০৪:৫৯ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ঘটনা অনুযায়ী, গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৬ দিন পর জ্ঞান ফিরেছে ক্রিস্টা পাইকের। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তিনি কথা বলতে পারছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
গত সপ্তাহে দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে তার আইনজীবীরা নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আইনজীবী রেন্ডি স্পাইভি ও কেলি গ্লিসন এক বিবৃতিতে জানান, ক্রিস্টার দুই হাতে গুরুতর আঘাত হয়েছে দুই দফা পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ ব্যর্থ হওয়ার পর। এরপরও তাকে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
আইনজীবীরা বলেন, ক্রিস্টার সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়ে এখনও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে তারা ধারণা করছেন, অন্তত দীর্ঘ সময় ধরে তাকে চিকিৎসা ও সুস্থতার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
তারা হাসপাতালে ক্রিস্টার চিকিৎসায় নিয়োজিত জরুরি সেবাকর্মী ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যারা তার জন্য প্রার্থনা ও সমর্থনের বার্তা পাঠিয়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড হয়। হত্যার সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) টেনেসির কারা কর্মকর্তারা তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওষুধ প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু ঘটেনি। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য যন্ত্রে রাখা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীর থেকে প্রাণঘাতী ওষুধের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
নিহত কিশোরীর মা মে মার্টিনেজ ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে গোলমাল বলে মন্তব্য করেছেন। চলতি সপ্তাহে তিনি বলেন, টেনেসি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি ঠিক করতে হবে এবং ক্রিস্টা পাইক যেন মৃত্যুদণ্ডের আসামি হিসেবেই থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে চলতি বছরের বাকি সময়ের জন্য সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছেন।
ক্রিস্টার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, শিরায় ওষুধ দেওয়ার ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে পেন্টোবারবিটাল রক্তনালিতে প্রবেশ না করে শরীরের অন্য অংশে চলে যেতে পারে। এর ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন
শনিবার (৩ অক্টোবর) গভর্নর বিল লি টেনেসির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডার পদত্যাগের কথা জানান। এক বিবৃতিতে স্ট্রাডা বলেন, নির্ধারিত নিয়ম মেনেই কারা বিভাগ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তবে স্বাধীন তদন্ত চলার সময় টেনেসির মানুষের স্বার্থে তার সরে দাঁড়ানোই ভালো বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে কোলিন স্লেমারের মা বলেন, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনার পর টেনেসি কর্তৃপক্ষ ও গভর্নর বিল লির কাছে তার অনেক কিছু পাওনা রয়েছে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন