ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় দুটি নতুন কূপ খনন, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস


তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে ৫৯২ কোটি টাকায় দুটি নতুন কূপ খনন, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : দেশের অভ্যন্তরীণ বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র তিতাসে দুটি নতুন অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা।

কূপ দুটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।

‘তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ (তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩) খনন’— এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা আজ বাসস’কে জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

আরও পড়ুন: সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সরকারের বড় উদ্যোগ গ্রহণ

আগামী ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: এসএএফএনের সিনিয়র ফেলো হলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বাসস’কে জানান, নতুন দুটি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এছাড়া কূপ দুটি থেকে কনডেনসেটও পাওয়া যাবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘নতুন কূপ দুটির গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যাবে। সরকার নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আরও গ্যাসকূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা কমবে।’

আব্দুল মান্নান বলেন, দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ২০৩১ সাল থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খনন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদনকে আরও শক্তিশালী করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, কূপ দুটি থেকে ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) গ্যাস এবং ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।

আরও পড়ুন: মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে গেলেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

কোম্পানির বর্তমান উৎপাদনস্থলের মূল্য (ওয়েলহেড প্রাইস) অনুযায়ী, উৎপাদিত গ্যাস ও কনডেনসেটের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৩৩৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে গ্যাসের মূল্য ২৮৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং কনডেনসেটের মূল্য ৫৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

অন্যদিকে, ভোক্তা পর্যায়ের গ্যাসের দাম বিবেচনায় নিলে একই সময়ে উৎপাদিত গ্যাসের আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ৬ হাজার ৫২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

বিজিএফসিএল বর্তমানে তাদের ছয়টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে পাঁচটি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের খনন করা ২৮টি কূপের মধ্যে ২৩টি থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়ে চমক দেখাল বাংলাদেশ

২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে সংগৃহীত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার জন্য বিজিএফসিএল চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিএনপিসি) প্রতিষ্ঠান বিজিপি ইনকরপোরেটেডকে নিয়োগ দিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে ১৬টি নতুন কূপ ও সাতটি গভীর কূপ খননের সুপারিশ করে।

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের সরকারি পরিকল্পনার আওতায় তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ কূপ দুটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বিদেশি ঠিকাদারের মাধ্যমে কূপ দুটি খনন, দেশি ও বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ, গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ করা হবে।

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) ২০২৬ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন: এনসিপির নতুন দায়িত্ব পেলেন নাসীরুদ্দীন-পাটোয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এলএনজি আমদানি কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করবে।

২০২৬ সালের ১৮ জুন অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের ৬৩২ কোটি টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা কমিয়ে ৫৯২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা

রাঙ্গামাটি, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : অনিবার্য কারণে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ থাকবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫১ মিনিটে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সাজেক ভ্যালিতে পর্যটন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

বাসস’কে নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, "অনিবার্য কারণবশত গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকবে।" তিনি আরও জানান, রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক পর্যটন কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটকদের আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে হবে।

সাজেক জীপ সমিতির লাইনম্যান ইয়াছিন আরাফাত আজ সকালে বাসস’কে জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ছোট-বড় ও ব্যক্তিগত মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক যানবাহন সাজেকে প্রবেশ করেছিল। সেখানে আনুমানিক ২-৩ হাজার পর্যটক রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্কর্টে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা থাকায় গাড়িগুলো সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে রাখা হয়।

পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় পর্যটকদের সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৯ পি.এম


সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আবহাওয়া অফিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, যদিও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা যেতে পারে।

আজ সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্দ্বীপে ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, তেঁতুলিয়ায় আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে।

আবহাওয়া চিত্রের সংক্ষিপ্তসারে বলা হয়েছে যে, তামিলনাড়ু উপকূলের অদূরে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ বিরাজমান রয়েছে। এই লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় নতুন একটি লঘুচাপ তৈরি হতে পারে। এটি ঘণীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে, এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে এবং তা বিস্তার লাভ করতে পারে।

আজ সকাল থেকে ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।

সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৯ শতাংশ।

ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিটে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বায়ার্নের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করল আর্সেনাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


বায়ার্নের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করল আর্সেনাল

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বুধবার বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্সেনাল, যারা গত মৌসুমের রানার্সআপ। ডেক্লান রাইস ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতাসূচক গোল করে দলের জন্য একটি মূল্যবান পয়েন্ট নিশ্চিত করেন।

বুকায়ো সাকার ইনজুরির কারণে মাঠে নামতে না পারায় আর্সেনালকে এগিয়ে দেন এবেরেচি এজে। হ্যারি কেনের অসাধারণ পাস থেকে আলফোনসো ডেভিস গোল করে বায়ার্নকে সমতায় ফিরিয়ে আনে।

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন কেন। কিন্তু ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সতীর্থ রাইস ম্যাচ শেষ হওয়ার আট মিনিট আগে গোল করে আর্সেনালকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন।

লিগ পর্বে তিন ম্যাচে আর্সেনালের পয়েন্ট সংখ্যা সাত। বায়ার্নের তুলনায় তারা দুই পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে।

বায়ার্ন মাঠে নামতে পারেনি দলের ছন্দে থাকা উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে, জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ এবং মিডফিল্ডার জামাল মুসিয়ালাকে ছাড়াই। অসুস্থতার কারণে কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত ডাগআউটে দায়িত্ব পালন করেন।

দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অনুপস্থিত থাকলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আর্সেনালের শক্তিশালী রক্ষণভাগের বিপক্ষে বারবার আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।

আগামী সপ্তাহে কেনের নিজ শহর লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে তার এই পারফরম্যান্স বিশেষ গুরুত্ব পায়।

দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে করা কেনের গোলটি ছিল আর্সেনালের বিপক্ষে ২৩ ম্যাচে তার ১৬তম গোল। এ গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। এই ক্ষেত্রে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড থেকে মাত্র এক ম্যাচ পিছিয়ে রয়েছেন কেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা ১১টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড রয়েছে রোনালদোর।

ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গে কেন বলেন, “গত মৌসুমটি আমার জন্য অসাধারণ ছিল। এ নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। ব্যালন ডি’অর জিততে পারলে তা হবে অসাধারণ ব্যাপার। তবে এ বিষয়ে আমার আর কিছু করার নেই। অনেক আগেই ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন পুরস্কার বিতরণের রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে কী হয়।”

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে এটি ছিল আর্সেনালের দ্বিতীয় পয়েন্ট হারানোর ঘটনা।

ম্যাচের মাত্র আট মিনিটের মাথায় চোটের কারণে বিপাকে পড়ে আর্সেনাল। হঠাৎ মাটিতে পড়ে গিয়ে ডাগআউটের দিকে ইশারা করে পরিবর্তনের সংকেত দেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বায়ার্নের আগের দুই প্রতিপক্ষ ছিল নরওয়ের দল। তবে আর্সেনালের শারীরিক শক্তি ও আক্রমণাত্মক খেলার সামনে জার্মানির চ্যাম্পিয়ন দলটি শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায়। মিকেল আর্তেতার দল তাদের নিজেদের অর্ধে আটকে রাখে।

ম্যাচের ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ড বায়ার্নের রক্ষণভাগের সামনে দিয়ে একটি সহজ পাস বাড়িয়ে দেন। সেই পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে যান এজে। এরপর বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে জালে পাঠান।

১০ মিনিট পর কানাডিয়ান উইঙ্গার ডেভিসের সমতাসূচক গোলে সহায়তা করে কেন তার গুরুত্ব আবারও প্রমাণ করেন।

সমতায় ফিরে বায়ার্ন ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। কয়েক মিনিট পর কাউন্টার অ্যাটাকে কেনকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন এজরি কনসা।

বিরতির পর বায়ার্নের গোলরক্ষক নয়্যার ও আর্সেনালের স্প্যানিশ গোলরক্ষক ডেভিড রায়া একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেন। ব্রুনো গিমারায়েসের হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান নয়্যার। অন্যদিকে ডায়ো উপামেকানোর প্রচেষ্টা রুখে দেন রায়া।

দুই দলই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চালায়। তবে বায়ার্নকে এগিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন কেন। পেনাল্টি এলাকার প্রান্ত থেকে নেওয়া কেনের শট জুরিয়েন টিম্বারের হাতে লাগলে রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি কেন।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন বায়ার্নের হাতে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেস দারুন এক পাস বাড়ান রাইসের উদ্দেশ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে সমতাসূচক গোল করেন রাইস। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪১ পি.এম


আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস

ঢাকা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে এই দিবসটি দেশজুড়ে উদযাপন করা হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তাকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, চালক, পথচারী এবং সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মানুষের জীবন ও সম্পদের সুরক্ষা, নির্বিঘ্ন যাতায়াত এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সড়ক নিরাপত্তাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পেশাদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা, মাদক পরীক্ষা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও যুবসমাজকে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া সড়কের সাইন-সিগন্যাল ও রোড মার্কিং সংস্কার এবং দক্ষতার ভিত্তিতে পেশাদার চালকদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচার-প্রচারণা ও ম্যারাথন আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ অনুসরণ করে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই স্তম্ভগুলো হলো নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ গতি, নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ক্ষেত্রে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জাতীয় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষামূলকভাবে ১৪০ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কে সেফটি ইমপ্রুভমেন্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং প্রায় ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, পেশাদার মোটরযানচালকদের দক্ষতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চালকদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চালানোর প্রবণতা কমানোর লক্ষ্য এই প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য।

দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও সড়ক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে ৪০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স ও ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আহত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যান চলাচল পর্যবেক্ষণে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগও রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন, ২০২৬’ প্রণয়নের কার্যক্রম এবং একটি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, নীতিগত দিকনির্দেশনা এবং কার্যক্রমের তদারকি জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে স্ট্যান্ডার্ড হেলমেট এনফোর্সমেন্ট গাইডলাইন এবং যানবাহনের গতিসীমা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে স্পিড ম্যানেজমেন্ট ম্যানুয়াল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার, নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা এবং ট্রাফিক আইন অনুসরণের বিষয়গুলো এখানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। চালকের বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, অদক্ষতা, যানবাহনের ত্রুটি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং পথচারীদের অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সড়কের নকশাগত ত্রুটি, পর্যাপ্ত সাইন-সিগন্যালের অভাব, ফুটপাত দখল এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও নিরাপদ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

এ পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগে ধারাবাহিকতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি।

চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সারা বছর ধরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক চিহ্নিতকরণ এবং গৃহীত পদক্ষেপের ফলাফল মূল্যায়ন করতে হবে।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক-শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সবার দায়িত্ব। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, যাত্রীদের চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা থেকে বিরত থাকা, মোটরসাইকেলে চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগ, কার্যকর আইন প্রয়োগ, উন্নত সড়ক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার মাধ্যমে এমন একটি সড়কব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যেখানে মানুষের নিরাপদে চলাচলের অধিকার নিশ্চিত হবে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো পরিবারকে যেন প্রিয়জন হারানোর বেদনা বহন করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনও জোরদার করতে হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%