বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:১৮ পি.এম
সংসদ ভবন, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হওয়ায় দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান।
আজ সংসদে এনসিপির সদস্য মো. আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪)-এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যের উদ্বেগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুততার সঙ্গে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘রামিসা মামলা থেকে শুরু করে রংপুরে সাম্প্রতিক চারটি হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্বল্পতম সময়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের দায়িত্ব অপরাধের বিচার করা। অপরদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হলো— অপরাধ তদন্ত করা, সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার করা এবং তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপকভাবে ব্যর্থ হয়েছে— এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট ঘটনা ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় ব্যর্থ হয়েছে— এমন কোনো ঘটনা আপনারা উল্লেখ করতে পারলে ওই নির্দিষ্ট ঘটনা সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জবাব দিতে পারি।’
সংসদ সদস্যের উদ্ধৃত অপরাধ সংক্রান্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে কোনো পরিসংখ্যান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এর উৎস ও তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতিও উল্লেখ করা উচিত।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সরকার এর আগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংসদে উপস্থাপন করেছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধির আওতায় দেওয়া বিবৃতির মাধ্যমেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের পরিসংখ্যান সংসদকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের নৈতিক প্রশিক্ষণ বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য পৃথক কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।
একজন সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, কয়েকজন বিপথগামী পুলিশ সদস্যের অসদাচরণের কারণে পুরো পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া উচিত নয়। কারণ, বাহিনীতে অনেক দক্ষ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ একাডেমিগুলোতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই নৈতিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। পুলিশ বাহিনীর সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিজ নিজ একাডেমিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণে নৈতিক প্রশিক্ষণ, শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং একাডেমিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
তিনি আবারও বলেন, ‘বর্তমানে নৈতিক প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।’
বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা এবং এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীর সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিতভাবে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সিরিয়াল নম্বর মিলিয়ে সেগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা লুট হওয়া কিছু আগ্নেয়াস্ত্রসহ নিয়মিত অস্ত্র উদ্ধার করছি। উদ্ধার করা অস্ত্রের নম্বর মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধার হলে গণমাধ্যমকে জানানো হচ্ছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, কারাগারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
আগের সরকারের সময়ে রাজনৈতিক বা দলীয় বিবেচনায় পুলিশে নিয়োগের অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্তে বিভিন্ন জেলায় হাজার হাজার পুলিশ কনস্টেবল ও অন্যান্য পদমর্যাদার সদস্য নিয়োগে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।
কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জেলার নিয়োগে যোগ্যতা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরা ঠিকানা পরিবর্তন করেছিলেন বলেও জানান তিনি। এমনকি কেউ কেউ ছোট জমি কিনে সেই ঠিকানাকে স্থায়ী বা গ্রামের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্ত আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। তদন্ত শেষ হলে এর ফলাফল জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ : বৃহস্পতিবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ড্রয়ের জন্য সিডিং পট চূড়ান্ত হয়েছে, যখন শেষ চারটি দল মূল প্রতিযোগিতায় তাদের স্থান নিশ্চিত করেছে।
লিগ পর্বে অংশগ্রহণকারী ৩৬টি দলকে গত পাঁচ বছরে উয়েফার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাদের ফলাফলের ভিত্তিতে চারটি পটে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি দলকে তাদের পট থেকে দুটি করে দলের বিপক্ষে খেলার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে, যেখানে একটি ম্যাচ নিজেদের মাঠে এবং অপরটি প্রতিপক্ষের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
পট ১-এ স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থান পেয়েছে ইউরোপের টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। তাদের সঙ্গে একই পটে রয়েছে গত বছরের ফাইনালে পিএসজির কাছে পরাজিত আর্সেনাল এবং ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ ক্লাবগুলো যেমন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, লিভারপুল, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটি, ইন্টার মিলান ও অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, যিনি তিনবারের চ্যাম্পিয়ন, পট ২ থেকে ড্রয়ে অংশগ্রহণ করবে। তারা দুই বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরছে। এই পটে তাদের সঙ্গী হবে ইউরোপা লিগজয়ী অ্যাস্টন ভিলা এবং সাবেক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ও এফসি পোর্তো।
পট ৩ ও ৪-এর বেশ কিছু দল গত দুই দিনে মূল পর্বে তাদের স্থান নিশ্চিত করেছে। বুধবার ফেনারবাখ, দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে লিঁওকে পরাজিত করে ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো বাছাইপর্ব পার হয়ে মূল পর্বে প্রবেশ করে।
পট ৩-এ থাকবে এইকে এথেন্সও। প্রথম লেগ গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর তারা ঘরের মাঠে লেভস্কি সোফিয়াকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে স্থান করে নিয়েছে।
গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে চমক দেখানো নরওয়ের বোডো/গ্লিমট পট ৩-এ রয়েছে এবং তাদের বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তারা ম্যানচেস্টার সিটি, অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ ও ইন্টার মিলানের বিপক্ষে একের পর এক স্মরণীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছেছিল।
নরওয়ের প্রতিবেশী ক্লাব ভাইকিং এফকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। তারা প্লে-অফে ডিনামো জাগরেবকে পরাজিত করে এই সাফল্য অর্জন করে। বুধবার ৩-১ গোলে জয়লাভ করে ভাইকিং ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তাদের রাখা হয়েছে পট ৪-এ।
পট ৪-এ আরও রয়েছে আজারবাইজানের সাবাহ, অস্ট্রিয়ার লাস্ক লিনৎস এবং ইতালির কোমো, যারা প্রথমবারের মতো মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।
লিগ পর্ব শেষে শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোতে প্রবেশ করবে। নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা দলগুলো নকআউট পর্বের প্লে-অফে মুখোমুখি হবে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের ড্রয়ের পট :
পট ১ :
পিএসজি (ফ্রান্স), বায়ার্ন মিউনিখ (জার্মানি), রিয়াল মাদ্রিদ (স্পেন), লিভারপুল (ইংল্যান্ড), ইন্টার মিলান (ইতালি), ম্যানচেস্টার সিটি (ইংল্যান্ড), আর্সেনাল (ইংল্যান্ড), বার্সেলোনা (স্পেন), অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ (স্পেন)
পট ২ :
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড (জার্মানি), রোমা (ইতালি), স্পোর্টিং সিপি (পর্তুগাল), অ্যাস্টন ভিলা (ইংল্যান্ড), পোর্তো (পর্তুগাল), ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ইংল্যান্ড), ক্লাব ব্রাগ (বেলজিয়াম), রিয়াল বেটিস (স্পেন), পিএসভি (নেদারল্যান্ডস)
পট ৩:
ফেয়েনুর্দ (নেদারল্যান্ডস), লিলি (ফ্রান্স), বোডো/গ্লিমট (নরওয়ে), নাপোলি (ইতালি), আরবি লিপজিগ (জার্মানি), ভিয়ারিয়ার (স্পেন), ফেনারবাখ (তুরস্ক), শাখতার দোনেৎস্ক (ইউক্রেন), গ্যালাতাসারে (তুরস্ক)
পট ৪:
স্লাভিয়া প্রাগ (চেক প্রজাতন্ত্র), স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (স্লোভাকিয়া), স্টুটগার্ট (জার্মানি), এইকে এথেন্স (গ্রিস), লাস্ক (অস্ট্রিয়া), কোমো (ইতালি), লেন্স (ফ্রান্স), ভাইকিং (নরওয়ে), সাবাহ (আজারবাইজান)।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় এসে, সিরিজের প্রথম টেস্টে টাইগাররা জয়লাভ করে। এটি বাংলাদেশের জন্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে প্রথম জয়। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের উন্নতি দেখে মুগ্ধ হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ।
এছাড়া, ওয়াহ টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। তার মতে, বর্তমান সময়ে টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা টেস্ট ক্রিকেটকে বিপদে ফেলছে। ২০০৩ সালের পর চলতি মাসে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামে। ডারউইনে প্রথম টেস্টের ১১ সেশনে দাপট দেখিয়ে টাইগাররা ৯ উইকেটে জয়লাভ করে। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। ফলে টাইগাররা প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের লিড পায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে আটকে রেখে ৫৭ রানের সহজ জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে নাজমুল হোসেন শান্ত ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেন।
প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর, ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশ মাত্র দু’দিনে ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়। তবে ওয়াহ বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াহ বলেন, ‘এটি সবচেয়ে বিস্ময়কর ফলাফল এবং টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে আমাদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় সর্তকবার্তা। তবে বাংলাদেশের এমন ভালো পারফরমেন্স করতে দেখাটা দারুণ ব্যাপার।’
১৬৮ টেস্টে ১০,৯২০ রান করা ওয়াহ আরও মন্তব্য করেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের পারিশ্রমিকও সবার জন্য একই রকম রাখতে হবে। শ্রীলংকা ও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটাররা যেন একই অর্থ পায়, যা ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা পায়।’ ওয়াহ পূর্বের টেস্ট ক্রিকেটের সাথে বর্তমান খেলার ধরনে অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে লড়াই করার মানসিকতা এখন আর টেস্ট ক্রিকেটে দেখা যায় না। ধৈর্য্য নিয়ে উইকেটে টিকে থেকে বড় রান করাই হল টেস্ট ক্রিকেট। টেস্ট ক্রিকেটে কখনো শুধু উইকেটে পড়বে, তিন-চারটি মেডেন ওভার খেলতে হবে এবং রান করার জন্য লড়াই করতে হবে। এটি এখনকার ধারা বা মানসিকতার বিপরীত। এ বিষয় এখন কিছুটা হারিয়ে গেছে। তাই টেস্ট ক্রিকেটে কিভাবে এটি করতে হয়, সেটি আবার শিখতে হবে।’
৬১ বছর বয়সী ওয়াহ পাঁচ দিনের এই ফরম্যাটকে টিকিয়ে রাখার জন্য আলাদা সময় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা ‘উইন্ডো’ তৈরি করতে হবে। কিন্তু এ কাজটি মোটেও সহজ নয়। টি-টোয়েন্টির যুগে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আলাদা সময় বের করতে আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, গত ১৭ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পতিত সরকারের উন্নয়নের বয়ান যতই বলা হোক না কেন, বাস্তবতার সঙ্গে উন্নয়নের সূচকের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
অধ্যাপক ড. তিতুমীর বলেন, যখন রাষ্ট্র সহিংস হয়ে ওঠে, তখন পরিবারে সহিংসতা বিদ্যমান থাকে। রাষ্ট্র যদি ভয় দিয়ে পরিচালিত হতে চায়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৭ বছরে পিতৃতান্ত্রিকতার সূচক সবচেয়ে বেড়েছে এবং এর ফলাফল আজকের আলোচকদের কথায় প্রতিফলিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে ভূমির অধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সমস্যার কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এটি আপনারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করছেন। কিছু হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে গেছে। বিগত সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে, দেশে ১ কোটি দরিদ্র বেড়ে গেছে। অর্থাৎ তারা শুধু উন্নয়নের ফাঁকা বুলি ছড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা চাই, প্রতিটি জীবনচক্রে নারী যেন উপকারভোগী হয়। তার শৈশব, মাতৃত্বকালীন সময় এবং শেষ বয়সেও তাকে তার প্রাপ্য অধিকার আমাদের সরকার দিতে চায়।
তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প কিছু নেই। কারণ এটার মাধ্যমেই আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মধ্যে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করার বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ২০ শয্যা করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সেটাকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। তবে দুঃখের বিষয়, এখানে আর হাত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এটাকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে চায়, যাতে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের দিকে যেতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী যে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্রের কথা বলেছেন, তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ ধারণাকে বাস্তবায়নে আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা পিকেএসএফের নাম শুনেছেন। সরকারকে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে হবে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), এসএমই ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এ কাজে যুক্ত করতে হবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। যারা গ্রামে কাজ করেন, তাদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। স্কুলে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। অফিসে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসুন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ : কিলিয়ান এমবাপ্পে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে রিয়াল মাদ্রিদকে লা লিগায় রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের বিশাল জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই জয়টি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ক্লাবটির কোচ হিসেবে হোসে মরিনহোর ঘরের মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে।
ম্যাচের সময় ভিনিসিয়াস জুনিয়রও একটি গোল করেন। জুড বেলিংহাম দুটি গোলে সহায়তা করেন। এই তিন তারকার অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে মাদ্রিদ বাস্ক অঞ্চলের দলের উপর সম্পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
গত শনিবার নিজের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে ২-১ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচের একই একাদশকে মাঠে নামান অভিজ্ঞ পর্তুগিজ কোচ মরিনহো।
মরিনহো মন্তব্য করেন, দলের সবচেয়ে বড় তিন তারকাকে একই সঙ্গে সেরা ছন্দে খেলা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। এই ম্যাচে তার সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ দেখা গেছে।
এমবাপ্পের প্রশংসা করে মরিনহো বলেন, “এই ছেলেটি অবিশ্বাস্য।” তিনি রিয়ালের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে বলেন, “রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়ার জন্য তাকে সত্যিই ক্ষুধার্ত মনে হচ্ছে। আর আমি এমন একটি দল দেখতে পাচ্ছি, যেখানে কিলিয়ান এমবাপ্পে তার মতোই অসাধারণ হলেও দলটির কথা না বলে পারছি না।”
ম্যাচ শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ভিনিসিয়াসের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এমবাপ্পের নিচু শট আলেক্স রেমিরো রুখে দেন। অন্য প্রান্তে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া মিকেল ওইয়ারসাবালের শট দারুণভাবে রুখে দেন।
এমবাপ্পের পাস থেকে ভিনিসিয়াসের শটও রেমিরো ঠেকান। রিয়াল সোসিয়েদাদের সার্জিও গোমেজের ভলি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পাঁচ মিনিট আগে গোলের দেখা পায় মাদ্রিদ। ফেডেরিকো ভালভার্দের পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপ্পে। লা লিগায় গত দুই মৌসুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফরাসি ফরোয়ার্ড বুদ্ধিদীপ্তভাবে প্রতিপক্ষের মার্কিং এড়িয়ে বলটি উপরের কোনায় পাঠিয়ে মৌসুমে নিজের প্রথম গোল করেন।
রিয়াল মাদ্রিদ টিভিকে অধিনায়ক ভালভার্দে বলেন, “এটা অসাধারণ, অবিশ্বাস্য, এমবাপ্পেকে পাওয়া সত্যিই দারুণ। তার খেলা আমাদের উপভোগ করতে হবে এবং যতটা সম্ভব তার কাছ থেকে সর্বোচ্চটা নিতে হবে। আমাদের তাকে হাজারটা বল দিতে হবে, যাতে সে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, গোল করতে পারে এবং খুশি থাকে।”
তবে গত মৌসুমের কোপা দেল রে চ্যাম্পিয়ন রিয়াল সোসিয়েদাদের বিরতির আগেই সমতায় ফিরে। জব ওচিয়েং বল নিয়ে কিছুটা দেরি করেন এবং তার শট ব্লক হয়ে যায়। তবে বলটি চলে যায় লুকা সুসিচের কাছে। আলভারো কারেরাসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করা শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান সুসিচ।
ভালভার্দে জানান, দ্বিতীয়ার্ধে প্রেসিংয়ের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছিল মাদ্রিদ, যার সুফল তারা পেয়েছে।
উরুগুয়ের এই মিডফিল্ডার বলেন, “তাদের অর্ধে বল ফিরিয়ে আনতে আমাদের বেশ কঠিন লাগছিল... আমরা সেটি সামঞ্জস্য করেছি এবং দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছি।”
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরদা গুলের পাস থেকে এমবাপ্পে বল পান, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন রেমিরো। কিছুক্ষণ পর এমবাপ্পের পরের প্রচেষ্টার সামনে স্প্যানিশ গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।
ভালভার্দে ও এরপর বেলিংহামের সমন্বয়ে তৈরি একটি সুন্দর আক্রমণে বেলিংহাম এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন। এমবাপ্পে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন।
এরপর গোল করেন ভিনিসিয়াস। এতক্ষণ পর্যন্ত নীরব থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে গোলটি পেতে সহায়তা করেন বেলিংহাম। ইংলিশ মিডফিল্ডারের শট ব্লক হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। রিয়াল সোসিয়েদাদের বক্সে বলটি পুনরুদ্ধার করে ভিনিসিয়াসের সামনে তুলে দেন। ভিনি সহজেই বল জালে ঠেলে দেন।
গোল করার পর আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন ভিনিসিয়াস। নিখুঁত পাসে এমবাপ্পেকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। এমবাপ্পে রেমিরোর মাথার ওপর দিয়ে আলতো করে বল তুলে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার সাত মিনিট আগে রেকর্ড মূল্যে রিয়ালে যোগ দেওয়া ইয়ান দিয়োমান্দের জন্য ভিনিসিয়াসকে তুলে নেন মরিনহো। মাঠ ছাড়ার সময় কোচের সঙ্গে আলিঙ্গন করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করার তৃপ্তি ছিল তার মুখে।
গত মৌসুমে অক্টোবরে বার্সেলোনার বিপক্ষে ক্লাসিকো জয়ের সময় জাবি আলোনসো তাকে বদলি করায় ক্ষুব্ধ হওয়ার পর থেকেই রিয়ালের মৌসুমের ছন্দ নষ্ট হতে শুরু করেছিল। তবে সম্প্রতি ২০৩২ সাল পর্যন্ত ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি বাড়ানো ভিনিসিয়াস এবার ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ