০৩:৫২ এম
স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বসবাসকারীদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণে দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এই কারণে দ্বীপের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। উত্তাল বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ার ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে টানা তিন দিন ধরে কক্সবাজার, টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে, একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত দমকা হাওয়া সাগরকে আরও উত্তাল করে তুলেছে। মাঝে মাঝে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বীপের নিচু এলাকার অনেক বাড়ি ও ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ মানুষ ঘরেই অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বিনা কারণে বাইরে বের হচ্ছেন না। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে যেতে পারছেন না জেলেরা, যার ফলে তাদের জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের একজন স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব উল্লেখ করেন, টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উত্তাল সাগরের কারণে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা আগের তুলনায় আনুমানিক ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে গেছে। বড় বড় ঢেউ একের পর এক দ্বীপের চারপাশে আছড়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ভারী বৃষ্টির কারণে দ্বীপের বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সাগর উত্তাল থাকায় জেলেরা মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। যদি দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে দ্বীপের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সেন্টমাটিন সাভিস ট্রলার সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রশিদ জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। সতর্ক সংকেত কেটে গেলে পুনরায় ট্রলার চলাচল শুরু হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
সেন্টমার্টিনের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানিয়েছেন, দ্বীপে অনেক বাড়ি ও ঘর ডুবে গেছে। এ ছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে নৌযান চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ফলে দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সেন্টমার্টিনে বঙ্গোপসাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন