প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল পরদিন। প্রস্তুতির কাজও সম্পন্ন ছিল। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হলো না। দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ বছর বয়সী এই চিকিৎসককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাহমুদ আলম তারেক জানিয়েছেন, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন আঁচল। রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর তার পরদিন ডেঙ্গু ইউনিটে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম চার দিন তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পঞ্চম দিনে রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আঁচলের স্বামী চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, হাসপাতালে প্রথমে তাকে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ডা. আঁচল রায় নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। সেখানে এমবিবিএস সম্পন্ন করার পর ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএসের মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার পার্ট-ওয়ানও তিনি পাস করেছিলেন।
৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া আঁচল চিকিৎসাবিজ্ঞানে আরও দক্ষতা অর্জনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তার চিকিৎসকজীবন থেমে গেল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান আঁচল ঢাকায় বেড়ে ওঠেন। তিনি বাবা মনীশ রায় ও মা শ্রীমতি মিতা রায়ের সঙ্গে খিলগাঁও সি ব্লকে বসবাস করতেন। প্রায় ১৭ মাস আগে চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। তাদের কোনো সন্তান ছিল না।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ৪২তম বিসিএসের সহকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ডা. আঁচল রায়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিবার একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসককে হারিয়েছে। তিনি প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন