সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৪ পি.এম
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে দুই ক্যাটাগরির পদে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে।
পদের নাম: অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (কারিগরি)।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই/ইসিই/ইটিই/সিএসই) স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।
অন্যান্য যোগ্যতা: সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪৮ (আট চল্লিশ) বছর। তবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫০ (পঞ্চাশ) বছর।
বেতন: ৯৬,২৫০–১,৩৭,০৫০ টাকা।
পদের নাম: সহকারী ব্যবস্থাপক (কারিগরি)।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে (ইইই/ইসিই/ইটিই/সিএসই) স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি।
বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ (বত্রিশ) বছর।
বেতন: ২৯,৭৫০–৬৬,১৭০ টাকা।
আবেদন ফি: ২০৬ টাকা।
আবেদন পদ্ধতি: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের শেষ সময়: ১ অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর, এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ০.৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এদিন প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই তেল ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এই উদ্বেগের ফলস্বরূপ তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দুপুরের খাবার শেষ হয়ে গেছে। কর্মব্যস্ততার মাঝে কিছুটা অবসর মিলেছে। কাজের জায়গা থেকে দু’কদম এগোলেই চারপাশে দেখা যায় সবুজের সমারোহ।
কিছু শ্রমিক গাছের ছায়ায় বেঞ্চিতে বসে সহকর্মীদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ ফলের গাছের সারির মধ্য দিয়ে হাঁটছেন। কোথাও হাসির শব্দ শোনা যাচ্ছে, কোথাও জমে উঠছে আড্ডা। এই সবুজে ঘেরা নির্মল পরিবেশে কর্মঘণ্টার ক্লান্তি ভুলে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাচ্ছেন কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।
এটি কোনো বিনোদন কেন্দ্র কিংবা শহরের কোনো পার্ক নয়। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ইপিজেডের একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা ‘ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড’-এর একপাশে বিস্তৃত পরিসরে গড়ে তোলা হয়েছে ফলের বাগান ও পার্ক।
দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের গাছের পাশাপাশি কর্মীদের বসা, হাঁটা ও সময় কাটানোর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক পরিবেশ। বাগানের দু’পাশে সারি করে বসানো হয়েছে বেঞ্চ। দুপুর কিংবা রাতের খাবারের পর নির্দিষ্ট বিরতিতে কারখানার কর্মীরা সেখানে বসে আয়েশ করেন এবং নির্মল আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠেন।
প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বেপজার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কারখানার পরিবেশ পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের। সে সময় ক্যানপার্ক অ্যাপারেলসের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের চোখে পড়ে ভিন্ন এক পরিবেশ।
ক্যানপার্কের পরিচালক (মানবসম্পদ) মো. খলিলুর রহমান জানান, এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত একটি কারখানা। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং কর্মীদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি লিড-প্লাটিনাম (লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) সনদ অর্জন করেছে। এ ধরনের পরিবেশই লিড সার্টিফিকেট অর্জনের পূর্বশর্ত।
তিনি আরও জানান, কর্মীরা এত ভালো পরিবেশে কাজ করেন যে তাদের ক্লান্তির অবকাশ নেই। তাদের জীবনের প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং বেপজার (বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষ) সমন্বয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারখানার আঙিনায় বাগান এবং বিনোদনের জন্য পার্কের পরিবেশ রাখা হয়েছে। এতে কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং তাদের কাজের মানও উন্নত হয়।
মো. খলিলুর রহমান আরও বলেন, ক্যানপার্কের মূল ইউনিটগুলো কর্ণফুলী ইপিজেডের সেক্টর-৩-এর ৬৯ থেকে ৮৫ নম্বর প্লট এবং সেক্টর-২-এর ১৪ থেকে ২৩ নম্বর প্লটজুড়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে স্বীকৃত ‘ক্যানপার্ক ইউনিট-২’ প্রায় ১,৮০,১৩০ বর্গফুট আয়তনের ওপর নির্মিত। কারখানাটির চারপাশে ২০ শতাংশ জায়গা খালি রাখা হয়েছে। সেখানেই গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান ও পার্ক। পুরো কারখানাটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১১ হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছেন, যার ৬০ শতাংশই নারী। শ্রমিকদের জন্য কারখানার ভেতরেই মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে। সন্তানদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
কারখানায় থাকা সবুজের পরিসর শুধু চোখের প্রশান্তি দেয় না, বরং কর্মীদের দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততার মাঝে দুদণ্ড স্বস্তি এনে দেয়। দীর্ঘ সময় কারখানার ভেতরে কাজ করার পর কিছু সময়ের জন্য গাছের ছায়ায় বসা, সহকর্মীদের সঙ্গে গল্প করা কিংবা বাগানের ভেতর হাঁটার সুযোগকে কর্মীরা নিজেদের জন্য আলাদা এক প্রশান্তি হিসেবে দেখছেন।
কারখানার সুইং অপারেটর রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের কারখানার পরিবেশ এত ভালো যে কখনও ক্লান্তি আসে না। ভেতরে সেন্ট্রাল এসিতে (কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত) কাজ করি। আবার সেখান থেকে বেরিয়ে দু’কদম হাঁটলেই সবুজের রাজ্য খুঁজে পাই। বাগানের বিভিন্ন গাছ থেকে মৌসুমভেদে কখনও আম, কখনও বরই, পেয়ারা কিংবা সফেদা নিজের হাতে পেড়ে খাই। এটাকে খুবই অসাধারণ বলে মনে হয়।’
কারখানা কর্মকর্তারা জানান, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কর্মপরিবেশ তৈরির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কারখানাটিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সবুজায়ন ও কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত সবুজ পরিসর তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই ব্যবস্থায় ভবনের জ্বালানি ও পানি সাশ্রয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। সেই বৃহত্তর সবুজ ভাবনারই দৃশ্যমান অংশ হয়ে উঠেছে কারখানা প্রাঙ্গণের এই ফলের বাগান।
এক নারী শ্রমিক বলেন, ‘সারাদিন কাজের মধ্যে থাকতে হয়। লাঞ্চের পর বাগানে গিয়ে কিছুক্ষণ বসতে পারলে শরীর-মন দুটোই হালকা লাগে। আগে কারখানা বলতে শুধু কাজের জায়গাই বুঝতাম। এখানে এসে মনে হয়, কাজের পাশাপাশি আমাদের জন্য বিশ্রাম ও আনন্দের কথাও ভাবা হয়েছে।’
কারখানার ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যে এ ধরনের ছোট আনন্দই কর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ কিছু। শহুরে কর্মপরিবেশে যেখানে কংক্রিট আর যন্ত্রপাতির ভিড়ই স্বাভাবিক দৃশ্য, সেখানে সুপরিসরে তৈরি এই সবুজ বাগান কর্মীদের জন্য প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, ক্যানপার্ক বাংলাদেশ অ্যাপারেল (প্রা.) লিমিটেড ২০০৭ সাল থেকে কর্ণফুলী ইপিজেডে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি শ্রীলংকা ও আমেরিকার একটি যৌথ উদ্যোগ। বাংলাদেশে তাদের প্রথম বিনিয়োগ শুরু করে ১৯৮৪ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে (সিইপিজেড)।
২০০৬ সালে কর্ণফুলী ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ২০০৭ সালে কর্ণফুলী ইপিজেডে চতুর্থ কারখানা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। কারখানাটিতে মূলত বটম ওয়্যার (প্যান্ট) তৈরি হয়। প্রতিদিন ১ লাখ পিস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় এসব পণ্য রপ্তানি হয়। বিশ্বের সেরা অনেক ব্র্যান্ড কারখানাটির ক্রেতা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কারখানাটির রপ্তানির পরিমাণ ৩৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল পরদিন। প্রস্তুতির কাজও সম্পন্ন ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলো না। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন আঁচল। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তার পরদিন ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আঁচলের স্বামী চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালে প্রথমে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ডা. আঁচল রায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখানে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও তিনি পাস করেছিলেন।
৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া আঁচল চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তার চিকিৎসকজীবন থেমে গেল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান আঁচল ঢাকায় বেড়ে ওঠেন। তিনি বাবা মনীশ রায় ও মা শ্রীমতি মিতা রায়ের সঙ্গে খিলগাঁও সি ব্লকে বসবাস করতেন। প্রায় ১৭ মাস আগে চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়েছে। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আইফোনের মাধ্যমে ছবি তোলা ও টিকটক ভিডিও তৈরি করার মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছিল সম্পর্ক। এরপর ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় ৭ দিন আগে। ঘটনার দিন, ছবি তোলার কথা বলে ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইফোন কেড়ে নেওয়ার পর তা ফেরত চাওয়ার কারণে কোদালের হাতল দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। তিন আসামির স্বীকারোক্তিতে এ পূর্বপরিকল্পিত হত্যার তথ্য উঠে এসেছে।
কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিন আসামির আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে। পরিকল্পনা, অপ্রতিমকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, আইফোন নেওয়া এবং তাকে আঘাত করার বিষয়ে তিনজনের বক্তব্যে অনেক জায়গায় মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সময়ের বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।
কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। পরদিন, কুমিল্লা সদর দক্ষিণের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এবং দুই কিশোর ২০ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন জবানবন্দির মধ্যে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে সবচেয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন তুহিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ-ছয় মাস ধরে অপ্রতিমের সঙ্গে পরিচয় ছিল। তার বন্ধু সিয়ামের মোটরসাইকেলে করে ছবি তোলা ও টিকটক করার জন্য অপ্রতিম তাদের সঙ্গে বের হতো।
তুহিন জবানবন্দিতে বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের দুজনের লোভ জন্ম নেয়। ‘দুজন’ বলতে তিনি নিজে এবং অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটির কথা উল্লেখ করেছেন।
তুহিনের দাবি, ঘটনার আগের শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের কিছুটা সামনে দুজনের দেখা হয়। সেখানেই আইফোন নেওয়া এবং অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরের জবানবন্দিতেও আগের শুক্রবারের বৈঠকের কথা এসেছে। তবে ওই কিশোর পরিকল্পনার দায় মূলত তুহিনের ওপর দিয়েছে। তার বক্তব্য, ‘তুহিন আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে মারার প্ল্যান করে।’
তৃতীয় জবানবন্দিতে অপর কিশোর বলেছে, ঘটনার দিন বিকেলে তার বন্ধুই তাকে পরিকল্পনার কথা জানায় যে তুহিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে আইফোনের জন্য অপ্রতিমকে হত্যা করা হবে।
অর্থাৎ, তিন জবানবন্দির মধ্যে একটি জায়গায় বড় মিল রয়েছে—হত্যার সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া হয়নি। আইফোনকে কেন্দ্র করে পূর্বে থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তিনজনের বক্তব্যে উঠে এসেছে।
তুহিনের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার আগের দিন ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ময়নামতির একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউশনের সামনে অপ্রতিমের সঙ্গে তার দেখা হয়। অপ্রতিম তাকে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টের ঠিকানা দেয়। ওই রাতেই টিকটকে অপ্রতিমকে মেসেজ করেন তুহিন। পরে অপ্রতিম একটি মুঠোফোন নম্বর দিলে সেই নম্বরে কথা হয়। পরদিন জুমার নামাজের পর দেখা করার সিদ্ধান্ত হয়।
অপ্রতিম তার বাবার দোকানে কর্মরত ওই কিশোরকেও একই সময় আসতে বলেছিল বলে তুহিনের বর্ণনায় এসেছে। কথা ছিল, তারা ছবি তুলবে। এই ‘ছবি তোলা’র সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে—এমন বর্ণনাই পাওয়া যায় তিনজনের জবানবন্দি থেকে।
১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তার চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড় যুবকদের সঙ্গে মেলামেশা ও সম্পর্ককে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ‘অসম বন্ধুত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।
১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দেখা হয় বলে তুহিন জানিয়েছেন। এরপর অপ্রতিমকে ‘বুদ্ধি দিয়ে’ সানন্দা পশ্চিমপাড়ার দিকে নিয়ে যান। জায়গাটি নির্জন, এটি তার চাচা শাহ আলমের পাহাড় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন তুহিন।
অন্যদিকে, অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি জানিয়েছে, বেলা দুইটার পর কোটবাড়ির বোর্ড মার্কেট এলাকায় তার সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। পরে সন্ধ্যার আগমুহূর্তে সে তার আরেক কিশোর বন্ধুকে নিয়ে পাহাড়ে যায়। যাওয়ার আগে ওই বন্ধুকে পরিকল্পনার কথা খুলে বলে।
তৃতীয় কিশোরের বর্ণনাও কাছাকাছি। সে জানিয়েছে, বেলা ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি স্কুলের সামনে তার সঙ্গে ওই কিশোরের দেখা হয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনার কথা শোনে। এরপর বিকেল চারটার পর তারা পাহাড়ে যায় এবং সেখানে অপ্রতিম ও তুহিনকে বসে থাকতে দেখে।
চারজন একত্র হওয়ার পর কিছু সময় গল্প ও আড্ডা হয়—এ বিষয়টিতেও তিন জবানবন্দির বর্ণনা কাছাকাছি।
দোকানে কর্মরত কিশোরটি জবানবন্দিতে বলেছে, সে অপ্রতিমের কাছে ফোন চাইলে অপ্রতিম সেটি তাকে দেয়। কিছুক্ষণ ব্যবহারের পর সে ফোনটি তুহিনের হাতে দেয়।
তুহিনের জবানবন্দিতেও একই ধরনের বর্ণনা রয়েছে। ওই কিশোর অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোন নিয়ে অনেকক্ষণ ব্যবহারের পর সেটি আর অপ্রতিমকে ফেরত না দিয়ে তুহিনের হাতে দেয়। এরপর ফোন নিয়ে অপ্রতিম ও তুহিনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশও আগে জানিয়েছিল, অপ্রতিম আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে তুহিন বাধা দেন এবং এরপর মারধরের ঘটনা ঘটে।
এরপরের ঘটনাক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তিনজনের বক্তব্য মিলে যায়—অপ্রতিমকে প্রথম আঘাত করেন তুহিন। প্রথমে অপ্রতিমকে একটি থাপ্পড় মারেন তুহিন। এরপর পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল নিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তারপর অন্য দুজনকে মারতে বলেন।
দোকানে কর্মরত কিশোরটির বক্তব্যেও এসেছে, তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের ঝগড়া হওয়ার পর তুহিন পাশে পড়ে থাকা কোদালের হাতল দিয়ে প্রথমে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করেন। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, তুহিনই প্রথম ওই হাতল দিয়ে অপ্রতিমকে আঘাত করেন।
তিন জবানবন্দির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া যায় হত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিমের আইফোনের প্রতি তাদের লোভ হয়েছিল।
দ্বিতীয় কিশোর তার জবানবন্দিতে আরও স্পষ্ট করে বলেছে, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল, তুহিন ওই মোবাইল বিক্রি করে আমাকে টাকার ভাগ দিবে। এই জন্যই এই কাজ করা।’ তৃতীয় কিশোরও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে। তার ভাষ্য, তাকে বলা হয়েছিল আইফোনটি বিক্রি করে টাকার ভাগ দেওয়া হবে।
অপ্রতিমের মৃত্যুর পর কে কোথায় ছিলেন, সেই বর্ণনাতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তুহিন বলেছেন, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর অন্য দুজন একদিকে চলে যায় এবং তিনি অন্যদিকে চলে গিয়ে বাসায় ফেরেন। দ্বিতীয় জবানবন্দিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিম মারা যাওয়ার পর দুই কিশোর একসঙ্গে ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়। তখন তুহিন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। তৃতীয় কিশোরও বলেছে, সে ও তার বন্ধু একসঙ্গে চলে আসে; তুহিন অন্যদিকে যান। তবে অপ্রতিমের আইফোন শেষ পর্যন্ত তুহিনের কাছেই ছিল—তিনজনের বয়ানেই এমন কথা উঠে আসে।
তুহিনের জবানবন্দিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে তার বন্ধু মো. সিয়ামকে (১৯) নিয়ে।
তুহিনের ভাষ্য, হত্যার পর বাসায় ফিরে তিনি সিয়ামকে ফোন করে ডেকে আনেন এবং ‘সব কথা খুলে বলেন’। সিয়াম অপ্রতিম হত্যার প্ল্যানের কথা আগে থেকেই জানতেন বলেও জবানবন্দিতে উঠে আসে।
অন্য দুই আসামির জবানবন্দিতে অবশ্য হত্যার আগের পরিকল্পনার সঙ্গে সিয়ামের কোনো সম্পৃক্ততার কথা নেই। পুলিশ সিয়ামকে পরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
পুলিশের ভাষ্য ছিল, তিনি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি; তবে ঘটনার কথা জানার পর তা গোপন করেছিলেন। পুলিশ সূত্র জানিয়েছিল, হত্যার দিন রাতেই তুহিন তার সঙ্গে দেখা করে হত্যার বিস্তারিত জানিয়েছিলেন।
জবানবন্দিগুলোয় ঘটনার পরের দিনের আচরণের বর্ণনাও রয়েছে। তুহিন বলেছেন, হত্যার পরদিন সকালে অপ্রতিমের মামা তাঁকে ফোন করে অপ্রতিমের খোঁজ করেন। এরপর তিনি সিয়ামকে নিয়ে কোটবাড়িতে অপ্রতিমের খোঁজ করতে যান। অপ্রতিমের বাবার দোকানে কর্মরত কিশোরটি বলেছে, পরদিন সে অপ্রতিমের বাবার একজন সহকারীর সঙ্গে অপ্রতিমকে খুঁজেছে। পরে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর শুনে সেও ঘটনাস্থলে যায়।
অন্য কিশোর জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের পর সে এবং তার বন্ধু সন্ধ্যায় ফেসবুকে অপ্রতিমের মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেয়। আর এর মধ্যেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে তুহিনকে শনাক্ত করে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের বক্তব্য অন্যান্য তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে যাচাই করা হবে। হত্যাকাণ্ডে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এই তিনটি জবানবন্দি পাশাপাশি রাখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের পরিচয়, আইফোনের প্রতি লোভ, পূর্বপরিকল্পনা, নির্জন পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া, ফোন হাতে নেওয়া এবং এরপর হামলার মূল ঘটনাক্রমে মিল রয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে কার ভূমিকা কতটা ছিল—সেসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর মিলবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায়।
এখন সেই বিচারের অপেক্ষায় অপ্রতিমের পরিবার, সহপাঠী এবং কুমিল্লার মানুষ। যে বিকেলে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিল অপ্রতিম, সেই বিকেলের ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি—এটাই এখন স্বজনদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ