের জন্য বিশেষ সিনেমা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

হাসিনার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটিকে দীর্ঘমেয়াদে সেরা কর্মীদের ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%