প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মরিয়মের সঙ্গে সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলাম ওরফে গাজী নজরুলের সখ্যতা গড়ে উঠেছিল বাড়িতে যাতায়াতের কারণে। এমপি নজরুল মৌখিকভাবে এই তরুণীকে বিয়ে করেছেন, এমন স্বীকারোক্তি আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্যকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হয়, যেখানে দুই দফায় চারদিন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন করে আর রিমান্ডের আবেদন না করে তাকে কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই চলছে এবং আসামিকে জামিনে মুক্তি দিলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে জেলে আটক রাখা প্রয়োজন।
নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদনও করা হয়েছিল, কিন্তু শুনানি শেষে বিচারক মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম জামিন নামঞ্জুর করে নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ফলে গত ২১ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুই দফায় আট দিন রিমান্ড শেষে নজরুল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে, গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিয়েই মরিয়মকে বিয়ে করেন তিনি। তবে মরিয়মকে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এমন অভিযোগ উঠেছিল যে, ভিডিও প্রকাশের পর তিনি সাতক্ষীয়রা বিয়ের নিবন্ধন করিয়েছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন মরিয়মকে কালেমা পড়ে মৌখিকভাবে বিয়ে করেছেন বলে নজরুল জানিয়েছেন। বিয়ের নিবন্ধন পরে করা হয়। মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে নজরুলের আত্মীয়তার সম্পর্কের বিষয়টি আগেই প্রকাশ হয়েছিল। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সম্পর্কে নজরুলের ভাগ্নে হন এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান নজরুলের গাড়ি চালাতেন।
নজরুল বলেছেন, মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সূত্রে ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে যাতায়াতের কথা। আসামি ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাতযাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এই সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিয়ে করেন।
গত জুলাইয়ে দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর নজরুল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন সংসদ সদস্যদের আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে মরিয়মকে নিয়ে থাকা শুরু করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কক্ষে কিছু চিরকুটও পাওয়া যায়, যেখানে নজরুলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বয়ান ছিল, যেগুলো মরিয়মের লেখা বলে পুলিশের ধারণা।
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ সেদিনই শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। মেয়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে নজরুলের পাশাপাশি তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকেও আসামি করা হয়। মাসুম নিজের শ্যালক ওবায়দুরকেও আসামি করেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়েতে ওবায়দুরই কলকাঠি নেড়েছিলেন। বিয়ের পর নজরুল ও মাকসুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন মরিয়মের ওপর। মামলার আগেই পুলিশ নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়েছিল এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওবায়দুরকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত জুলাইয়ে ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর ওবায়দুর নজরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন, যেখানে তাকে হত্যার জন্য চেষ্টা চালানোর অভিযোগ আনা হয়। ওবায়দুরের দাবি, মেয়েকে সংসদ সদস্য নজরুলের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন মরিয়মের বাবা-মা। তখন তিনি বাধা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর বিতর্ক ওঠায় নজরুলকে তার দল জামায়াতে ইসলামী বহিষ্কার করে, তবে তার সংসদ সদস্য পদ এখনও টিকে আছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন