বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ পি.এম
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি রায়হান তালুকদার (২৮) কে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার বিকেলে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া রায়হান তালুকদার গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রানীসার এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মামলার দায়েরের পর থেকেই রায়হান আত্মগোপনে চলে যান। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে গোসাইরহাট থানা পুলিশের একটি দল ও র্যাব-১০-এর একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাগেরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রানীসার এলাকায় ওই কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় কিশোরী স্থানীয় একটি বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করছিল। ওইদিন সন্ধ্যায় পুকুরঘাটে কাজ করার সময় রায়হান কিশোরীর মুখ চেপে ধরে পাশের একটি পানের বরজে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
পরে কিশোরীকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান তিনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোরীকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ২৫ আগস্ট গোসাইরহাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলার পর থেকেই রায়হান পলাতক ছিলেন।
গোসাইরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, মামলা দায়েরের পর আসামি আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ দল ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোসাইরহাট থানায় নিয়ে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ৬০টি পৌরসভায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তিতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ বরাদ্দ ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা জোরদার প্রকল্প’-এর আওতায় পৌরসভাগুলোর জন্য দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর উন্নয়ন-১ শাখা থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা জোরদার প্রকল্পের জন্য মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর প্রথম কিস্তিতে ৬০টি পৌরসভার ৭১টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।
ছাড় করা এই অর্থ ‘আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রজেক্ট-২য় পর্যায়’-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোতে বিতরণ করা হবে।
বরাদ্দের আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পৌরসভাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, নেত্রকোণা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, পাবনা, আড়াইহাজার, লালমনিরহাট, মেহেরপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, নরসিংদী, গাজীপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, শেরপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাজশাহী, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, নাটোর, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, পঞ্চগড়, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, বরগুনা, কুমিল্লা, ঝালকাঠি, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনুদানের অর্থ শুধুমাত্র প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় করা যাবে। এর মধ্যে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ রোগের চিকিৎসা, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও যোগাযোগ এবং স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পৌরসভার জনসংখ্যা, আয়তন ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিবেচনা করে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে হবে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যয়ের সচিত্র অগ্রগতি প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠাতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার ও হিসাব সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছে, যাতে ভূমি সেবা মাঠ পর্যায়ে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক হয়।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা প্রশাসকদের উচিত তাদের নিজ নিজ জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপন করা এবং এর নিয়মিত ব্যবহার নিশ্চিত করা।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি অফিসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ই-গভর্ন্যান্স চালু করার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে অধিকতর গতিশীল ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, জনসাধারণ যেন নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে ভূমি সেবা পান, সে জন্য ভূমি সেবা প্রদানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে নিয়মিত ও সময়মত উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
এই কারণে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীন দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অবিলম্বে বায়োমেট্রিক ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থাপিত ডিভাইসগুলো নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে চিঠির মূল প্রাপক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সব জেলা প্রশাসককে। একই সঙ্গে বিভাগীয় কমিশনার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সিস্টেম এনালিস্টসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিপত্রটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় এক নারী (১৯) ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, অভিযোগ উঠেছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে গিয়েছিলেন। স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত জসিম মিয়াকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন যখন তিনি ভুক্তভোগীকে সড়কে রেখে পালানোর চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিজয়নগরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বুধন্তি বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। গ্রেপ্তারকৃত জসিম বুধন্তি ইউনিয়নের আলিনগর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় পুলিশ ও জনগণের সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী নোয়াখালীর চাটখিলের বাসিন্দা। তার বিয়ে হয়েছে প্রায় আট মাস আগে নেত্রকোনার এক ব্যক্তির সঙ্গে। বর্তমানে তার স্বামী বিজয়নগর উপজেলার একটি বেকারিতে কাজ করেন।
রোববার, নোয়াখালী থেকে বাসযোগে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে যান ওই তরুণী। পরে তিনি কুমিল্লা-সিলেটগামী একটি বাসে উঠে বিজয়নগরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ওই বাসে অভিযুক্ত জসিমও ছিলেন, যার ফলে তাদের পরিচয় ঘটে।
পরিচয়ের এক পর্যায়ে ওই নারী জসিমকে জানান যে তিনি বিজয়নগরে যাবেন। কিন্তু জসিম তাকে নিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় নামেন। এরপর স্বামীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে জসিম তাকে বিজয়নগর উপজেলার সাতবর্গ এলাকায় মনিহার সিনেমা হলের পূর্বপাশে একটি কারখানায় নিয়ে যান, যেখানে তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন।
পরে, জসিম ওই নারীকে একটি সিএনজিচালিত রিকশায় স্বামীর কাছে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু বুধন্তি এলাকায় পৌঁছালে জসিম তাকে জোরপূর্বক অটোরিকশা থেকে নামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য যাত্রী ও স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয় এবং তারা জসিমকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকজন জসিমকে তাদের হাতে সোপর্দ করে। বিজয়নগর থানার ইসলামপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক মিয়া জানান, ওই নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজয়নগর থানার মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুপুরের দিকে আটক জসিমকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হুথি বাহিনী দাবি করেছে যে, ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
এই দাবি বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া শারি করেছেন।
তবে সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে কোনো তাৎক্ষণিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র জানান, সৌদি যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজতে আসা আরও দুটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের সঙ্গেও তাদের বাহিনীর ‘সংঘর্ষ’ হয়েছে।
ইয়াহিয়া শারি আরও জানান, চলতি সপ্তাহে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের তাইজ, লাহজ, আল-জাওফ, হাজ্জাহ, মারিব, সাদাহ ও আল-বায়দা এলাকায় ৪৫০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।
তিনি দাবি করেছেন যে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছেন।
হুথি মুখপাত্র বলেন, যেকোনো আগ্রাসন বা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেশের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য তারা সব ধরনের উপায়ে লড়াই অব্যাহত রাখবে।
সূত্র: আল জাজিরা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ