ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুদের হার নিয়ে আগের অবস্থানেই জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক


সুদের হার নিয়ে আগের অবস্থানেই জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) তার প্রধান নীতিগত সুদের হার অপরিবর্তিত রেখে ১ শতাংশে বহাল রেখেছে।

গত জুনে ব্যাংকটি সুদের হার ৩১ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার পর এবার তা অপরিবর্তিত রাখা হলো।

একই সঙ্গে, চলতি বছরের জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

শুক্রবার বিওজে এক বিবৃতিতে জানায়, নীতিনির্ধারণী বোর্ডের সদস্যরা আট-এক ভোটে বেঞ্চমার্ক সুদহার ১ শতাংশে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাজারেও এমন সিদ্ধান্তেরই প্রত্যাশা ছিল।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ইয়েনের দর কিছুটা কমে যায়। এর একদিন আগে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর বেড়েছিল। এতে, জাপানি কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে—এমন জল্পনাকে উসকে দেয়।

ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিপরীতে প্রায় চার দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি ইয়েনের দর থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর মুদ্রানীতি আরও কঠোর করার চাপ রয়েছে।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

তবে চলতি অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস আগের ২ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকটি বিবৃতিতে বলেছে, ‘২০২৬ অর্থবছরে জাপানের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চাপ সৃষ্টি করবে। তবে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, সহনশীল আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট চাহিদা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মরক্কো-সেউতা সীমান্তে হাজার হাজার অভিবাসীর ঢল, মারা গেছেন ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


মরক্কো-সেউতা সীমান্তে হাজার হাজার অভিবাসীর ঢল, মারা গেছেন ১৮

 স্পেনের উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত সেউতা ছিটমহলে রাতের বেলায় মরক্কো থেকে হাজার হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছেন।

এ ছিটমহলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মোট ১৮ জনের মৃত্যু ঘটেছে। তবে সীমান্ত অতিক্রম করা কতজন অভিবাসী তা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায়নি।

একটি পুলিশ সূত্র এই তথ্যটি শুক্রবার জানায়।

সূত্রটি জানায়, ‘জনস্রোত সারারাত ধরে চলছিল। দিনে তুলনামূলকভাবে লোকের সংখ্যা কম হলেও রাতে অভিবাসীরা আসতে থাকেন এবং শুক্রবার সকালে তাদের আগমন অব্যাহত রয়েছে।’

মাদ্রিদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি জানিয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত উখিয়ায় রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করলেন

 মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে কক্সবাজারে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

আজ শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রতিনিধি দলে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতও উপস্থিত রয়েছেন।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলটি উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করবে। সেইসাথে সম্প্রসারিত ৮ ওয়েস্ট (৮ডব্লিউ) ও ৬ নম্বর ক্যাম্পও পরিদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আঃ মান্নান জানিয়েছেন, সফরের সময়ে তারা রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রা এবং চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

এছাড়া, বিকেল ৫টায় কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন রয়েছে।

এর আগে, তিন দিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গোর। তিন দিনের সফরের শেষ দিনে শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের মাধ্যমে সার্জিও গোরের বাংলাদেশ সফর শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ার পর্যটন শিল্পে পতন

 রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের দক্ষিণ উপকূলের অবকাশযাপন কেন্দ্র সিমেইজ রয়েছে। এই কেন্দ্রে আইসক্রিম বিক্রেতা আনাতোলির দিনগুলো এখন কঠিন হয়ে উঠেছে। একসময় তার দোকানে প্রতিদিন ৪০০টি আইসক্রিম পর্যন্ত বিক্রি হতো, কিন্তু এই গ্রীষ্মে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলার কারণে পর্যটকের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে।

সিমেইজ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

সিমেইজের বাসিন্দা আনাতোলি এএফপিকে জানান, এ মৌসুমে তাকে লোকসানে পড়তে হয়েছে। বলা যায়, তার ব্যবসার কোনো মৌসুমই নেই।

একসময় প্রতিবছর লাখো রুশ পর্যটকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ক্রিমিয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে উপদ্বীপে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় পর্যটন শিল্প কার্যত ভেঙে পড়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় হোটেল বুকিং ৭০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রেস্তোরাঁ ও সুইমিং পুলগুলোও প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে।

খাতটিকে সহায়তা দিতে রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মীদের তিন মাসের বেতনের সমপরিমাণ এককালীন অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ অর্থ ন্যূনতম মজুরির ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এটিকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

আনাতোলি জানান, আগের ব্যবসার সামান্য অংশ দিয়ে তিনি বর্তমান সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন। আমরা এখনো টিকে আছি, কারণ সবকিছু আগেই প্রস্তুত করা ছিল।

যন্ত্রপাতি, মেরামত, লাইসেন্স ও কর— সব কিছু আগেই পরিশোধ করা ছিল।

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, সারা বছরের রোদ এবং সবুজ জলপাই বাগানের কারণে ক্রিমিয়ার দক্ষিণ উপকূলটি অনেকটা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো। ইউক্রেনের কাছ থেকে কৃষ্ণসাগর তীরের এই উপদ্বীপ ২০১৪ সালে রাশিয়া দখল করে।

সোভিয়েত আমল থেকে রুশ নাগরিকরা ছুটি কাটাতে ক্রিমিয়ায় আসতেন। তাদের অনেকেই ক্রিমিয়াকে নিজেদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিমেইজের একটি বিলাসবহুল হোটেলের কর্তৃপক্ষ বলেন, তারা পর্যটক ফিরিয়ে আনতে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছেন।

হোটেলের এক ব্যবস্থাপক জানান, ‘সপ্তাহের শেষে একটু ভিড় হয়।’

এএফপির প্রতিবেদক দেখেছেন, হোটেলের হাঁটার পথ, রোদ পোহানোর চেয়ার এবং রেস্তোরাঁর খোলা বসার জায়গাগুলো ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুনের শুরু থেকে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলায় এক শিশুসহ এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

এ দিকে ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন হামলার পর সেভাস্তোপোলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তেল ডিপোতে হামলার পর গত মাসে রুশ নিয়োগকৃত কর্তৃপক্ষ জ্বালানি বিক্রিও স্থগিত করেছিল। তবে ঝুঁকি সত্ত্বেও কিছু পর্যটক নিরুৎসাহিত হননি।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, আগের রাতে সিমেইজ থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালায়। এতে ১৭ জন আহত হন।

ইউলিয়া নামের এক পর্যটক পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কের্চ সেতু হয়ে ট্রেনে ক্রিমিয়ায় এসেছেন। রাশিয়া থেকে ক্রিমিয়ায় যাওয়ার এটিই এখন কার্যত একমাত্র পথ। কারণ রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দিয়ে সড়কপথে যাতায়াত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার কারণে খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ‘আমি দুবার ড্রোনের শব্দ শুনেছি। এরপর আর কিছু হয়নি।’

রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চল থেকে সড়কপথে আসা আরেক পর্যটক ভøাদিস্লাভ জানান, পথে জ্বালানি পাওয়া নাও যেতে পারে— এই আশঙ্কায় তিনি পেট্রল ভর্তি জেরিক্যান সঙ্গে এনেছেন।

ইউলিয়ার মতো তিনিও জানিয়েছেন, নিয়মিত ড্রোনের শব্দে তিনি এখন অভ্যস্ত, তাই তিনি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন।

রাশিয়া ইউক্রেনের শহরগুলোতে নিয়মিত কয়েক শত ড্রোন হামলা চালানোর জবাবে ইউক্রেনও প্রায় প্রতি রাতে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত ড্রোন পাঠায়।

ভøাদিস্লাভ বলেন, ‘দেখুন, আমাদের ওপর দিয়েও ওগুলো উড়ে যায়। সকাল সাতটায় ঘুম থেকে ওঠার সময় কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়— সব সময়ই ওগুলো মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায়। তাই কেউই নিরাপদ নয়।

ইউক্রেন বলছে, শান্তি আলোচনায় মস্কোকে চাপ দিতেই এসব হামলা চালানো হচ্ছে।

রুশ সরকার পর্যটন খাতের কর্মী, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুর অপারেটর এবং রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের জন্য এককালীন সহায়তা হিসেবে ৪৩০ কোটির বেশি রুবল (৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এ সহায়তা শুধু পর্যটন খাতের জন্য প্রযোজ্য।

সেভাস্তোপোলের উত্তরের একটি এলাকা থেকে বেড়াতে আসা লিলিয়া বলেন, বেসরকারি খাত এখন সংগ্রাম করছে।

সিমেইজের সৈকতে বসে তিনি এএফপিকে জানান, ‘আমি এমন লোকজনকে চিনি, যারা ড্রাইভিং স্কুল চালান। পেট্রলের উচ্চমূল্যের কারণে তাদের ব্যবসা পুরোপুরি স্থবির হয়ে গেছে। ব্যবসা যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের হামাসের নিরস্ত্রীকরণে চুক্তির ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২২ পি.এম


ট্রাম্পের হামাসের নিরস্ত্রীকরণে চুক্তির ঘোষণা

ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসকে ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ সম্পর্কে একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটিকে গাজার নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বৃহস্পতিবার, ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। এদিকে, হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে হামাসের অস্ত্র সমর্পণ এবং গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

হামাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। পাশাপাশি, উপত্যকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে ইসরাইল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে কায়রোতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে অবগত কয়েকটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছিল, ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ করার বিষয়ে একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আজ বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

তিনি জানান, নিরস্ত্রীকরণের প্রক্রিয়া ‘সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত কয়েকটি ধাপে’ সম্পন্ন হবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী একটি নতুন ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে গাজার বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে।’

এ সময় তিনি মিসর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানান।

ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অগ্রগতির ক্ষেত্রে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ দীর্ঘদিন ধরে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি।

যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার, ইসরাইলি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আল-কাহেরা নিউজ জানিয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারীরা শিগগিরই কায়রোতে একটি বৈঠকে বসবেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং তুরস্ক অংশ নেবে।

বৈঠক কখন হবে তা জানানো হয়নি। তবে বলা হয়েছে, এতে গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হবে। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এ পরিকল্পনার রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।

গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজা থেকে ইসরাইলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনার দায়িত্ব নেবে ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের একটি দল— ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা (এনসিএজি)।

এর আগে এক কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, ‘নিরস্ত্রীকরণ এবং দায়িত্ব ধাপে ধাপে হস্তান্তরের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত পথ তৈরির লক্ষ্যে রোডম্যাপ বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।’

ওই সূত্র জানায়, ‘কোনো নির্দিষ্ট অস্ত্র বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য কোনো কিছু ব্যতিক্রম থাকবে না। এক কর্তৃপক্ষ, এক আইন, এক অস্ত্র।’

সূত্রটি জানায়, এই রোডম্যাপের আওতায় ‘সব সুড়ঙ্গ, অস্ত্রের মজুতকেন্দ্র এবং যেকোনো অস্ত্র উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া’ শুরু করা হবে। সব ধরনের ভারী ও হালকা অস্ত্র এনসিএজির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর সমন্বয় ও সহায়তায় তা পরিচালিত হবে।

এদিকে, শান্তি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক হামাস কর্মকর্তা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের কাছে সম্প্রতি দেওয়া সংশোধনীর বিষয়ে ইসরাইলের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’

তিনি জানান, বোর্ড অব পিসের উপস্থাপিত রোডম্যাপের দুটি ধারায় সংশোধনী চাওয়া হয়েছে।

অস্ত্র সংক্রান্ত ধারার বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘কিছু বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

ইসরাইলের একটি রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইসরাইলের দাবিগুলো ‘সন্তোষজনকভাবে’ পূরণ হয়নি। ইসরাইল হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ দাবি করছে। এর মধ্যে গাজা থেকে অস্ত্র অপসারণ এবং উপত্যকার পূর্ণ সামরিকীকরণ বন্ধ করা যেকোনো প্রক্রিয়ার পূর্বশর্ত।

ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘গাজার বিষয়টি নিয়ে একেবারেই কোনো আলোচনা হয়নি।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%