সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৯ পি.এম
মরিয়মের সঙ্গে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম ওরফে গাজী নজরুলের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল বাড়িতে যাতায়াতের কারণে। এমপি নজরুল মৌখিকভাবে এই তরুণীকে বিয়ে করেছেন, এমন স্বীকারোক্তি আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়, যেখানে দুই দফায় চারদিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন করে আর রিমান্ডের আবেদন না করে তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই চলছে এবং আসামিকে জামিনে মুক্তি দিলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে জেলে আটক রাখা প্রয়োজন।
নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়েছিল, কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই দফায় আট দিন রিমান্ড শেষে নজরুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে, গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি। তবে মরিয়মকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অভিযোগ উঠেছিল যে, ভিডিও প্রকাশের পর তিনি সাতক্ষীয়রা বিয়ের নিবন্ধন করিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন মরিয়মকে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছেন বলে নজরুল জানিয়েছেন। বিয়ের নিবন্ধন পরে করা হয়। মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে নজরুলের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি আগেই প্রকাশ হয়েছিল। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে নজরুলের ভাগ্নে হন এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান নজরুলের গাড়ি চালাতেন।
নজরুল বলেছেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের কথা। আসামি ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন।
গত জুলাইয়ে দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর নজরুল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকা শুরু করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে নজরুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বয়ান ছিল, যেগুলো মরিয়মের লেখা বলে পুলিশের ধারণা।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নজরুলের পাশাপাশি তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকেও আসামি করা হয়। মাসুম নিজের শ্যালক ওবায়দুরকেও আসামি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে ওবায়দুরই কলকাঠি নেড়েছিলেন। বিয়ের পর নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মরিয়মের ওপর। মামলার আগেই পুলিশ নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওবায়দুরকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত জুলাইয়ে ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওবায়দুর নজরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে তাকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। ওবায়দুরের দাবি, মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। তখন তিনি বাধা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক ওঠায় নজরুলকে তার দল জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করে, তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনও টিকে আছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক জনসাধারণকে সতর্ক করেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত ২২টি অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন করা উচিত নয়। দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার চলমান তদারকির অংশ হিসেবে এই সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ’।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা বা পেমেন্ট সেবা প্রদান করা নিষিদ্ধ।
আইনটির ৪(২) ধারার আওতায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কম্পানি পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা কিংবা পেমেন্ট সেবা প্রদান করতে পারবে না। এই বিধান লঙ্ঘন আইনটির ৩৭ (১) ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যক্তি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব অনুমোদনহীন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে লেনদেন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক চিহ্নিত করেছে যে, অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বহুদূর পে, জিনি পে, পেটিলার, বেঙ্গলি পে, পেরোয়া বিডি, সহজ পে বিডি, ইজি পে ওয়ে, একে পে, বিডি পে, সাজঘর পে, আস্থা পে/সি পে, উদ্যোক্তা পে, ওয়ালেট মিক্স, বিটিটি পে, ইজি পে অটোমেশন, ইউনিক পে বিডি, বিডি অটো পে, আরএইচ পে বিডি, ইজি পে, অটো পে লিমিটেড, বিশ্বস্ত ও পিঁপড়া পে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে যে, অনুমোদনহীন পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে লেনদেন করলে ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের ওপর নজরদারি অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে দুবাই নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. বাহার নামে এক প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে।
ওই নারীর অভিযোগ, বাহারের ধর্ষণে জন্ম নেওয়া তার সাত মাস বয়সি সন্তান বর্তমানে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, কিন্তু অভিযুক্ত বাহার মা-ছেলের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না এবং চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করছেন না।
মো. বাহার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ মার্কেট এলাকার বাসিন্দা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ভুক্তভোগী নারী নোয়াখালী প্রেস ক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন।
তিনি জানান, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন বাহার। একপর্যায়ে তাকে বিয়ে করার কথা বলে দুবাই নিয়ে যান। সেখানে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে না করেও দীর্ঘদিন তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি গোপন রাখতে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরে দেশে গুরুতর অসুস্থ এক বন্ধুকে দেখতে তাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন বাহার। দেশে ফেরার পর তাকে তার বাগেরহাটের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন বাহার। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ব্লক করে দেন।
তিনি আরও জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে জন্ম নেয় ওই নারীর গর্ভের সন্তান। বর্তমানে তার সন্তানের বয়স সাত মাস। সন্তান অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি।
তার অভিযোগ, বাহারের আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি মা ও সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এর আগে ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাহার ওষুধ খাইয়ে তার গর্ভের আরেকটি সন্তান নষ্ট করে দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তিনি সুবর্ণচরে বাহারের বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে হত্যার জন্য ৪ লাখ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। এ কারণে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি বর্তমানে বাগেরহাটে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ভুক্তভোগী বলেন, "আমি আমার সন্তানের বাবার স্বীকৃতি চাই। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষা করা হোক। সত্য প্রকাশ পাক। আমার সন্তান যেন ভবিষ্যতে বাবার পরিচয় নিয়ে কোনো সংকটে না পড়ে, সেটিই আমার দাবি। আমি ন্যায়বিচার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।"
তার অভিযোগ, বাহার লোক মারফত তাকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সন্তানের দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। এ বিষয়ে কোনো লিখিত সমঝোতা বা অর্থ লেনদেন হয়েছে কিনা- প্রশ্ন করলে তা অস্বীকার করেন ওই নারী।
এদিকে, বাহারের প্রথম স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার না করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য ওই নারীই দায়ী এবং এসব অভিযোগের কারণে তার সংসারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বেলাল হোসেন সুমনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
বাহারের প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা বললে তারা বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছেন বলে জানান। তবে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তাদের জানা নেই বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তারা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে প্রবাসী বাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী বর্তমানে সন্তানের ভবিষ্যৎ, পিতৃপরিচয় ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ছয়জন প্রার্থী, এমন তথ্য জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় তার আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদও মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, দুপুর দেড়টার দিকে মনোনয়ন দাখিল করেন ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। তার সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
পয়গাম আলী জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে দুজন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফয়সল আমিনই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
মনোনয়ন দাখিল করা বাকি চার প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামি এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির হোসেন মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আমি সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই।’
মনোনয়নপত্র দাখিলের পর মির্জা ফয়সল আমিন মন্তব্য করেন, ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করবেন। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করতে চান এবং নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে তিনজন আবেদন করেছিলেন। পরে দল থেকে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের একজন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন এবং অন্যজন আমি।’
জামায়াতের দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্রামে তিনি ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছেন। বর্তমানে বিএনপির কার্যকলাপ মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের উচ্চমূল্য, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি দেখে ভোটাররা আর বিএনপিকে ভোট দেবে না। তাই তিনি জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। জামায়াতে ইসলামের কর্মীরা আগে থেকেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। এরপর ২৯ অক্টোবর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, নব গঠিত রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন।
এর আগে চলতি বছরের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন দেলোয়ার হোসেন। ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি পরিবার মোরগ ‘চুচু’র প্রথম জন্মদিন উদ্যাপন করেছে, যা একটি কেক কেটে করা হয়। এটি ঘটেছে বাড়ির পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া পাঁচটি ডিমের একটি থেকে জন্ম নেওয়া মোরগটির জন্য।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামের আবদুল হাদীর বাড়িতে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের সদস্যরা কেকের সঙ্গে চুচুও অংশ নেয়। নাম ধরে ডাকলে সে সাড়া দিয়ে ছুটে আসে এবং পরিবারের সদস্য সুজানা শবনমের কোলে উঠে আদরও নেয়।
চুচুর জন্মের গল্পটি বেশ আলাদা। শিশু নিশাত শবনম খেলার ছলে পুকুরে ভাসতে থাকা পাঁচটি ডিম কাঠি দিয়ে তুলে বাড়িতে নিয়ে আসে। ডিম ভাঙার সময় একটি ডিমের ভেতর জীবিত ছানা পাওয়া যায়, যদিও তখন তার চোখ ফোটেনি।
পরিবারের সদস্যরা ছানাটির যত্ন নিতে শুরু করেন। কিছুদিন পর সে ‘চু চু’ শব্দ করতে শুরু করে, এবং সেখান থেকেই তার নাম হয় চুচু। পরে দেখা যায়, সেটি মোরগ।
সুজানা শবনম জানান, চোখ ফোটা পর্যন্ত চুচুকে তুলার মধ্যে রেখে যত্ন নেওয়া হয়। পরে পানি মিশিয়ে ফিড খাওয়ানো শুরু করেন তাঁরা। নিজের হাতে খাওয়ানোর ফলে পরিবারের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। শুরুতে তাঁরা চুচুর সঙ্গে ঘুমালেও পরে তার জন্য কাঠের ছোট ঘর বানিয়ে দেওয়া হয়।
চুচুর পছন্দের খাবারের মধ্যে রয়েছে নুডলস, চাল ও কেক। সাদা ভাত খেতে না চাইলেও পোলাও বেশ আগ্রহ নিয়ে খায়। চুচুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। কেক কাটার সময় সুজানার কোলে বসানো হয় তাকে। কেক মুখের কাছে ধরতেই আগ্রহ নিয়ে খেতে শুরু করে চুচু।
সুজানার চাচি নূরজাহান বেগম জানান, তার মুরগি ১২টি ডিম দিয়েছিল। সাতটি থেকে সময়মতো ছানা হলেও বাকি পাঁচটি থেকে ছানা হয়নি। আরও দুই দিন মুরগিটিকে বসিয়ে রাখার পর ডিমগুলো পুকুরে ফেলে দেন তিনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদার বলেন, "একটি মুরগির জন্য ১২টি ডিম বেশি। মুরগি ছোট হলে কয়েকটি ডিম পর্যাপ্ত তাপ না পাওয়ায় ২১ দিনের মধ্যে ছানা বের নাও হতে পারে। ডিম ভালো থাকলে পরে ছানা বের হয়ে বেঁচে থাকতে পারে।"
সুজানা বলেন, "চুচু যত দিন বাঁচবে, এ বাড়িতেই থাকবে। এত আদরের মোরগকে তারা জবাই বা বিক্রি করবেন না। এখন চুচু তাদের পরিবারেরই একজন সদস্য।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ