ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ


আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, যে রাতে থেমে গিয়েছিল এক মেধাবী প্রাণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের ফলে তার মৃত্যু ঘটে। আবরারের একটি ফেসবুক পোস্ট, যা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কিছু চুক্তির সমালোচনা করে লেখা হয়েছিল, তাকে হত্যা করার পেছনের কারণ হিসেবে মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবরার হত্যার পর সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা ভিন্নমত দমন ও শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। আবরারের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি প্রতীক হিসেবেও তাকে মনে করা হয়।

আবরার ফাহাদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারি কর্মসূচি পালন করা হলেও, এবারে সরকারি কোনো কর্মসূচির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ একটি দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। আজ (৭ অক্টোবর) বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের উদ্যোগেও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়ার গ্রামের বাড়ি থেকে বুয়েটের হলে ফিরে আসেন। তিনি তখন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই দিন রাত ৮টার দিকে তাকে শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তানিম নামের এক শিক্ষার্থী ঘুম থেকে আবরারকে তুলে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে।’ আবরার জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, ‘গেলেই দেখতে পাবি।’ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে সন্ধ্যায় মুজতবা রাফিদ তার সহযোগী ইফতি মোশাররফ ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি যাবেন এবং আবরারকে ধরলে সেদিনই ধরতে হবে। এ সময় হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ অন্যদের জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছেন।

এই খবর পাওয়ার পর তারা ২০১১ নম্বর কক্ষে আবার একত্রিত হন। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি এবং এএসএম নাজমুস সাদাত আবুজার আবরারের কক্ষে যান। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আবরারকে মারধরের জন্য তানিম ক্রিকেটের স্টাম্পও নিয়ে যান।

পরে আবরারের ল্যাপটপ ও মোবাইলসহ তাকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ তার মোবাইল ও ল্যাপটপ পরীক্ষা করতে থাকেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আবরারের মোবাইলে শিবিরের তথ্য পাওয়া গেছে—এমন কথা বলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

এরপর আবরারকে চশমা খুলতে বলা হয়। চশমা খোলার পর মেহেদী হাসান ওরফে রবিন তার মুখে কয়েকটি জোরে থাপ্পড় মারেন। এর মধ্যে মোরশেদ অমর্ত্য ইসলাম কাঠের তৈরি শক্ত ক্রিকেট স্টাম্প নিয়ে আসেন। ইফতি মোশাররফ প্রথমে আবরারকে থাপ্পড় মারেন এবং পরে ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তার পিঠ, পা, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রচণ্ড মারধরে একটি ক্রিকেট স্টাম্প দুই টুকরা হয়ে যায়। এরপর এহতেশামুল রাব্বি আরও একটি স্টাম্প নিয়ে আসেন। অনিক সরকারও একটি স্টাম্প হাতে তুলে নেন এবং একটানা আবরারের শরীরে ৫০ থেকে ৬০টি আঘাত করেন। এতে আবরার মেঝেতে পড়ে যান।

পরে মুজাহিদুল ইসলাম ও শামিম বিল্লা মোটা দড়ি দিয়ে আবরারকে দুই থেকে তিনটি আঘাত করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় আবরার বাঁচার জন্য আকুতি-মিনতি করেন। এরপর মিফতাহুল ইসলাম ওরফে জীয়ন ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকেন এবং বারবার জানতে চান, আবরার শিবির করেন কি না।

রাত ১১টার দিকে ওই কক্ষে এসএম মাহমুদ ওরফে সেতু আসেন। তিনি উপস্থিত অন্যদের কাছে আবরারের বিষয়ে জানতে চান। তখন অনিক সরকার, ইফতি মোশাররফ ও মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আবরার কোনো তথ্য দিচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এরপর মাহমুদ ওরফে সেতু অন্যদের ‘মারতে থাক’ বলে নির্দেশ দেন। এরপর আবার ক্রিকেট স্টাম্প ও দড়ি দিয়ে আবরারকে মারধর করা হয়। ইফতি মোশাররফ ও অনিক সরকার তাকে স্টাম্প দিয়ে পেটাতে থাকেন। হাতের কনুই দিয়েও আবরারের পিঠে আঘাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবাই মিলে তাকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারতে থাকেন।

ওই কক্ষ থেকে বের হওয়ার আগে অনিক সরকার ও মেহেদী হাসান ওরফে রবিন অন্যদের বলেন, ‘তোরা আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর।’ এরপর মনিরুজ্জামান মনির জানান, তিনি আবরারের মোবাইল পরীক্ষা করে শিবিরের তথ্য পেয়েছেন। এরপর তিনি ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে আবরারকে মারধর করেন।

তাবাখখারুল, নাজমুস সাদাত, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম এবং মুনতাসির আল জেমিও আবরারকে চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। পরে অনিক সরকার আবার ওই কক্ষে ঢুকে ক্রিকেট স্টাম্প হাতে নেন এবং আবরারকে আরও ৪০ থেকে ৫০টি আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একপর্যায়ে আবরার বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। তিনি বাঁচার জন্য ইশারা-ইঙ্গিতে আকুতি-মিনতি করলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

আরও পড়ুন: ইবির সমাবর্তন ২ ফেব্রুয়ারি, রেজিষ্ট্রেশনের তারিখ ও ফি নির্ধারণ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাতভর নির্যাতনের একপর্যায়ে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সিঁড়ির কাছে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা রাতের খাবার খেতে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মরদেহ সিঁড়ি থেকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে রাখা হয়। ভোরে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

হলের সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজনকে আবরারকে ধরে সিঁড়ির দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। সে সময় হলের প্রাধ্যক্ষ জাফর ইকবাল খান জানিয়েছিলেন, রাত পৌনে ৩টার দিকে খবর পেয়ে বুয়েটের চিকিৎসক এসে পরীক্ষা করে আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ ও অনুসন্ধান প্রকাশিত হয়েছে। গণমাধ্যমের এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, বুয়েটের ‘আড়ি পেতে শোনা’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ভিন্নমতাবলম্বী ও ধর্মীয়ভাবে অনুশীলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একটি পরিবেশ তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের ক্ষেত্র তৈরি করে।

অনুসন্ধানে বলা হয়, ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা ওই গ্রুপটি ২০১৩ সালের শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় থেকে শাহবাগপন্থি ও ইসলামবিদ্বেষী অবস্থান নেয়। গ্রুপটির তৎকালীন প্রশাসক প্যানেল ‘বুয়েটকে শিবিরমুক্ত করার’ প্রচার চালায়। এর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে গ্রুপটিতে ৪৪ জন শিক্ষার্থীর একটি নিষিদ্ধ তালিকা প্রকাশ করা হয় বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়। তালিকায় শিবির বা সরকারবিরোধী মত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের নামও ছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চুয়েট অধ্যাপক আরাফাতকে শিক্ষার্থীদের অবাঞ্চিত ঘোষণা

ওই তালিকায় থাকা বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত ১৪ জন ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়। তালিকা তৈরি ও প্রকাশের সঙ্গে তৎকালীন প্রশাসক প্যানেলের সদস্য জাভেদ ইকবাল, মিশকাত আল আলভি, মাসুদ করিম খানসহ অনেকে জড়িত ছিলেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধান অনুযায়ী, ‘আড়ি পেতে শোনা’ গ্রুপের চিহ্নিত সদস্যরা তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন, যেখানে কাউকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতন করাকে বৈধতা দেওয়া হতো। বিভিন্ন পোস্টে এ ধরনের নির্যাতনের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হতো বলেও অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘শিবিরমুক্ত’ করার নামে ধর্মভীরু শিক্ষার্থীদেরও শিবির আখ্যা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে নির্যাতনের ভয়ে সহপাঠীরাও আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে সাহস পেতেন না। আবরার ফাহাদকে ওই পরিবেশের সবচেয়ে মর্মান্তিক শিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বুয়েটের ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নির্যাতনের বিষয়ে প্রশাসন অবগত থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এমন অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ওঠে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা সহযোগিতা নির্যাতনের পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল বলেও অভিযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন: মহানবী (সা.)-কে কটূক্তির অভিযোগে জাবি শিক্ষার্থী সাময়িকভাবে বহিষ্কার

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর সারা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ২৫ জনকে আটক করা হয়। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালত ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। নিম্ন আদালতের রায়ের পর ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়।

২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। পরে বিচারিক আদালতের দেওয়া ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্ট রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। তবে রায়ে সন্তুষ্ট থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ কোনো আপিল করেনি।

এখন চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা। দুই ধাপের বিচার শেষ হলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে কত সময় লাগবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কোনো পক্ষ।

আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজও বুয়েটে পড়াশোনা করছেন। ভাইয়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগপত্রে বর্ণিত ঘটনার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন।

আবরার ফাহাদ হত্যার আগে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া শেষ পোস্টটি ছিল ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর। ওই পোস্টে তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

পোস্টে আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, দেশভাগের পর বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে কোনো সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ছয় মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও ভারত তা দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর তিনি লেখেন, ‘ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে।’

পোস্টের দ্বিতীয় অংশে কাবেরী নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আবরার। তিনি লিখেছিলেন, যে দেশের একটি রাজ্য অন্য রাজ্যকে পানি দিতে চায় না, সেখানে বাংলাদেশ বিনিময় ছাড়া প্রতিদিন দেড় লাখ ঘনমিটার পানি দেবে।

তৃতীয় অংশে তিনি ভারতের উত্তরাঞ্চলে কয়লা ও পাথর রপ্তানি বন্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, গ্যাসের অভাবে বাংলাদেশের কারখানা বন্ধ করতে হলেও নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

পোস্টের শেষে কবি রজনীকান্ত সেনের ‘পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি’ কবিতার কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উদ্ধৃত করেন আবরার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক পরিবেশ ও নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীদের একাংশের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক নিপীড়নের পরিবেশেরই মর্মান্তিক পরিণতি ছিল আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ড।

সাত বছর পরও আবরার ফাহাদের নাম বাংলাদেশে একটি আলোচিত ছাত্রহত্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তার পরিবার, সহপাঠী ও সমর্থকদের কাছে তিনি ভিন্নমত প্রকাশের কারণে নিহত এক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের একটি স্মরণীয় প্রতীক।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের স্মার্ট তৈরিতে বড় উদ্যোগ, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে কার্যক্রম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৭ পি.এম


চট্টগ্রাম বন্দরের স্মার্ট তৈরিতে বড় উদ্যোগ, ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে কার্যক্রম

দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কাগজবিহীন এবং ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের আধুনিকীকরণ, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার পর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের জটিল ও বহুমাত্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য বিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবার পরিবর্তে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল অটোমেশনের পরিধি বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আমদানিকারক ও তাদের মনোনীত অভ্যন্তরীণ সেবাদানকারী এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সরকারি ছুটির দিনসহ সার্বক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা বন্দরের পাওনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়ের জন্য ‘অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে।

বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত জুলাইয়ে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানি কনটেইনারের ডেলিভারি অর্ডার ডিজিটালাইজেশনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে এখন আমদানিকারকরা কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানবাহনের দীর্ঘ সারি কমাতে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালু করা হচ্ছে। ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট (ইআইআর) ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাক প্রবেশ, পণ্য বোঝাই ও বের হওয়ার সময়সূচি পূর্বনির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, কাস্টমসের নিলামজাত পণ্য সরবরাহ, বিশেষ ডেলিভারি কার্যক্রম এবং ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব লজিস্টিকস অংশীদারের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

বন্দর সচিব বলেন, বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিংয়েও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্লটভিত্তিক ডিজিটাল পার্কিং টিকিট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয় ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া বন্দরের ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই’ প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ডও রয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজ বন্দরে আসা, বিল পরিশোধ, কাস্টমস ছাড়পত্র থেকে শুরু করে পণ্য খালাস ও চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো বহুমাত্রিক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও অনুসরণযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে পণ্য খালাসে সময় কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গতি আনার পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের বন্দরগুলোর মতো স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর সমুদ্রপথের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাবিতে ১৫ অক্টোবর শোক দিবস, ক্লাস-কার্যক্রম বন্ধ থাকবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


ঢাবিতে ১৫ অক্টোবর শোক দিবস, ক্লাস-কার্যক্রম বন্ধ থাকবে

আগামী ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন করা হবে, যা ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর জগন্নাথ হলে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে জগন্নাথ হলের একটি ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ২৬ জন শিক্ষার্থী, ১৪ জন অতিথি ও কর্মচারীসহ মোট ৪০ জন নিহত হন। এছাড়া, অনেকেই আহত হন। প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শোক দিবস পালন করে।

এই দিনটি উপলক্ষে সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ভবন, সব হল ও হোস্টেলে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি থাকবে।

সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি শোক র‍্যালি বের হবে। র‍্যালিটি জগন্নাথ হল স্মৃতিসৌধে গিয়ে শেষ হবে, যেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও নীরবতা পালন করা হবে।

সকাল ৮টায় জগন্নাথ হলের অক্টোবর স্মৃতি ভবনের টিভি কক্ষে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআসহ সব হলের মসজিদে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হবে। এছাড়া, হল প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিহতদের তৈলচিত্র ও দুর্ঘটনাসংক্রান্ত তথ্য ও স্মৃতিচিহ্ন প্রদর্শন করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারোগেসি কাণ্ডে ক্যালিফোর্নিয়ায় দম্পতি গ্রেপ্তার, বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৮ পি.এম


সারোগেসি কাণ্ডে ক্যালিফোর্নিয়ায় দম্পতি গ্রেপ্তার, বেরিয়ে এলো ভয়াবহ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সারোগেসি কাণ্ডে আলোচিত দম্পতি গুওজুন শুয়ান এবং সিলভিয়া ঝাংকে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তাদের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের ষড়যন্ত্র ও সাক্ষীকে ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়।

লস অ্যাঞ্জেলেসের জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান জানান, দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের একটি তালিকা রয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের গোয়েন্দারা আর্কাডিয়ার নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন। পরে তাদের পাসাডেনা আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রত্যেককে ২ কোটি মার্কিন ডলার করে জামিনে আটক রাখা হয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে এই দম্পতির আর্কাডিয়ার প্রাসাদে অভিযান চালিয়ে ২১ শিশুকে হেফাজতে নেয় কর্তৃপক্ষ। এসব শিশুর বেশিরভাগই সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) প্রতিবেশীরা জানান, দম্পতির বাড়ির আশপাশে পুলিশের উপস্থিতি ও হেলিকপ্টার দেখা যায়। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছিল।

জেলা অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান বলেন, আদালতে দাখিল করা অভিযোগে ভয়াবহ শাস্তি, মারধর ও শিশু নির্যাতনের যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ওই বাড়িটিকে ‘ভয়ের বাড়ি’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে তদন্তের শুরু হয়। ওই সময় সিলভিয়া ঝাং মাথায় আঘাত পাওয়া দুই মাস বয়সী একটি শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মীদের কাছে আঘাতের কারণ সম্পর্কে তিনি অসত্য তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়।

লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ রবার্ট লুনা জানান, আর্কাডিয়া পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে এমন কিছু দেখতে পায়, যা আরও গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দম্পতির বাড়িতে থাকা ২১ শিশুকে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা করে তিনটি আলাদা কক্ষে বসিয়ে রাখা হতো। এসব কক্ষকে শিক্ষাকেন্দ্র বলা হতো। বিভিন্ন পরিচর্যাকারী সেখানে শিশুদের দেখভাল করতেন।

জেলা অ্যাটর্নি জানান, বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে মোট ৩২টি নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে এমন ক্যামেরা বসানো ছিল। এসব ক্যামেরার দৃশ্য দম্পতির ডেস্কের কাছে থাকা একটি টেলিভিশনে দেখা যেত। সেখান থেকে তারা পরিচর্যাকারীদের দেওয়া শাস্তি পর্যবেক্ষণ করতেন বলে অভিযোগ।

হকম্যান বলেন, ক্যামেরার ফুটেজে পরিচর্যাকারীদের শিশুদের চড়, থাপ্পড় ও মারধর করতে দেখা গেছে। চুনমেই লি নামের এক পরিচর্যাকারী দুই মাস বয়সী ওই শিশুটির মাথায় আঘাত করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আগে ১ লাখ ৫ হাজার মার্কিন ডলারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তিনি এখনো পলাতক।

দম্পতির আইনজীবী মিচেল ক্রেমস বলেন, তার মক্কেল নির্দোষ। তার দাবি, পালিয়ে যাওয়া পরিচর্যাকারীর কর্মকাণ্ডের জন্য শুয়ানকে দায়ী করা হচ্ছে। বড় পরিবার রাখার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনায় জড়িত দুই সারোগেট মায়ের আইনজীবী মেলিসা ব্রিসম্যান বলেন, এই ঘটনায় যারা দায়ী তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে—এটি ভালো খবর। সারোগেসি ব্যবস্থার অপব্যবহার করলে তার পরিণতি হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ব্রিসম্যান বলেন, যারা সন্তান লাভের জন্য সারোগেসির সহায়তা প্রয়োজন মনে করেন, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সারোগেসি ব্যবস্থায় যুক্ত সবার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কয়েকজনের অপকর্মের কারণে যেন পুরো ব্যবস্থাটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে আর্কাডিয়া পুলিশ বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের সহায়তা চায়। পরে এফবিআইও ওই বাড়িতে তল্লাশি চালানোর জন্য পরোয়ানা কার্যকর করে। শেরিফ বিভাগের তল্লাশি থেকে এটি আলাদা ছিল।

শেরিফ রবার্ট লুনা বলেন, এই ঘটনায় জড়িত ২১ শিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো একসঙ্গে কাজ করে যাবে।

দম্পতির হয়ে সারোগেসির মাধ্যমে দুটি সন্তানের জন্ম দেওয়া মারিয়া কাস্তেলানোস তাদের গ্রেপ্তারের খবর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, যা কিছু ঘটেছে, তা বন্ধ করার সুযোগ সবার ছিল, যাতে শিশুদের এত কিছু সহ্য করতে না হতো। পুরো প্রক্রিয়া ও ঘটনার জন্যই তিনি ক্ষুব্ধ বলে জানান।

কাস্তেলানোস বলেন, তিনি সিলভিয়া ঝাংকে বিশ্বাস করেছিলেন।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, ৬ দিন পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৯ পি.এম


মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ব্যর্থ, ৬ দিন পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘটনা অনুযায়ী, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৬ দিন পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কথা বলতে পারছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গত সপ্তাহে দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে তার আইনজীবীরা নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আইনজীবী রেন্ডি স্পাইভি ও কেলি গ্লিসন এক বিবৃতিতে জানান, ক্রিস্টার দুই হাতে গুরুতর আঘাত হয়েছে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ ব্যর্থ হওয়ার পর। এরপরও তাকে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।

আইনজীবীরা বলেন, ক্রিস্টার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তারা ধারণা করছেন, অন্তত দীর্ঘ সময় ধরে তাকে চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

তারা হাসপাতালে ক্রিস্টার চিকিৎসায় নিয়োজিত জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা তার জন্য প্রার্থনা ও সমর্থনের বার্তা পাঠিয়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।

গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টেনেসির কারা কর্মকর্তারা তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু ঘটেনি। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রে রাখা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে প্রাণঘাতী ওষুধের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেন।

নিহত কিশোরীর মা মে মার্টিনেজ ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে গোলমাল বলে মন্তব্য করেছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেন, টেনেসি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি ঠিক করতে হবে এবং ক্রিস্টা পাইক যেন মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবেই থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।

ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।

ক্রিস্টার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে পেন্টোবারবিটাল রক্তনালিতে প্রবেশ না করে শরীরের অন্য অংশে চলে যেতে পারে। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) গভর্নর বিল লি টেনেসির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের কথা জানান। এক বিবৃতিতে স্ট্রাডা বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কারা বিভাগ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে স্বাধীন তদন্ত চলার সময় টেনেসির মানুষের স্বার্থে তার সরে দাঁড়ানোই ভালো বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে কোলিন স্লেমারের মা বলেন, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ ও গভর্নর বিল লির কাছে তার অনেক কিছু পাওনা রয়েছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%