প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, গত ১৭ বছরে নারীর প্রতি সহিংসতা যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, পতিত সরকারের উন্নয়নের বয়ান যতই বলা হোক না কেন, বাস্তবতার সঙ্গে উন্নয়নের সূচকের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।
অধ্যাপক ড. তিতুমীর বলেন, যখন রাষ্ট্র সহিংস হয়ে ওঠে, তখন পরিবারে সহিংসতা বিদ্যমান থাকে। রাষ্ট্র যদি ভয় দিয়ে পরিচালিত হতে চায়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়, যা পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৭ বছরে পিতৃতান্ত্রিকতার সূচক সবচেয়ে বেড়েছে এবং এর ফলাফল আজকের আলোচকদের কথায় প্রতিফলিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে ভূমির অধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সমস্যার কারণে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এটি আপনারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করছেন। কিছু হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে গেছে। বিগত সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দেখা গেছে, দেশে ১ কোটি দরিদ্র বেড়ে গেছে। অর্থাৎ তারা শুধু উন্নয়নের ফাঁকা বুলি ছড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা চাই, প্রতিটি জীবনচক্রে নারী যেন উপকারভোগী হয়। তার শৈশব, মাতৃত্বকালীন সময় এবং শেষ বয়সেও তাকে তার প্রাপ্য অধিকার আমাদের সরকার দিতে চায়।
তিনি বলেন, আন্দোলন-সংগ্রামের বিকল্প কিছু নেই। কারণ এটার মাধ্যমেই আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য চেষ্টা করতে হবে এবং রাষ্ট্রকে জবাবদিহির মধ্যে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বারবার উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রযন্ত্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন করার বিষয়ে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ২০ শয্যা করা হয়। এরপর বেগম খালেদা জিয়া সেটাকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। তবে দুঃখের বিষয়, এখানে আর হাত দেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এটাকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করতে চায়, যাতে স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, সংবিধানে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী আমাদের ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের দিকে যেতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী যে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্রের কথা বলেছেন, তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়।
দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ‘এক গ্রাম এক পণ্য’ ধারণাকে বাস্তবায়নে আপনাদের ভূমিকা রাখতে হবে। আপনারা পিকেএসএফের নাম শুনেছেন। সরকারকে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে উৎসাহিত করতে হবে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি), এসএমই ফাউন্ডেশনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এ কাজে যুক্ত করতে হবে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। যারা গ্রামে কাজ করেন, তাদের এ বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। স্কুলে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করুন। অফিসে গিয়ে বলতে হবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে এগিয়ে আসুন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির চেয়ারপারসন খুশী কবির।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন