১১:৪৭ এম
অফিস টাইম চলছিল। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই চিকিৎসক সরকারি দপ্তর ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থার মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখতে পেয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদানকারী ওই চিকিৎসক দৌড়িয়ে পালিয়ে গেলেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের আরামবাগ এলাকার চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এমন অবস্থায় ধরা পড়ে দৌড়ে পালানোর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) দুপুরে চাঁপাই এ্যাপোলো হাসপাতালে গিয়ে ডা. মো. ইনজামাম উল হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি এক রোগীর আলট্রাসনোগ্রাম করছিলেন। এ সময় কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে এসে তাকে দেখতে পান এবং ভিডিও ধারণ করতে থাকেন। চিকিৎসা দিচ্ছিলেন এমন সময় সাংবাদিক ও ক্যামেরা দেখেই চেয়ার থেকে উঠে দৌড় দেন ডা. ইনজামাম উল হক। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মিনার আহমেদ এবং সাকির আলী জানিয়েছেন, তারা হঠাৎ করেই হাসপাতাল থেকে ডাক্তারকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখেন। তার পেছনে কয়েকজন সাংবাদিকও ক্যামেরা নিয়ে ছুটে যান। এরপর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ওই চিকিৎসক নিজেই মুঠোফোন বের করে ফেসবুকে লাইভ শুরু করেন এবং দাবি করেন তিনি সেখানে নামাজ পড়তে এসেছেন। পরে জানা যায়, তিনি (ডা. ইনজামাম উল হক) অফিস ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে আসলেন চিকিৎসা দিতে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
চিকিৎসকের দৌড়ে পালানোর ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবক লিখেছেন, জনগণের টাকায় সরকারি দপ্তরে চাকুরি করেন অথচ সেখানে নিয়মিত থাকেন না। অফিস টাইমে তাকে প্রাইভেট হাসপাতালে পাওয়া যায়, এটি খুবই দুঃখজনক। এভাবে চিকিৎসকদের রুখে দিতে হবে এবং তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ্যাপোলো হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন এবং তত্ত্বাবধায়ক শ্রী বিশ্বজিৎ জানান, চিকিৎসক মো. ইনজামাম উল হক দুপুরের বিরতির সময় সিভিল সার্জন অফিস থেকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য আসেন। শ্রী বিশ্বজিৎ আরও জানান, একটি সিন্ডিকেট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে এটি ঘটানো হয়েছে। এটি সাংবাদিকদের সাথে একটু ভ্রান্তি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
এ ব্যাপারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করার পরও ফোন রিসিভ করেননি সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. মো. ইনজামাম উল হক। হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও তিনি উত্তর দেননি। এদিকে, রাত ১২টা নাগাদ ডা. মো. ইনজামাম উল হক তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আজ চারজন সাংবাদিক ও ডা. মো: ইনজামাম উল হক এর মধ্যে উদ্ভূত যে পরিস্থিতি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল, তার সুষ্ঠু সমাধান হয়েছে। নেতিবাচক মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন। (Admin post)
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দিন সময় সংবাদকে জানিয়েছেন, ডা. ইনজামাম উল হক সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার সাথে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে অফিসেই ছিলেন। কিন্তু অফিস টাইমে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার বিষয়ে তার আলাপ জানা ছিল না। এই বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, অফিস চলাকালীন সময়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরকম যদি কোনো অভিযোগ আসে তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ৪, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৫১ জন
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন