বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৩৭ পি.এম
মোশতাক আহমদ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সারাদেশের ২৭৬ জন দক্ষ ও পেশাদার গাড়িচালককে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
রাজধানীতে আগামী ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয়ভাবে ২০ জন এবং জেলা পর্যায়ে প্রতিটি জেলায় চারজন করে মোট ২৭৬ চালককে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে।
এ তথ্য সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের এক নথি থেকে জানা গেছে।
দক্ষ চালকদের উৎসাহিত করা, দায়িত্বশীল গাড়ি চালনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় চালকদের সম্মাননা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সড়কের সাইন-সিগন্যাল এবং রোড মার্কিং সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দেশব্যাপী প্রচারাভিযান পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক বাসসকে জানান, "দক্ষ ও দায়িত্বশীল চালকেরা নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের পেশাগত দক্ষতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে এ সম্মাননার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই, চালকেরা ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন এবং যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন।"
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্মাননাপ্রাপ্ত চালকদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সড়ক নিরাপত্তায় অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চালক নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বাসসকে বলেন, "পেশাদার চালকদের দক্ষতা, ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা এবং নিরাপদ ড্রাইভিং অভ্যাস সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। চালকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব।"
এ উপলক্ষে আগামী ২৮ অক্টোবর সকাল ১০টায় রাজধানীর সড়ক ভবনের সামনে থেকে রোডশো আয়োজন করা হবে। এতে সড়ক পরিবহন খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেবেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি), ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সংগঠনগুলো এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
একই দিন সকাল ১১টায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, চালকদের দায়িত্বশীলতা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ চালকদের সম্মাননা দেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে দীর্ঘমেয়াদে দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যানবাহনের ফিটনেস এবং সড়কের নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। সম্মাননার পাশাপাশি এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি।
পেশাদার চালকদের শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় অক্টোবর মাসে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় চক্ষু পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেন, চালকদের কাছ থেকে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করার পাশাপাশি তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। চালক ও পরিবহন মালিকদের সম্মিলিত উদ্যোগে সড়ক নিরাপত্তা আরও উন্নত করা সম্ভব।
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে সাইন, সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং সচল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ কাজে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়াতে পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার, টি-শার্ট, ক্যাপ, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বিতরণ এবং প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও টেলিভিশনে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচার চালানো হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সড়ক নিরাপত্তার বার্তা প্রচারের বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপদ সড়ক ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে অক্টোবর মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরের ১০টি এবং জেলা পর্যায়ে অন্তত চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। এসব কর্মসূচিতে সড়ক পারাপার, ট্রাফিক সংকেত মেনে চলা, ফুটপাত ব্যবহার এবং পথচারী ও চালকদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হবে।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে প্রচারাভিযান, সভা ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ রয়েছে।
বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হবে।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সড়কের অবকাঠামো, যানবাহনের উপযুক্ততা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি নতুন অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।
কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা আজ বাসস’কে জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।
পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসস’কে জানান, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এছাড়া কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।’
আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।
কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।
২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অনিবার্য কারণে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিটে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বাসস’কে নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, "অনিবার্য কারণবশত গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকবে।" তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটকদের আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে।
সাজেক জীপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত আজ সকালে বাসস’কে জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। সেখানে আনুমানিক ২-৩ হাজার পর্যটক রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্কর্টে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা থাকায় গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে রাখা হয়।
পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, যদিও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।
আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্দ্বীপে ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে যে, তামিলনাড়ু উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ বিরাজমান রয়েছে। এই লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এটি ঘণীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া, বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।
আজ সকাল থেকে ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৯ শতাংশ।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বুধবার বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল, যারা গত মৌসুমের রানার্সআপ। ডেক্লান রাইস ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করে দলের জন্য একটি মূল্যবান পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।
বুকায়ো সাকার ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে না পারায় আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এবেরেচি এজে। হ্যারি কেনের অসাধারণ পাস থেকে আলফোনসো ডেভিস গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফিরিয়ে আনে।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেন। কিন্তু ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থ রাইস ম্যাচ শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে গোল করে আর্সেনালকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।
লিগ পর্বে তিন ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট সংখ্যা সাত। বায়ার্নের তুলনায় তারা দুই পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।
বায়ার্ন মাঠে নামতে পারেনি দলের ছন্দে থাকা উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে, জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ এবং মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালাকে ছাড়াই। অসুস্থতার কারণে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন।
দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্সেনালের শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে বারবার আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।
আগামী সপ্তাহে কেনের নিজ শহর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে তার এই পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পায়।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে করা কেনের গোলটি ছিল আর্সেনালের বিপক্ষে ২৩ ম্যাচে তার ১৬তম গোল। এ গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। এই ক্ষেত্রে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড থেকে মাত্র এক ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছেন কেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা ১১টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে রোনালদোর।
ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে কেন বলেন, “গত মৌসুমটি আমার জন্য অসাধারণ ছিল। এ নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ব্যালন ডি’অর জিততে পারলে তা হবে অসাধারণ ব্যাপার। তবে এ বিষয়ে আমার আর কিছু করার নেই। অনেক আগেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন পুরস্কার বিতরণের রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে কী হয়।”
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে এটি ছিল আর্সেনালের দ্বিতীয় পয়েন্ট হারানোর ঘটনা।
ম্যাচের মাত্র আট মিনিটের মাথায় চোটের কারণে বিপাকে পড়ে আর্সেনাল। হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে ডাগআউটের দিকে ইশারা করে পরিবর্তনের সংকেত দেন তিনি।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের আগের দুই প্রতিপক্ষ ছিল নরওয়ের দল। তবে আর্সেনালের শারীরিক শক্তি ও আক্রমণাত্মক খেলার সামনে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন দলটি শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায়। মিকেল আর্তেতার দল তাদের নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে।
ম্যাচের ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ড বায়ার্নের রক্ষণভাগের সামনে দিয়ে একটি সহজ পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান এজে। এরপর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জালে পাঠান।
১০ মিনিট পর কানাডিয়ান উইঙ্গার ডেভিসের সমতাসূচক গোলে সহায়তা করে কেন তার গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করেন।
সমতায় ফিরে বায়ার্ন ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর কাউন্টার অ্যাটাকে কেনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন এজরি কনসা।
বিরতির পর বায়ার্নের গোলরক্ষক নয়্যার ও আর্সেনালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড রায়া একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেন। ব্রুনো গিমারায়েসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান নয়্যার। অন্যদিকে ডায়ো উপামেকানোর প্রচেষ্টা রুখে দেন রায়া।
দুই দলই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালায়। তবে বায়ার্নকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেন। পেনাল্টি এলাকার প্রান্ত থেকে নেওয়া কেনের শট জুরিয়েন টিম্বারের হাতে লাগলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি কেন।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন বায়ার্নের হাতে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেস দারুন এক পাস বাড়ান রাইসের উদ্দেশ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে সমতাসূচক গোল করেন রাইস। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ